Header Ads

Header ADS

রানী তোমানের মূর্তি

 রানী তোমানের মূর্তি 

সূর্যটা প্রায় পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়েছে। সূর্য অস্ত-যাওয়ার এই দৃশ্যটা প্রতিদিন মুগ্ধ হয়ে দেখে লিণ্ডা, আর দেখে, সরাইখানার বাইরের উঠানে রাখা রানি তোমানের মূর্তিটাকে । টেক্সাস শহরের অনেকটা বাইরে ক্রিস আর লিঙার অনেক কষ্টে তৈরি-করা সরাইখানা 'লিণ্ডাস লজ'। লিণ্ডার স্বামী ক্রিসের বয়স প্রায় ৭৫-এর কাছাকাছি আর লিণ্ডার বয়স ৬৮। কোনও ছেলেমেয়ে নেই ওদের। দীর্ঘদিন ধরে এই সরাইখানা চালাচ্ছে ওরা স্বামী-স্ত্রী মিলে। সুখাদ্য আর অমায়িক ব্যবহারের জন্য হাইওয়ের যাত্রীরা কিছুটা ঘুরে হলেও ওদের সরাইখানায় আসে খেতে আর বিশ্রাম নিতে। বিয়ের পর থেকেই লিঙা বাইরের উঠানের রানি তোমানের মূর্তিটাকে দেখে আসছে। প্রায় ৭ ফুট উঁচু মূর্তিটা সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে হাতে এক ভয়ঙ্কর দর্শন ছোরা নিয়ে। মাথায় ময়ূরের পালকের তৈরি মুকুট। কানে বেশ বড় ঝিনুকের তৈরি দুল । পায়ের কাছে জিভ বের করে দাঁড়িয়ে আছে ভয়ঙ্কর দর্শন এক জংলি কুকুর, যেন এক্ষুণি অদৃশ্য কোনও শিকারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে ওটা। বিয়ের পর প্রথম-প্রথম মূর্তিটাকে দেখে বেশ ভয় পেত লিণ্ডা, কিন্তু এখন আর পায় না। ক্রিসের কাছে রানি তোমানের মূর্তিটার ইতিহাস শুনেছে লিণ্ডা। ক্রিসের দাদার দাদা, রেমণ্ড, অনেক আগে জঙ্গলে ঘেরা রেড-ইণ্ডিয়ানদের একটা গ্রামে গিয়েছিলেন শিকার করতে । সৌভাগ্যক্রমে রেড-ইণ্ডিয়ান সর্দারের একমাত্র মেয়েকে তিনি উদ্ধার করেন এক

বন্য শূকরের কবল থেকে। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সর্দার রেমণ্ডকে রানি তোমানের এই মূর্তিটা উপহার হিসেবে দেয়। রানি তোমান রেডইণ্ডিয়ানদের অনেক পুরোনো এক দেবী। ইণ্ডিয়ানদের বিশ্বাস, যুগে-যুগে তাদের উপর যত বিপদ এসেছে, তার মোকাবেলা করে তাদেরকে নিরাপত্তা দেয় রানি তোমান । তোমানকে তাই তারা ডাকে নিরাপত্তার দেবী বলে। রেড-ইণ্ডিয়ান সর্দার রেমণ্ডকে একটা কথা বলে দিয়েছিল, 'কখনও অসম্মান কোরো না দেবীর, দেখো, বিপদে ঠিক তিনি তোমার পাশে এসে দাঁড়াবেন।'

সেই থেকে আজ পর্যন্ত রেমণ্ডের বংশধররা দেবী তোমানের মূর্তিটা সযত্নে সংরক্ষণ করে আসছে। লিখা জানে, ব্যাপারটা কুসংস্কার ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু কিছু বলেনি ক্রিসকে। থাক না, যে যার বিশ্বাস নিয়ে।

রাত প্রায় বারোটা। এখন আর কাস্টোমার আসবে না বললেই চলে। লিখা রান্নাঘরের সিঙ্কে এঁটো বাসন মাজছে। ক্রিস ক্যাশের হিসাব-নিকাশ নিয়ে ব্যস্ত। হঠাৎ দরজা খুলে তিনজন মুখোশপরা লোক হুড়মুড় করে ভিতরে এসে ঢুকল। একজন দৌড়ে রান্নাঘরে ঢুকে পড়ল, তারপর লিখার মুখ চেপে ধরে টানতে টানতে নিয়ে এল। অন্য একজন ক্রিসের মাথা বরাবর একটা শটগান চেপে ধরল। তারপর ফিসফিস করে ক্রিসের কানে কানে বলল, “জলদি, ক্যাশে যা আছে, চটপট বের করো, বেশি সময় নেই। না হলে বুড়িটার বুক ঝাঁঝরা করে ফেলব।' ততক্ষণে লিপ্তাকে যে ধরেছিল, তার হাতে বের হয়ে এল একটা ছোট পিস্তল। লিতার মাথার উপর পিস্তলটা ধরে কুৎসিত দাঁত বের করে হাসতে লাগল সে। শটগানধারী তৃতীয়জনকে উদ্দেশ করে

বলল, 'পল, সামনে রাখা সিন্দুকটার তালা ভেঙে ফেলো, তাড়াতাড়ি ।

ছটফট করে উঠল ক্রিস। ওই সিন্দুকে তাদের সারাজীবনের সঞ্চয়। শটগানধারীকে অনুরোধ করল, বারবার মিনতি করল কিন্তু কোনও কাজ হলো না। বরং শটগানের বাঁটের এক বাড়ি খেয়ে ক্যাশের উপর ছিটকে পড়ল সে।

সিন্দুকটা খোলার অনেক চেষ্টা করল পল, কিন্তু পারল না। শটগানধারীর দিকে ফিরে বলল, 'জ্যাক, কাজ হচ্ছে না, বুড়োটার কাছে আনলক কোড জিজ্ঞেস করো।'

ক্রিসের কলার চেপে টেনে তুলল জ্যাক । 'কোড বল, বুড়ো, না হলে বুড়ি খতম।' ক্রিস কিছু বলল না, শুধু নিজেকে ছাড়ানোর প্রাণপণ চেষ্টা করতে লাগল ।

জ্যাক ক্রিসের গালে জোরে একটা চড় মারল। আবার ছিটকে পড়ল ক্রিস। তারপর লিণ্ডাকে যে ধরেছিল, তার উদ্দেশে বলল, “কেভিন, বুড়িটার মাথায় দুই রাউণ্ড গুলি ঢুকিয়ে দে।'

'নাহ,' চিৎকার করে উঠল ক্রিস, 'আমি বলছি। সিন্দুকের কোড হলো ২৩৯৭...'

শেষ করতে পারল না ক্রিস, তার আগেই কোথা থেকে যেন এক বিশাল জংলি কুকুর এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল পলের গায়ের উপর। চিৎকার করারও সময় পেল না পল, তার আগেই তার টুটি চেপে ধরল কুকুরটা। একটানে ছিড়ে ফেলল পলের কণ্ঠনালী। মেঝেতে পড়ে কয়েক সেকেণ্ড ছটফট করল পল। তারপর একেবারে নিথর হয়ে পড়ে থাকল ।

চোখের সামনে এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠল জ্যাক। শটগানটা ক্রিসের মাথার উপর ধরল আবার, কিন্তু গুলি করতে পারল না। তার আগেই ক্যাশ টেবিলের উপর মুখ থুবড়ে পড়ল সে। ক্রিস অবাক হয়ে

দেখল, জ্যাকের গলা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। কেউ যেন অত্যন্ত নিপুণভাবে, ধীরে-সুস্থে জ্যাকের গলার একপাশ থেকে অন্যপাশে ধারালো একটা ছুরির ফলা বুলিয়ে দিয়েছে।


এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে ভয়ে চিৎকার করে উঠল লিণ্ডা। দ্রুত ঘুরে দাঁড়াল ক্রিস, কিন্তু পিছনে কেউ নেই। তা হলে? কে হত্যা করল শটগানধারীকে?


ততক্ষণে লিণ্ডাকে ছেড়ে দিয়েছে কেভিন।


'কে?' চিৎকার করে উঠল সে। ঘরের চারদিকে কয়েক রাউণ্ড গুলি করল। বোঝাই যাচ্ছে ভয় পেয়েছে। ঘনঘন শ্বাস নিচ্ছে, দরদর করে ঘামছে। পিস্তল ধরা হাতটা খুব জোরে কাঁপছে তার । আস্তে-আস্তে পিছু হটতে লাগল কেভিন। উদ্দেশ্য পরিষ্কার, কোনভাবে দরজা পর্যন্ত যেতে পারলেই কোনও একদিকে ছুট লাগাবে। হঠাৎ কেভিনের পিছনে এসে দাঁড়াল এক রেড-ইণ্ডিয়ান যুবতী। অবাক হয়ে তার দিকে কাল ক্রিস। খুব চেনা মনে হলো যুবতীর মুখখানা। কিন্তু কোনভাবেই চিনতে পারল না, মেয়েটা কে! হঠাৎ একটা ভয়ঙ্করদর্শন ছুরি উঠে এল যুবতীর হাতে। বামহাত দিয়ে পেঁচিয়ে ধরল কেভিনকে। মরণভয়ে চিৎকার করে উঠল কেভিন। ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে লাগল। কিন্তু, যুবতীর হাত যেন শক্ত পাথরে গড়া। একটুও নড়ল না তার হাত। ডানহাতে ধরা ছোরাটা কেভিনের গলার বামদিকে চেপে ধরল। তারপর খুব ধীরে বামদিক থেকে ডানদিকে ঘুরিয়ে আনল ছোরাটা। ফিনকি দিয়ে টকটকে লাল রক্ত বেরিয়ে এল কেভিনের গলা দিয়ে। চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল কেভিনের। আস্তে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল কেভিন। রক্তে ভেসে গেল সরাইখানার মেঝে।


বীভৎস এ দৃশ্য দেখে আতঙ্কে চিৎকার

করে উঠল লিখা। ক্রিস যেন কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে । মেয়েটা ক্রিসের দিকে চেয়ে সামান্য মাথা ঝোঁকাল। তারপর একে একে তিনটে লাশ নিয়ে টানতে টানতে দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল। যাওয়ার সময় হালকা একটা শিস দিল। লাফ দিয়ে কুকুরটা উঠে দাঁড়ान, তারপর পিছু নিল রহস্যময়ী রেড-ইণ্ডিয়ান যুবতীর।

নিজেকে সামলে নিতে কিছুটা সময় নিল ক্রিস। তারপর ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরল লিখাকে। 'কে, কে ওটা?' ভীত গলায় প্রশ্ন করল

লিঙ্গা। “আমি জানি না, তবে... অনিশ্চিত গলায় বলল ক্রিস।

"তবে কী, বলো?”

'না, কিছু না,' একইভাবে অনিশ্চিত গলায় বলল ক্রিস।

সেরাতে আর ঘুম হলো না ক্রিস আর লিতার। সরাইখানার ভিতর রক্তে মাখামাখি। পরিষ্কার করতে-করতে ভোর হয়ে গেল। পূর্ব আকাশে তখন কেবল হালকা লালচে আভা ফুটে উঠেছে। এককাপ কফি হাতে ক্রিস সরাইখানার বাইরে বের হয়ে এল। নরম-ঠাণ্ডা একঝলক বাতাস বয়ে গেল ক্রিসের উপর দিয়ে। রানি তোমানের মূর্তি তার জায়গায় নীরবে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু, কিন্তু কী যেন একটা অসামঞ্জস্যতা চোখে পড়ল ক্রিসের। মূর্তিটার দিকে এগিয়ে গেল সে। হ্যাঁ, এবার বুঝতে পারল ক্রিস, কুকুরটা আগে ছিল রানির বামদিকে, এখন কীভাবে যেন ডানদিকে চলে এসেছে! আর রানির ছুরিটা! চুরিটার কিছু অংশ লালচে হয়ে আছে। রক্ত!!!

গত রাতের সাহায্যকারী রেড-ইণ্ডিয়ান

যুবতীর কথা মনে পড়ে গেল ক্রিসের। এখন

বুঝতে পারল, কেন এত চেনা চেনা লাগছিল

মেয়েটাকে।


কোন মন্তব্য নেই

  [ছেলোদের পরীক্ষা হবে কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের ২য় তলায়, তারিখ- ৯ই ডিসেম্বর সকাল ৯টা এবং মেয়েদের পরীক্ষা মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ এর প...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.