ম্যাজিকের রহস্য
প্রদর্শন ভঙ্গী ও উপস্থাপনা (Showmanship and Presentation)
প্রবেশ- জাদুকর তাঁর পোশাক পরিচ্ছদে, চলন, বলনে, ভাবভঙ্গীতে ফিটফাট্ হবেন । তার কথাবার্তা ও ভাব ভঙ্গীতে এমন ভাব ফুটে উঠবে যেন তিনি খুবই চতুর ও বুদ্ধিমান ।
তিনি ধীর গম্ভীর ও মুখে হাসি হাসি ভাব নিয়ে মঞ্চে বা প্রদর্শনী স্থলে। প্রবেশ করবেন । প্রথম শিক্ষার্থীগন প্রথম মঞ্চে প্রবেশের সময়ে মনের ভাবটি ভীতিশূন্য করার জন্য চেষ্টিত হবেন । তা' করতে হলে- থার্সটনের উপদেশ মতো বলছি-প্রবেশের আগে পুনঃ পূনঃ দীর্ঘ করে কয়েকবার শ্বাস গ্রহন ও ধীরে ধীরে তা ত্যাগ করুন-পায়চারি করুন এবং মাঝে মাঝে সামান্য লাফ দিন। হাত-পা বারে বারে ঝাঁকি দিন। তা'তে প্রভূত পরিমানে অক্সিজেন শরীরে প্রবেশ করে অতিরিক্ত শক্তি যোগাবে । মঞ্চভীতি (stage Fright) দূর করতে হলে এই প্রক্রিয়া করতেই হবে । উপরন্তু প্রদর্শনীর খেলাগুলি ভালভাবে অভ্যাস থাকলে মঞ্চভীতি অনেকটা দূর হয়। মঞ্চে প্রবেশ করেই সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে দর্শকবৃন্দকে একটু অধিক হাসিমুখে অভিভাদন জানান তারপর খেলা আরম্ভ করবেন । ঠিক এই সময়ে আলোর তীব্রতা বাড়াতে হবে। কথা বলার আগে দীর্ঘশ্বাস টেনে নিয়ে তবে কথা বলুন । এই অভ্যাস মজ্জাগত করে ফেলুন ।
পোশাক - পোশাক রুচি সম্পন্ন হওয়া চাই। ঘরোয়া বৈঠকে চলন সই পোশাক হলেই চলে; কিন্তু আনুষ্ঠানিক ভাবে মঞ্চে জাদু প্রদর্শন কালে বেশভুষা ও রূপ সজ্জার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে । মনে রাখতে হবে বড় মঞ্চে জমকালো পোশাকই দর্শকগন আশা করে থাকেন।
আসবাব - পুস্তকের খেলা গুলিতে বিশেষ রকমের আসবার ব্যবহারের প্রয়োজন দেখি না তবুও বড় অনুষ্ঠানে ও বড় রঙ্গমঞ্চের
প্রদর্শনীতে পোশাকের মত টেবিল, টেবিল ঢাকনা ইত্যাদি জমকালো হওয়া চাই। মঞ্চের ঠিক মাঝখানে একটি চৌকা টেবিল ও তার উভয় পার্শ্বে একটু সামনের দিকে দু'টো ছোট টিপয় বা গোল টেবিল মঞ্চ প্রদর্শনীতে বিশেষ প্রয়োজন। রুচি সম্মত আসবাব ফিটফাট, রঙচঙে ও ঝকে হলে দর্শকগন খুশী হন ।
আলোক নিয়ন্ত্রন- আলোক নিয়ন্ত্রনের উপর প্রদর্শনীর শতকরা পচাঁত্তর ভাগ কৃতকার্যতা নির্ভর করে । দিবালোকে অশরীরী মুদ্রা খেলাটি ৭/৮ ফুট দূর হতে দেখান উচিত। রাত্রিতে বা দিবালোকে আলো জ্বেলে খেলা দেখালে আলো পেছনে রাখবেন না- তাতে অনেক খেলাই নষ্ট হতে পারে। প্রথমতঃ মঞ্চে আলো অল্পই থাকবে জাদুকর মঞ্চে প্রবেশ করার সাথে সাথে আরো আলো জ্বলে উঠবে । ভিন্ন ভিন্ন খেলার সময় আলোর রঙ পরিবর্তন করা যেতে পারে তাতে একঘেয়েমী কিছুটা দুর হয়।
সময় জাদুকর নির্ধারিত সময়ে প্রদর্শনী আরম্ভ করবেন। তারজন্য খেলা আরম্ভ করার অন্ততঃ ১ ঘন্টা আগে থেকেই তাকে পূর্নভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে । যথা সময়ে প্রদর্শনী আরম্ভ না করলে দর্শকগন উৎকণ্ঠিত, চঞ্চল ও বিরক্ত হন ও জাদুকরের প্রতি ক্ষুব্ধ হন । ফলে ভালো জাদুকরও প্রদর্শনীতে বিফল মনোরথ হন ।
অঙ্গভঙ্গী — অঙ্গভঙ্গী সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক হবে । অভিজ্ঞ জাদুকরগনের প্রদর্শনীতে উপস্থিত থেকে এবং টেলিভিশনে বিখ্যাত জাদুকরগনের প্রদর্শনী দেখে এই বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান লাভ করা সম্ভব।
প্রতিটি খেলাতে না হলেও অন্ততঃ বিশেষ বিশেষ খেলাতে দর্শকগণ যা'তে হাত তালি দেন তেমন আমোদ জনক পরিবেশ সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টি রাখতে হবে । দর্শকদের হাত তালি শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থির ভাবে দাঁড়িয়ে তা'র প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। ( বিদ্রুপাত্মক হাত তালিতে ও একইরকম করা ভালো)। শরীর সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকে
অভিবাদনের ভঙ্গীতে দাঁড়াবেন। বিশেষ কোন অসুবিধা না হলে কখনো দর্শকদের দিকে পিছন ফিরে টেবিলের দিকে যাবেন না। সকল দর্শক যাতে আপনাকে দেখতে পান, আপনার কথা শুনতে পান এবং কথা বুঝতে পারেন তার জন্য আপ্রান চেষ্টা করুন ।
বিভ্রান্তি – দর্শকগণের মনে বিভ্রান্তি (Misdirection) সৃষ্টি করতে হলে নানা রকম সরস কথাবার্তা খেলার সাথে বলতে হবে। যাতে কোন গোপনকাজ করার সময় হাতের দিকে দর্শকগণ তাকাবার সুযোগ না পান সেজন্য জাদুকর নানা পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করেন। যেমন টেবিলে রাখা জাদুদণ্ড হাতে নিতে গিয়ে বাম হাতে কোন দ্রব্য নিয়ে উঁচু করে করেন ও তিনি ঐ ছাতের দিকে তাকান দর্শকগণ তখন জাদুকরকে অনুসরণ করেন অনুকরন প্রবৃত্তির বশীভূত হয়ে। এই অবসরে জাদুকর ডান হাতের লুকানো দ্রব্য টেবিলে রেখে আসেন। দর্শকগণের দৃষ্টি অনুসরণ করে তাদের মনও অন্যত্র চলে যায়। এই বিভ্রান্তি নানাভাবে উৎপাদন করা যেতে পারে। পুস্তকের বিভিন্ন স্থানে তা' উল্লেখ করা হয়েছে।
বাচন - খেলার সাথে জাদুকর যে কথাবার্তা বা গল্প বলেন তাকেই বাচন বা ইংরেজীতে Parter বলা হয়। বাচনের তিনটি উদ্দেশ্য- খেলার অব্যক্ত অংশকে ব্যক্ত করা, বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও হাস্য কৌতুক উৎপাদনে সাহায্য করা । প্রতিটি খেলার সময় উপযুক্ত কথা বা গল্প বলা প্রয়োজন। আগে থেকেই এই গল্প বা কথাবার্তা লিখে নিয়ে মুখস্থ করে নিতে হবে ও বাড়ীতে খেলা অভ্যাস করার সময় তা' নিজে নিজে বলে বলে তবে অভ্যাস করতে হবে। রঙ্গমঞ্চে এমন ভাবে ধীরে ধীরে ও স্পষ্ট উচ্চারণে অপেক্ষাকৃত উঁচু স্বরে কথা বলতে হবে যেন প্রত্যেক দর্শক শ্রোতাই আপনার কথা শুনতে ও বুঝতে পারেন । বাচন দীর্ঘ হওয়া বিরক্তির কারণ।
অভিনয় জ্ঞান - বস্তুতঃ জাদুকরকে প্রকৃত জাদুকরের ভূমিকায় অভিনয় করে যেতে হয়। তাকে পরিস্ফুট করে তুলতে হলে মাঝে মাঝে মাঝে
মন্ত্রোচ্চারণ, জাদুদণ্ড ও সেই সাথে হাত বুলানো প্রয়োজন হয়। এছাড়াও মুখভঙ্গী পরিবর্তন করতে হয়। যখন খুব আশ্চর্যজনক কিছু ঘটে যায় তখন আপনার মুখভঙ্গীও আশ্চর্য হওয়ার মত হওয়া চাই এবং তা' যত স্বাভাবিক হবে ততই ভালো। সাধারণ অভিনেতার সাথে জাদুকরের কিছু প্রভেদ আছে। মঞ্চাভিনেতা মঞ্চেই কেবল অভিনেতা বাইরে তিনি সাধারণ মানুষ। জাদুকর কিন্তু মঞ্চে ও সাধারণ জীবনেও সবার কাছেই জাদুকর। সব ক্ষেত্রেই তাকে জাদুকর হয়ে উঠতে হয়।
পর্দা - সামনে ও পিছনে গাঢ় রঙের দুটি পর্দা ব্যবহার করতে হবে । সামনের পর্দা ফেলে দিয়ে মঞ্চের উপর টেবিল রেখে প্রদর্শনী তালিকার শেষ খেলাটি প্রথমে এবং পর পর প্রথম খেলাটি সবশেষে সাজিয়ে রাখতে হবে । তারপর প্রদর্শনী আরম্ভ করতে পর্দা সরিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করতে হবে । (মায়ালোকের নির্ধারিত শিক্ষনীয় কোর্সে আরো ব্যাপক ভিত্তিক অথচ সংক্ষেপে অনুসরণ যোগ্য উপদেশ দেওয়া হয়েছে।)
জাদুকাঠি – আজকাল মঞ্চে টেবিল এবং হাতে জাদুকাটি ব্যবহারের প্রচলন উঠে যেতে বসেছে। পাঠকগণ সম্ভব ক্ষেত্রে এ পরিবর্তন মেনে নিতেও পারেন । তবু জাদুকাঠির ব্যবহার বিভিন্ন ক্ষেত্রেই জাদুকরদের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে এখানে তার বর্ণনা দেওয়া হোল । মধ্যমা আঙ্গুলের মত মোটা গোল জাদুকাঠিটি হাল্কা কাঠ দিয়ে তৈরী করাতে হবে । দু'প্রান্ত দেড় ইঞ্চি পরিমাণ স্থান সাদা ও বাকী অংশ কালো রং করে নিতে হবে । জাদুকাঠি দৈর্ঘ্য ১১ হতে ১৩ ইঞ্চি হতে পারে। বইয়ের বিভিন্ন স্থানে এর কার্যকারীতা বর্ণনা করা হয়েছে ।
মঞ্চ - বড় বড় জাদুপ্রদর্শনী বড় বড় রঙ্গমঞ্চেই হয়। ছোট ছোট প্রদর্শনীতে হলের একদিকে একহাত পরিমান উঁচু মঞ্চ চৌকি পেতে তৈরী করাতে হবে । মঞ্চের তিন দিক ঢাকা ও মাত্র সামনের দিক খোলা । দর্শকগণ সামনে বসে খেলা দেখবেন । মঞ্চ উঁচু হলে পিছনের দর্শকগণের দেখার পক্ষে সুবিধা হয়। বইয়ের অধিকাংশ খেলা ছোট মঞ্চের উপযোগী । বড় মঞ্চের খেলা বই এর শেষের দিকে সন্নিবেশিত হয়েছে।
অভ্যাস - অতিশয় সহজ খেলাটিকেও বাড়ীতে কমপক্ষে সাতবার ভালোভাবে বাচন (patter) সহ অভ্যাস করে তবে খেলা দেখাবেন । অভ্যাস খুব গোপনে করবেন । ভালোভাবে অভ্যাস না করে খেলা দেখালে সহজ পটুত্বের অভাব ঘটে। খেলা নষ্ট হয় তাতে জাদুকর দর্শকদের কাছে উপহাসের পাত্র হয়ে পড়েন ।
সহকারী এই বইয়ের অধিকাংশ খেলাই জাদুকর এককভাবেই দেখাতে পারবেন । তবু যদি সহকারী গ্রহণের প্রয়োজন অনুভব করেন তবে আত্মীয় বন্ধুদের ভিতর হতে বিশ্বাসী একজনকে বেছে নিবেন- যিনি খুবই কর্মপটু হবেন । কেননা সহকারী জাদুকরের প্রান বিশেষ।
উপদেশ - বইয়ের স্থানে স্থানে উপযুক্ত নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেগুनি স্মরণ রেখে খেলাগুলি ভালোভাবে অভ্যাস করবেন । ভুলেও একটি খেলা একই স্থানে পর পর দেখাবেন না। দর্শকের শত অনুরোধেও নয় । কেননা দর্শক প্রথম বারেই বিখিত হন এবং দ্বিতীয়বারে খেলার কৌশল জানবার জন্য কৌতূহলী হন ফলে জাদুকরের কার্যাবলীর গোপন অংশ তার মনে ও চোখে ধরা পড়ে । যদি দেখাতেই হয় তবে এমন খেলা দেখাবেন যে খেলার পূর্বের খেলার প্রথম অংশের সাথে মিল থাকে; কিন্তু খেলার কৌশল ও তার শেষ পরিণতি প্রথম খেলা হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন । প্রদর্শনীর খেলার একটি তালিকা আগেই তৈরী করে নেবেন । তালিকাতে প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্রের তালিকাও থাকবে এবং সেই অনুযায়ী যাবতীয় আসবাব ও জিনিষ পত্র সাথে নিতে ভুলবেন না । জানবেন সামান্য একটি পিনের অভাবে আপনার একটি বড় খেলা নাও দেখাতে পারেন।
দর্শকদের সাথে খুব ভদ্র ব্যবহার করবেন ও হাসি মুখে কথা বলবেন । পৃথিবী বিখ্যাত জাদুকর হাওয়ার্ড থার্সটন সাহেব বলেছিলেন-তাঁর জনপ্রিয়তা ও উন্নতির প্রধান কারণ তিনি দর্শকদেরকে মনে প্রাণে ভালোবাসতেন।
জাদু শিক্ষার্থী হিসাবে আপনার জাদু শিক্ষককে তাঁর জীবনকাল ব্যাপী উপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা দিতে ভুলবেন না । তাঁর সাথে সর্বদা ভালো সম্পর্ক রাখবেন। অবশ্যই তিনি সর্বদা আপনার সহযোগীতা, আপনার উন্নতি কামনা করবেন। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পক্ষে কোন বিশিষ্ট জাদুকর সমিতির সভ্য হওয়া বাঞ্ছনীয় ।
নিজের জানা খেলা কোন জাদুকর প্রদর্শন করলে সাধারণতঃ প্রদর্শনী স্থানে নানা ভুল ত্রুটি ধরবার ইচ্ছা জাগা স্বাভাবিক; কিন্তু এই অনভিপ্রেত বাসনাটি প্রাণপন শক্তিতে মন থেকে নির্বাসিত করতে হবে। কেন না প্রদর্শনী স্থল সমালোচনার উপযুক্ত স্থান নয়। যদি কিছু শিখবার থাকে তবে শিখে নিন; যদি তাঁর প্রদর্শনীতে কোন ত্রুটি থাকে প্রদর্শনীর পরে গোপনে সাক্ষাৎ করে তাঁর ত্রুটি সম্বন্ধে খুবই নম্রভাবে তাঁকে অবহিত করবেন। কেননা নিজের ত্রুটি নিজে ধরা সহজ নয়। যদি কোন জাদুকর আপনার ত্রুটি সম্বন্ধে প্রদর্শনী শেষে আলোচনা করতে চান তবে অবশ্য তাকে সে সময়টুকু সম্মানের সাথে দিতে কার্পন্য করবেন না । সত্য বা মিথ্যা যাই হোক তার বক্তব্যকে অবশ্যই শ্রদ্ধার সাথে প্রাধান্য দেবেন। আমার নিজের বহু বাস্থব অভিজ্ঞতা আছে এই বিষয়ে । সমালোচনা কারী আপনার স্থায়ী বন্ধু হয়ে থাকবেন আপনার সদাচরনে । প্রকৃত শিক্ষার অভাবে বহু জাদুকর নিজেদের এই প্রকাশ্য সমালোচনার মোহ ত্যাগ করতে পারেননি। এটা বড়ই দুঃখের বিষয়। বিশেষভাবে মনে রাখবেন জাদুকর মাত্রেই আপনার ভাই । সর্বদা আত্ম সমালোচক হবেন। প্রদর্শনী শেষে নিজের দোষ ত্রুটি নিজে সমালোচনা করবেন। এবং পরবর্তী প্রদর্শনীতে সে ত্রুটি সংশোধন করবেন । অপর জাদুকরকে নিন্দা করবেন না বরং প্রকাশ্যে প্রশংসা করবেন । নিন্দার যোগ্য হলেও অপর পক্ষের আমন্ত্রণ ব্যতীত সমালোচনা না করাই ভালো । নিজের প্রদর্শনীর দোষ ত্রুটি বিশ্বস্ত জাদুকরের নিকট হতে অবশ্যই জেনে নেবেন। বড় বড় জাদুকরগণের জীবনী পাঠ ও আলোচনা - সকলেরই একান্ত কর্তব্য।
প্রদর্শন তালিকাঃ একটি পূর্নাঙ্গ জাদু প্রদর্শনী ২ ঘন্টা থেকে আড়াই ঘন্টা কাল স্থায়ী হয় এবং মাঝে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিশ্রাম তাকে । এই রকম প্রদর্শনীতে ২৫ থেকে ৩০টি ছোট বড় খেলা দেখাতে হয় । দর্শকদের একঘেয়েমী দূর করতে হলে পোষাক, দৃশ্য পট, আবহ সঙ্গীত, বাচনভঙ্গী, হাস্য কৌতুক, দর্শকের মঞ্চে সহযোগিতা ও তাদেরকে সু-সম্ভাসনে তৃপ্ত করতে হবে । খেলাগুলি এমনভাবে পর পর সাজাতে হবে যা'তে পরের খেলাটি পূর্ববর্তী খেলার চেয়ে গভীর রহস্য জনক হয়। এক খেলাতে নীরব প্রদর্শনী, পরবর্তী খেলা বাচন যুক্ত হতে হবে । পূর্বেরটি বড় হলে পরবর্তীটি ছোট হবে। তবে সে ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে পরবর্তী ছোট খেলার ভাব নষ্ট না হয়।
বেহালার সুর বাঁধা শিখতে পারলে নাকি তার অর্ধেক শিক্ষা হয়ে যায় । তেমনি এই প্রদর্শন তালিকা বা অনুষ্ঠান সূচী তৈরী করা শিখতে পারলেও একজন ভালো জাদুকর হওয়া যায়। অভিজ্ঞতার সাথে সাথে এই অনুষ্ঠান সূচী তৈরীতে সিদ্ধহস্ত হবেন । সমগ্র প্রদর্শনীটি আপনার প্রথম খেলাটির কৃতকার্যতার উপর অনেকখানি নির্ভরশীল। সমাপ্তি সূচক খেলাটি খুবই জাঁকজমক পূর্ন ও মনোযোগ সহকারে দেখাতে হবে; কেননা সেই খেলাতেই দর্শকগণ আপনাকে চিরতরে মনে করে রাখবে।
আবহ সঙ্গীতঃ প্রদর্শনীতে কথাবলার ফাঁকে আবহ সঙ্গীত প্রয়োগ করলে মায়াময় পরিবেশ সৃষ্টি করতে সহায়ক হবে। বড় বড় খেলাতে বৃহৎ দেশী বা বিদেশী বাদ্য-দল নিয়ে বড় বড় জাদুকরগণ রঙ্গমঞ্চে আর্বিভূত হন । আপনাদের সামর্থ ও উপযুক্ত পরিবেশ অনুযায়ী সে ব্যবস্থা করতে পারেন । সুর জ্ঞান সম্বন্ধে অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ ক্রমে খেলার রূপ অনুযায়ী সুর, তাল ও লয় রক্ষা করে বাদ্য প্রয়োগ করলে খুবই মনোজ্ঞ ও হৃদয়গ্রাহী হবে ।
জাদুকরের বিশ্রামঃ প্রদর্শনীর দু'অংশের মাঝে ১০/১৫ মিনিট বিশ্রাম দিয়ে পরবর্তীন খেলার প্রস্তুতি পরীক্ষা করতে হয় । এছাড়া প্রদর্শনী
চলাকালেও জাদুকর পোষাক পরিবর্তন, লুকান দ্রব্য পরিত্যাগ, প্রয়োজনীয় দ্রব্য গ্রহণ করা প্রয়োজন হয়-তখন সহকারীর সাহায্যে মঞ্চে কৌতুক প্রয়োগের ব্যবস্থা রাখতে হয়।



কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন