নাল পিরান
নাল পিরান
কখান নাল পিরান কিন্না দিবেন, বাপজান?' আকাশের অনেক দিনের শখ একখানা লাল পিরান পরবে। তাই বাবার কাছে তার এই করুণ আকুতি। আকাশের বাবা করিম শেখ। গরিব কৃষক। দুবেলা দু'মুঠো খেতে পায় না, লাল, পিরান কোথায় পাবে। কিন্তু আকাশের মাথা থেকে লাল পিরানের চিন্তা যায় না। বারবার বাবার কানের কাছে বলতে থাকে, “বাপজান, একখান নাল পিরান কিন্না দিবেন, দিবেন, বাপজান?' করিম শেখ আছে আরেক চিন্তায়। গতবছর মহাজনের কাছ থেকে ধান লাগাবার জন্যে চড়া সুদে টাকা ধার করে সে। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই মহাজনের টাকা ফেরত দিতে হবে । চিন্তায় কূল-কিনারা পায় না করিম শেখ। আবার আকাশ তার বাবাকে বলে, 'বাপজান, নাল পিরান।' এবারে রেগে যায় করিম শেখ। ঠাস করে চড় বসিয়ে দেয় আকাশের তুলতুলে গালে। চমকে কেঁদে ওঠে আকাশ। আকাশের কান্না শুনে ছুটে আসে দাদী। আকাশের দাদী করিম শেখের উপর রাগ করতে থাকে। মা মরা পোলাডার লাই
তর দরদ লাগে না? মায়ের কথায় সংবিৎ ফিরে পায় করিম শেখ। মা মরা ছেলেটার গায়ে হাত তোলায় তার খারাপ লাগে। কী করবে, মহাজনের চড়া সুদের টাকা পরিশোধ করতেই তার সব টাকা শেষ হয়ে যায়। কী করে সে ছেলেকে লাল পিরান কিনে দেবে? সে ভাবে, এবারের আমন ধান উঠলে ধান বেচে ছেলেকে লাল পিরান কিনে দেবে। এভাবেই দিন যায়। অনেক কষ্টে মহাজনের ঋণ শোধ করে আবার ঋণ নেয় করিম শেখ। এবারের টাকা দিয়ে আমন ধান লাগাবে আর ধান বেচা টাকা দিয়ে লাল পিরান কিনে দেবে আকাশকে। দিনে দিনে আকাশের লাল পিরান পরার শখ আরও মাথা চাড়া দেয়। সে দেখে একটা টুকটুকে লাল পিরান পরে সে সারা গ্রাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর সবাই তাকে দেখছে।
এদিকে আমন ধান লাগাবার সময় আসে। করিম শেখ ধান লাগায়। ধানের চারা বাড়ে আর সাথে বাড়ে আকাশের লাল পিরান পরার ইচ্ছাও। ভয়ে ভয়ে আকাশ আবার তার বাবাকে বলে, 'বাপজান, নान পিরান কিন্না দিবেন না?' এবারে আর রাগে না করিম শেখ। কথা দেয়, দেবে। বাবার কথা শুনে খুশিতে রাতে ঘুম হয় না আকাশের। চিন্তা করতে থাকে কবে ধান বড় হবে আর তার বাবা ধান বিক্রি করে তাকে লাল পিরান কিনে দেবে। কিন্তু হঠাৎ করে তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। আকাশ ফেটে বৃষ্টি । একটানা সাত দিন বৃষ্টি পড়ে। করিম শেখের সব ধান পানিতে তলিয়ে যায়। করিম শেখ অসহায় হয়ে পড়ে। আর আকাশের নাল পিরান পরবার স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থেকে যায়।


কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন