অন্ধকার থেকে আলো -১
অন্ধকার থেকে আলো -১
রোজ রোজ টিফিন শেষে ক্লাশ শুরুর পাঁচ মিনিট পূর্বেই ক্লাশে ঢুকতে হয় ।
ক্লাশে ঢুকেই আমি দেখলাম একটি ছেলে চুপচাপ বসে আছে। আমি কোন
কারণ ছাড়াই সজোড়ে তার পিঠে একটি কিল বসিয়ে দিলাম । ভেবেছিলাম
হয়তো সে কিছু বলবে না । কিন্তু পরক্ষণেই সে আমাকে হতবাক করে দিয়ে
আরো জোরে আমার পিঠে দিল এক কিল । আমিও আর কিছু বললাম না ।
মজার বিষয় হল পরবর্তীতে সেই ছেলেটিই হয় ক্লাশের মধ্যে আমার
সবচেয়ে বেষ্ট ফ্রেন্ড । যার সূচনা হয়েছিল একটি কিল থেকে । সিহাব ! হ্যাঁ
তার কথাই বলছিলাম এতক্ষণ । সিহাব বেশীরভাগ সময়ই আমার পাশে
বসে। আর মাঝে মাঝে গুনগুন করে গান বলে। অনেক সময় এমনও হয় ক্লাশে ম্যাডাম লেকচার দিচ্ছে আর সিহাব আমার কানের কাছে গুনগুন করছে। আমার ধ্যান অবশ্য ম্যাডামের লেকচারের চেয়ে সিহাবের গুনগুনের প্রতিই বেশী নিবন্ধ থাকে। আমাদের বন্ধুত্ব শুধু এতদিনে সিহাব আর আমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আমরা এখন মোট ছয়জন । আমি,সিহাব,রাজীব,স্বাধীন,মেহেদী ও মাহমুদ। প্রথমে বলছি রাজীবের কথা। সে তার বয়সের তুলনায় অনেক ভারী ভারী কথা বলে । তাই আমরা সবাই তাকে চাচা বলি। মেসে থাকে। আমরা সবাই বিকেলে তার মেসে যাই । আড্ডা জমে ওঠে। তবে বেশীরভাগ সময়ই আমাদের তাস খেলেই সময় কাটে। ম্যারেজ। তবে টাকা দিয়ে নয়। শুধুই গেম গেম। চাচার মেসে এক বড় ভাই থাকে। চান্দুয়া না নাড়ুয়া বোঝা যায় না। কারণ বেশীরভাগ সময়ই ক্যাপ পড়ে থাকে। আর মাঝে মাঝে চাচাকে এসে বলে এই রাজীব তোমরা এখানে কি করছ ?সারাদিন তো শুধু আড্ডা দিতেই দেখি । পড়াশোনা কখন করো ? রাজীব দাঁত কিড়মিড় করে বিড়বিড় করে বলতে থাকে, আরে যা যা তোর দৌড় কোন পর্যন্ত তা আমার খুব ভালো জানা আছে । রাত বারটার পর ফোনে কার সাথে ইটিশ পিটিশ করো তা কি আমি জানিনা । এখন তো খুব মুরুব্বী বনে গেছ। রাজীব কিন্তু লেখাপড়ায় খারাপ ছিল না। অনেক মেধাবী এবং পরিশ্রমী। রেজাল্টও ভালো । কিন্তু দেনাদফার মধ্যে যেয়েই তার জীবনটা শেষ হয়ে গেল । এই দেনাদফা কিন্তু কোন ঋণের দেনাদফা নয় । আরে দীনা নামে এক সুন্দরীর সাথে রাজীবের ভাব জমে যায়। প্রত্যেক সপ্তাহে যখন বৃহস্পতিবার আসত রাজীবের লাটাইয়ে টান পড়তো। যেন দূর থেকে কেউ তার ঘুড়িকে টানছে । আমরা দেখতাম বৃহস্পতিবার এলেই রাজীব ক্লিনসেভ করে লন্ড্রী করা সার্ট প্যান্ট পড়ে বাড়ীর দিকে দৌড় দেয়। তারপর শনিবার এসে আমাদের গল্প
শোনায়। তার বাড়ীর পাশে কয়বার চক্কর দিয়েছে। রাত বারটার পর পাড়ে গিয়ে চাঁদ দেখতে দেখতে তার হাত ধরে তাকে কি কি বলেছে, ি কি গান ও কবিতা শুনিয়েছে। কিভাবে নদী থেকে শাপলা তুলে এনে তার খোঁপায় বেঁধে দিয়েছে। দানাও কম যায় না। রাজীবের জন্য বাড়া থেকে ঝাল পিঠা বানিয়ে আনে। নিজে রাজীবকে তা খাইয়ে দেয়। কিন্তু রাজীবও। তো ঢং আর কম জানেনা । মুভি আর সিরিয়াল দেখে দেখে এসবে সে পাকা হয়ে গেছে। তাই সে পিঠার একপাশে কামড় দিয়ে দীনাকে বলত এবার ভূমি । দীনা বলত না আর একটু। রাজীব বলত আগে তুমি একটু খাও। এভাবে দীনা কখনো রাজীবের হাত ধরে বলে এ জীবন তুমি ছাড়া বৃথা । তোমাকে না পেলে বিষ খেয়েই মরে যাব । চল পালিয়ে যাই। সারাটি সপ্তাহ তোমাকে ছাড়া থাকতে যে কি কষ্ট হয় । মনে হয় দিন যায় না বছর যায় । কবে যে তোমার পড়ালেখা শেষ হবে ? কবে চাকরি করবা ?তারপর আমাদের বাড়ীতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসবা। তারপর আমাকে বধু সাজিয়ে পালকিতে করে নিয়ে যাবা। এসব চিন্তায় আমার ঘুম আসেনা। এত ব্যস্ত হচ্ছ কেন দীনা। একটু সবর কর । সবরে মেওয়া ফলে। কোমল সুরে এসব কথা বলে দীনাকে শান্তনা দেবার চেষ্টা করে রাজীব। ***
আজ আমরা ছয় বন্ধু মিলে বেড়াতে যাবার কথা। অনেক আলোচনার পর স্থান ঠিক হয় প্রেম যমুনার ঘাট। আমরা একটি হাইস ভাড়া করে মজা করতে করতে সারিয়াকান্দি প্রেম যমুনার ঘাটের দিকে রওনা করলাম । এটি যমুনা নদীর একটি ঘাট । কিন্তু এখানে কপোত কপোতি বেশী আসে বলে তাদের সম্মানার্থে এ ঘাটের নামকরণ করা হয়েছে প্রেম যমুনার ঘাট। গাড়ীতে কখনো আড্ডা, কখানো হাসি-তামাশা, কখনো গান, কখনো আবৃত্তি করতে করতে আমরা প্রেম যমুনার ঘাটে পৌঁছাই। আমরা লেকের
পাশ দিয়ে ঘুরছিলাম। কিন্তু মনে হচ্ছে জোড়া ছাড়া আসা ঠিক হয়নি । কারণ কপোত কপোতিদের রোমান্টিক কিছু দৃশ্য দেখে কখনো হিন্দি সিনেমার কথা মনে পড়ছে আবার কখনো আফসোস হচ্ছে। আমরা একটি নৌকা ভাড়া করে চরের মধ্যে চলে যাই। নদীর মাঝখানে একটি দ্বীপ। সেই দ্বীপে কিছু কাশফুল। আমি আবেগের রাজ্যে পাড়ি জমিয়েছি । বিশেষ করে আজ যমুনা নদীর এক দ্বীপের মাঝে কাশবাগানে বসে আমার সেই কুসুম বালিকার কথা খুব মনে পড়ছে। পাঠক মনে আছে শুরুতে যার কথা বলেছিলাম । হ্যাঁ সেই মায়াবী কেশের কুসুম বালিকা । আমি মনে মনে যেন স্বপ্নের জগতে পাড়ি জমিয়েছি। আমি আর সেই কুসুম বালিকা এই দ্বীপে কাশফুলের পাশে একা একা বসে আছি। আমি তাকে রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে শোনাচ্ছি। সে আমাকে তার কোমল সুরে আবেগী কবিতা আবৃত্তি করে শোনাচ্ছে । এভাবে যেন দু'জনে হারিয়ে গেছি অজানা এক কল্পনার রাজ্যে। তারপর মনে হয় যেন আমরা দু'জনে মাঝরাতে নৌকায় নদীর মাঝে এসে থেমে গেছি । ভরা নদীর মাঝখানে একটি ডিঙ্গি নৌকায় আমি আর আমার স্বপ্নের কুসুম বালিকা । উপরে চাঁদের স্নিগ্ধ আভা। আর তারাগুলো মিটমিট করে জ্বলছে । সে আজ শাড়ি পড়েছে। আমি তার খোঁপায় দুটি কদম ফুল দিয়েছি। চাঁদনী রাতের স্নিগ্ধ আলোয় আজ এ মাঝরাতে ডিঙ্গী নৌকার একপাশে বসা আমার কুসুম বালিকাকে অপূর্ব দেখাচ্ছিল। আমি দৃষ্টি ফেলতে পারছিলাম না। আমি সাথে করে একটি বরশি নিয়ে গিয়েছিলাম । তা দিয়ে দুটি নদীর মাছ ধরে কুসুম বালিকাকে দিলে সে তা রান্না করে আমাকে তুলে তুলে খাওয়ায় আমি তাকে খাওয়াই । অপূর্ব এক অনুভূতি । ইস...! আমার ধ্যানটাই ভঙ্গ করে দিল। হঠাৎ দেখি আমাদের এক বন্ধু স্বাধীন আমাকে ধাক্কা দিয়ে বলছে কি মিয়া একা বসে বসে কি এত ভাবছ ? এদিকে আসো। দেখি সবাই সেলফি তুলছে । গিটারে সুর তুলছে। আর
রাজীব দীনার সাথে ফোনে জমিয়ে আড্ডা মারছে । সন্ধ্যা হয়ে আসছিল । আমরা ফিরতে চাচ্ছিলাম । হঠাৎ স্বাধীন একটি ঝামেলা বাধিয়ে ফেলে। একটা ছেলের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হতে হতে একপর্যায়ে হাতাহাতি হবার উপক্রম । অনেক কষ্টে তাকে আমরা সেখান থেকে ছাড়িয়ে আনি । তারপর সে একা একা বলতে থাকে শালা আমার সাথে ফাজলামি করিস। আমি এক ফোনে তোর বারটা বাজিয়ে দেব । তপন ভাইকে যদি শুধু একবার বলি এখনই বিশটা মোটর সাইকেল পাঠাবে। তারপর সে আমাদের সবাইকে বলল, শোন বাইরে এসে সব সময় বুক ফুলিয়ে চলবি। ডোন্ট কেয়ার তারপর কি হয় আমি দেখব। এটা আমার এলাকা। হঠাৎ রাজীব বলে ওঠে এই শালা ছেলেরা আর কতটুকু বুক ফোলাবে, বুক তো ফোলে মেয়েদের স্বাধীন দীনা তো তোর মাথাটাই খারাপ করে দিয়েছে। সারাদিন তো খালি ঐদিকেই চেয়ে থাকিস। তাই সোজা বললেও উল্টা বুঝিস ।
***
আজ রাতে আমরা ছ'জন একসঙ্গে থাকব। মেহেদীর বাসায়। ও আমাদের ছ'জনের একজন । তুলনামূলক শাস্ত । ভদ্র ছেলে। মাঝে মাঝে শুধু একটু হুক্কাতে টান মারে । মানে বিড়ি টানে । সিদ্ধান্ত হল রাতে বিরিয়ানী পাকানো হবে। কিন্তু এক ঝামেলা সৃষ্টি হলো। একজন বলছে খাসি দিয়ে হবে অন্যজন বলছে গরু দিয়ে। হঠাৎ স্বাধীন বলে উঠল এই তুই কি নেংটি নাকি তাই এত খাসি খাসি করছিস। খাসি কত করে কেজি জানিস ? এমনি সংকটে আছি। সারারাত পড়ে আছে। এমবি কেনা লাগবে, লোড দেয়া লাগবে । চাঁদা ওঠাতে গিয়ে আবারও ঝামেলা । সিহাব বলছে বন্ধু আমারটা তোমরা দিয়ে দাও পরে দিয়ে দিব। কিন্তু স্বাধীন তা মানতে নারাজ। কারণ সে খুব ভালো করেই জানে সিহাব নিত্যনতুন পদ্ধতিতে সবাইকে বোকা বানায়, সে সবাইকে মুরুব্বীর মত পরিচালনা করার চেষ্টা করে। আবার
অনেক সময় দেখা যায় রেস্টুরেন্টে খেতে গেছি । সিহাব একাই সবার বিল দিয়ে দিচ্ছে । মাঝে মাঝে মজা করে আর কি। বাজারের দায়িত্ব দেয়া হল সিহাব আর স্বাধীন উপর । স্বাধীন মাংস কিনতে গিয়ে কসাইকে বলল মামা দেখে মাংস দিও । এমনি কিন্তু মাথা হিট আছে । হাড্ডিগুলো সড়াও । ফ্রেশ মাংস দাও। বিরিয়ানীর জন্য। কসাই আমতা আমতা করে বললো, মামা শেষের দিকে তো তাই গোশত একটু কম, হাড্ডি বেশী আছে। প্যাচাল কম পারো মিয়া। প্রয়োজন হলে তোমার পা থেকে মাংস কেটে দাও । ঐ যে দেখতেছি, সিনার মাংস দাও। স্বাধীন এমনিতেই একটু রগচটা। তার উপর আবার বড় বড় চুল, চোখে সানগ্লাস, দেখেই মানুষ ভয় পায়। আমি আর মেহেদী মিষ্টির দোকানে গেলাম। কিছু মিষ্টি আর দই কিনলাম । কিন্তু স্বাধীনের অভ্যাস যত ভালো জিনিসই নেয়া হোক সে বলবে এগুলো কি আনছ মামা। ঠিকমত বাজার করাই শেখনি । সিহাব আর মেহেদী রান্নার দায়িত্বে নিয়োজিত হল । আমরা আমাদের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী কার্ড খেলা শুরু করলাম । কয়েক গেম হয়ে গেল। হঠাৎ স্বাধীন বলল ঐ দিকে কি খবর একটু দেখে আয় তো মামা। ওরা আবার আগেই একা একা মেরে দিচ্ছে না তো। রান্না প্রায় শেষের দিকে। সিহাব বলল সবাইকে বসতে বল । আমরা সব রেডি করছি। শসা কাঁটা হয়নি। খেতে বসেই স্বাধীন এক চিৎকার ছাড়ল । আরে মামা মোটরের পানি দিয়ে নাকি সমুদ্রের পানি দিয়ে বিরিয়ানী পাকাইছো । মুখে দেয়া যাচ্ছে না। এত বেশী লবণ দিছ । যেটা মাড়াবার পারো না সেটা করতে যাও কেন?আমার টাকাগুলোই গাচ্ছা গেল । আসলে কিন্তু লবণ তেমন বেশী হয়নি। স্বাধীনের ঝাড়ি থামাতে গিয়ে যেন তাকে মাংস কয়েক পিস বেশী দেয়া হয় এটা তার একটা পলিসি। খাওয়া-দাওয়া প্রায় শেষের দিকে। হঠাৎ রাজীব বলে উঠলো। কিরে স্বাধীন সমুদ্রের পানির বিরিয়ানী যে তিন প্লেট মেরে দিলি । স্বাধীন
হাসতে হাসতে বলল না মামা খুব খিদে ছিল তো, তাই। এখন নে দইয়ের বাটি টা খোল । মুখ লোনা হয়ে গেছে । মিষ্টির প্যাকেট খুলতেই সবাই যেন ছো মেরে নিয়ে গেল । খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই শুয়ে পড়লাম । কিন্তু এত তাড়াতাড়ি কেউ ঘুমাবার পাত্র নয়। কেউ FB তে, কেউ FM এ, কেউ Pubzi তে মগ্ন আবার কেউ Imo তে কথা বলছে। আমি আর স্বাধীন পাশাপাশি শুয়ে আছি। স্বাধীন ওর গার্লফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছে। রূপা । ওর গার্লফ্রেন্ড ওকে খুব লাভ করে। মানে রিয়েল লাভ । গার্লফ্রেন্ড : সারাদিন কোথায় ছিলা ? কোন খবর নাই ।
স্বাধীন কেন ? খবর নেয়ার মানুষের অভাব নাকি ? রূপা: সারাদিন পর ফোন দিলাম । এখনো কি ঝগড়া করবা?
স্বাধীন না। কি খবর জানু বল । খাইছো ?
রূপা : হ্যাঁ। তুমি ?
স্বাধীন : আমিও খাইছি ।
রূপা কি খাইছো ?
আমরা এখন মেহেদীর বাসায়। প্রেম যমুনার ঘাটে বেড়াতে গেছিলাম ।
রাতে বিরিয়ানী রান্না করছিলাম। আরও ফ্রেন্ডরা সাথে আছে।
রূপা একা একা প্রেম যমুনার ঘাটে গেলা। বিরিয়ানী খাইলা । এই প্রেম ? স্বাধীন : আরে ফ্রেন্ডরা ছিল তো তাই। এরপর তোমাকে নিয়ে যাব।
বিরিয়ানীও খাওয়াবো।
রূপা :বিরিয়ানী কে রান্না করল। কেমন হয়েছিল ।
স্বাধীন : সিহাব। আরে শালা কোন কাজ পারে না। লবণে মুখে দেয়া যায় না ।
রূপা : আগে বললে রেধে দিয়ে আসতাম।
স্বাধীন শুধুই রেধে দিয়ে যেতে। খাওয়ায়ে দিতা না ?
রূপা : ঢং। কালকে আসো দেখা করবো। খাওয়ায়ে দিব ।
স্বাধীন : কি খাওয়াবা ?
রূপা তুমি যা যা খাবা। কোল্ড ড্রিংস, কেক, আইসক্রীম ।
স্বাধীন না ওসবে চলবে না।
রূপা : তাহলে কি খাবা ?
স্বাধীন : যা শুধু তুমিই খাওয়াতে পারো অন্য কেউ নয় ।
রূপা : মানে ।
স্বাধীন : কিসমিস।
রূপা নটি বয় ।
স্বাধীন কোথায় দেখা করবা? রূপা : পার্কে বা কফি শপে।
স্বাধীন না। ওসব জায়গায় পোষায় না ।
রূপা তো।
স্বাধীন : আমার মেসে আসো।
রূপা মানে কি ।
স্বাধীন : আমার রুমে ।
রূপা : তুমি কি পাগল হইছ ?
স্বাধীন : আসবা না ?
রূপা : না।
স্বাধীন ফোন রেখে দিলাম ।
রূপা দাও ।
ফোন কেটে দেয়ার পর রূপা দশ বারো মিনিট পর আবার ফোন দিচ্ছে ।
দুই তিনবার পর স্বাধীন রিসিভ করে ।
রূপা : কি হইছে তোমার ?
স্বাধীন ক্ষিধে লাগছে।
রূপা : কিছুক্ষণ আগেই না বিরিয়ানী খেলে ।
স্বাধীন : বিরিয়ানীর ক্ষুধা না অন্য ক্ষুধা ।
রূপা আবার ফাইজলামি।
স্বাধীন : ফাইজলামি না সিরিয়াস।
রূপা : কেউ দেখে ফেললে কি হবে বলো তো। তুমি কি ভ্রমর ? মধু খেয়ে
আমাকে ফেলে দেবে।
স্বাধীন কখনোই না। শুধু একবার আস সোনা ।
রূপা : আচ্ছা যাবো কিন্তু টাচ করবা না, গল্প করে আবার চলে আসব।
স্বাধীন : তাহলে আসার দরকার নাই ।
রূপা : তুমি কি আমাকে চাও নাকি আমার দেহ।
স্বাধীন দুটোই। না আসলে ব্রেক আপ।
রূপা আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। তুমি যা বলবা তাই হবে। কিন্তু
একটা Request কখনো আমাকে ফেলে চলে যেওনা ।
স্বাধীন : Good girl. কি পড়ে আসবো ?
রূপা থ্রি পিস ।
স্বাধীন : আকাশী রং এর টা ।
রূপা এখন ঘুমাও।
স্বাধীন কেটে দাও।
রূপা : তুমি দাও ।
স্বাধীন : Ok by.
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বারটা বাজে। মানে দুপুর । সবাই নিজ নিজ
বাড়ীতে চলে গেলাম ।
***
আজ অনেকদিন পর আমি গ্রামের বাড়ীতে বেড়াতে যাবো। এখন গ্রীষ্মকাল । আম, কাঁঠাল পেকেছে। কয়েকদিন হল দাদা দাদী ডাকছে। বলছে দাদুভাই বাড়ীতে এসে বেড়িয়ে যাও। তোমার জন্য পাকা আম, কাঠাল রেখে দিয়েছি। আমি আমার দাদা দাদীকে খুব মিস করি। কারণ তাদেরকে আমি খুব ভালোবাসি। আমি একটি জিনিস বুঝিনা মানুষ কেন যে তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে। যে বাবা-মা তাকে এত কষ্ট করে লালন-পালন করেছে, মানুষ করেছে আজ তারাই তার সন্তানের কাছে বোঝা। যারা আমার সুখের জন্য আরামের ঘুম হারাম করেছে, না খেয়ে থেকেছে, আমার সুশিক্ষার জন্য হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেছে। আজ সুন্দরী স্ত্রীর কথা শুনে সেই বাবা-মা আমার পর হয়ে গেল। হঠাৎ একটি গল্প মনে পড়ে গেল ।এক ছেলে তার পিতাকে গলায় গামছা লাগিয়ে টানতে টানতে বাড়ীর উঠান পর্যন্ত নিয়ে আসল। উঠানের কাছে আসলে তার বাবা ছেলেকে বলছে এর বেশী আর নিয়ে যাসনে তাহলে জুলুম হবে। তখন ছেলে বলল এতদূর নিয়ে আসলাম তাতে জুলুম হলো না আর একটু নিয়ে গেলে জুলুম হবে। এর মানে কি ? তখন তার বাবা বলল আমি আমার বাবাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছিলাম। আজ তারই ফল পেলাম । কাজেই এর বেশী যদি তুই আমাকে নিয়ে যাস তাহলে জুলুম হবে । আজ যারা বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয় তারাও যেন তার সন্তানের থেকে কষ্ট পাবার জন্য রেডি থাকে। আমি আমার দাদা-দাদীর জন্য। আপেল, কমলা, আঙ্গুর কিনে নিয়ে তাদের দেখতে গেলাম । আমাকে কাছে পেয়ে যেন দাদা-দাদী আনন্দে আত্নহারা হয়ে উঠলেন। আমি ফলগুলো তাদের হাতে দিলাম । দাদী আমাকে বললেন এগুলো কেন নিয়ে এসেছ দাদুভাই ? তুমি আমাদের দেখতে এসেছ তাই আমরা খুশি। তুমি যখন অফিসার হবা তখন আমাদের জন্য এগুলো নিয়ে এসো। আমি বললাম
তোমরা আমার জন্য দোয়া করো। তারপর দাদী আমাকে আম, লিচু, কাঁঠাল খেতে দিলেন। বললেন এগুলো খেয়ে নাও। তোমার জন্য রেখে দিয়েছিলাম । আমি অত্যন্ত তৃপ্তির সাথে ফলগুলো আহার করলাম । তারপর গ্রামে ঘুরতে বের হলাম । শহর থেকে কেউ আসলে গ্রামের মানুষ একটু উৎসুক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। সবাই আমার দিকে দেখছিল। হঠাৎ আমার এক চাচাতো বোনের সাথে দেখা। ও মনে হয় আমার প্রতি অনেকটা দূর্বল। নিউ টেনে পড়ে। কেমন জানি আড়চোখে চেয়ে থাকে। আজ আমার আসার কথা শুনে নতুন জামা পড়েছে। সাজুগুজু করেছে। দেখতে খারাপ না। কিন্তু তাতে কি? নিজেদের আত্মীয়দের মধ্যে আমার এগুলো অনুভূতি কাজ করে না । তাইতো আমার কাছে বারবার অংক বুঝে নিতে আসলেও আমি তেমন পাত্তা দেই না। ও আসলে বই এর অংক আমার কাছে বুঝতে আসে নাকি বউ এর অংক আমাকে বোঝাতে আসে তা তো আমি ভালো করেই বুঝি। ডাল মে কুচ কালা হে! কিন্তু আমি যে অন্য জায়গায় আটকা পড়ে আছি। সেই কুসুম বালিকা । কিন্তু আর কোনো কথা হয়নি। শুধু আড়চোখে দেখাদেখি। আচ্ছা তবে কি সেও আমার প্রতি দূর্বল। তা না হলে ওভাবে তাকাবে কেন ? কি জানি বাবা মেয়েদের মতিগতি বোঝা কঠিন। আজ বিকেলে গ্রামের পুকুর পাড়ে গেলাম । পুকুরের সামনে বিশাল সবুজ শ্যামল ধানের ক্ষেত। সত্যিই কি মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য । সানবাঁধা পুকুর ঘাটের পাশেই একটি কদম ফুলের গাছ। সেখানে গ্রামের কিছু বন্ধুদের সাথে গল্প করছিলাম। গল্পের বিষয় হলো গ্রামে কিছুদিন আগে একটি ক্রিকেট খেলার লীগ হয়েছিল। ফাইনালে আমাদের গ্রাম জিতেছে এবং একটি ছাগল পুরস্কার পেয়েছে। আজ রাতে সেটি দিয়ে খাওয়া-দাওয়া হবে। সে বিষয়েই পরিকল্পনা হচ্ছিল। হঠাৎ মাগরিবের আযান হয়ে গেল। পুকুরের পাশেই একটি ছোট মসজিদ ।
আমরা পুকুরের পানি দিয়ে অযু করে সবাই নামাজে গেলাম । নামাজ শেষে বাজারে যাবার পালা। বন্ধুদের সাথে গ্রামের বাজারে এসেছি। রাতে যে প্রোগ্রাম আছে তার জন্য বাজার করতে হবে। বাজারে গিয়ে আমি গরম পিয়াজু, জিলাপি খেলাম । বিল বন্ধুরাই দিল। সিদ্ধান্ত হয়েছে খাসি আর নতুন আলু দিয়ে ঘাটি এবং ভাত পাকানো হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় বাজার সেরে নিলাম । বন্ধুরা মিলে একটি সাউন্ড বক্স ভাড়া করলাম । একটু আনন্দ ফূর্তি না হলে কি আর প্রোগ্রাম হল । আর একজন একটি প্রস্তাব দিল । নোংড়া প্রস্তাব । বন্ধু একটা জিনিস নিয়ে আসা হোক। আমি বললাম জিনিস মানে । ও বলল আরে সুলতান শহরে থাকে কিছু বোঝে না। আরে বেটা একজনের সাথে সবাই । আমি বললাম ছিঃ। আমার জন্য অন্ততঃ এটা মুলতবী রাখ । এটা অনেকটা পশুদের মত কাজ হয়ে যাবে। একজন বলল কচি খোকা। নাক দিয়ে দুধ পড়ছে। আর একজন বলল নাক দিয়ে নাকি নীচে দিয়ে দুধ পড়ছে একটু ভালো করে দেখ। আমাদের কাছে সাধুর ভান করছে। সত্যিই শহরে যাই করি গ্রামে এসে একটু ভালোভাবে থাকার চেষ্টা করি । কারণ সবাই জানে আমি খুব ভদ্র ছেলে এবং ভালো ছাত্র। অনেক চেষ্টা করে তাদের এবারের মত জিনিস আনা থেকে বিরত রাখলাম । পুকুর পাড়ের একপাশে আমাদের প্রোগ্রাম চলছিল । ছামিয়ানা টাঙ্গানো হয়েছিল। একপাশে রান্না হচ্ছিল অপর পাশে সাউন্ডবক্স চলছিল । কেউ কেউ বক্সের তালে তালে শরীর গরম করছিল। আবার কেউ নায়িকার সাথে ফোনে চুটিয়ে প্রেম করছিল। রাতে গ্রামের মুরুব্বীদেরকেও দাওয়াত করা হয়েছিল । তাদের আসতে এখনো অনেক দেরী । রান্না হতে আরও বেশ সময় লাগবে । আমি বাসা থেকে গিটার নিয়ে এসেছি। কয়েকজন বন্ধুকে সাথে নিয়ে সুর তোলার চেষ্টা করছি । আর ওরা গলা মিলাচ্ছে । সামনে কাঠ দিয়ে আগুন ধরানো হয়েছে । তাতে গ্রিল বানানো হচ্ছে । এটি আমাদের
জন্য স্পেশাল। সাথে ঠান্ডা পানীয়। একজনবলল এগুনো Hunter, Tiger দিয়ে পোষায় না গাড়ী নিয়ে যেয়ে এক বোতল আনত। অপরজন বলল এত রাতে যাওয়ার দরকার নাই । দোকান বন্ধ হয়ে গেছে । রান্না মনে হয় শেষ হয়ে গেছে। মুরুব্বীরাও এসে পড়েছে। আমাকে দেখে কয়েকজন জিজ্ঞাসা করলেন, কেমন আছ ? এখন কিসে পড়ছ?ভালো করে পড়াশোনা কর । বংশের নাম রাখা চাই । খাবার পরিবেশন শুরু হয়ে গেছে । পুরুষদের সাথে অনেক নারীরাও এসেছে। অনেকের নায়িকাও এসেছে। কিন্তু বাবা- মা সাথে থাকায় কিছু বলতে পারছেনা। শুধু দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে । কেউ কেউ অবশ্য একটু আগ বাড়িয়ে যেয়ে যেখানে তার নায়িকা আছে। তার সামনে গিয়ে বলছে এই এখানে তরকারী দাও। চাচীকে মাংস দাও। নায়িকার বাবা- মা যেন বুঝতে পারে আমার হবু জামাই এ আয়োজনের প্রধান। সবশেষে আমাদের খাবার পালা। খাওয়ার চেয়ে মজাই বেশী হচ্ছিল। কিছু ঘাটি বেঁচে গিয়েছিল। আমরা সবাই তা বাড়ীতে নিয়ে গেলাম ।
***
কয়েকদিন পরেই আমাদের Exam. সারা বছর যা হবার হয়েছে। এ কয়েকদিন অন্ততঃ মন দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। ফোন বেশী সময় বন্ধই রাখছি। বন্ধুদের সাথে আড্ডাও কমে দিয়েছি। নিয়মিত ক্লাশে যাচ্ছি। ক্লাশে অবশ্য বন্ধু বান্ধবীদের সাথে দেখা হয়। মেয়েরা যেহেতু একটু পড়াশোনা বেশী করে তাই ওদরেকে কিছু সাজেশনের কথা বললাম । চৈতী, অপি অন্ত আমার ভালো বান্ধবী। প্রাইভেটে ওদের সাথে পরিচয়। একজন অবশ্য একবার আমাকে প্রপোজ করেছিল। আমি বলেছি No, Just friendship. তারপরও হাল ছাড়েনি। এদের মধ্যে চৈতী সবচেয়ে Good student.ও আমাকে বেশকিছু সাজেশন দিল । কিছু নোট দিল ।
আর বলল এতটুকুও যদি না পড়িস কিভাবে কমন পাবি?হঠাৎ দেখি স্বাধীন এসে হাজির । এসে বলল মামা চৈতী তোকে কি সাজেশন দিল একটু দে তো । পড়াশোনা কিছুই হয়নি । মাগীর কাছে তিনদিন হলো ঘুরতেছি । খালি কয় পরে পরে...। আমার সাথে হাঙ্কিপাঙ্কি করলে একেবারে তুলে নিয়ে যাব । আমি বললাম চৈতীকে বলে দিব । স্বাধীন বলল না মামা । তাড়াতাড়ি সাজেশনটা দে। আমি ওকে সীটগুলো দিয়ে বললাম তাড়াতাড়ি ফটোকপি করে আন ।
***
Ok দেখতে দেখতে পরীক্ষা চলে আসল। চৈতীর দেয়া সাজেশনগুলো অনেকটাই কমন পড়েছিল । ওর সিটও আমার একেবারে পাশে পড়েছিল । পরীক্ষার মধ্যেও ছোটখাটো বিষয়ে হেল্প করত । Objective এর সময়ও নিজে যতগুলা পারতো Fill up করত। বাঁকীগুলো আশেপাশে থেকে সংগ্রহ করত। ওর Fill up হয়ে গেলে ও Question sheet টা আমাকে দিয়ে যেত। আমি এতক্ষণ ওর অপেক্ষায় বসে থাকতাম। পরে চৈতীর Question sheet দেখে দশ মিনিটে সব পূরণ করতাম। ও কখনো বিরক্ত হয়নি। বরং আমার জন্য অনেক সময় ম্যাডাম এর বকা খেয়েছে। চৈতী অনেক নম্র-ভদ্র মেয়ে। ওর বাবা মারা গেছে। মামার বাসায় থেকে লেখাপড়া করে । ওর বাবা মারা যাবার পর ওর মামা ওকে নিয়ে আসে। ওর মামাই ওর লেখাপড়ার খরচ দেয়। ওর মামারা অনেক বড়লোক । মামাতো বোনেরা অনেক দামী দামী পোষাক পরতো । নিয়মিত পার্লারে যেয়ে ভ্রু-প্লাক, ব্লিচ করত । অনেক ভালো ভালো খাবার খেত । যেমন- চৈতীর মামা হয়তো একটা মাছ এনেছে। তো মামাতো বোনদের পাতে মাথা, পেটি যেত। আর চৈতীর পাতে লেজটি আসত। অনেক সময় ওর মামীরাও ওর সাথে Misbehave করত । চৈতী সব মুখ বুঝে সহ্য
করত। আর ভারত একদিন আমারও দিন আসবে। ভালো করে পড়াশোনা করে ভালো চাকরি করবে। তারপর ভালো বিয়ে হবে । লাল শাড়ী পড়ে সাজবে ইত্যাদি । মাঝে মাঝে যখন ওর বেশী খারাপ লাগত একা একা কাঁদত। কিছু কিছু আমাদের সাথে শেয়ার করত। ওর মামা ওকে অবশ্য খুব ভালোবাসে । ওকে খুব স্নেহ করে। এতকিছুর পরও চৈতী তার জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যায়। মাঝে মাঝে মায়ের কাছে যায়। মা চাল বিক্রী করে শহরে আসার সময় চৈতীকে কিছু টাকা দেয়। যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
***
কাল অধরার জন্মদিন। সিহাবের গার্লফ্রেন্ড। অধরা সিহাবকে দাওয়াত করেছে। কিন্তু সিহাবের Strate কথা আমাদের ছয়জনের সবাইকে দাওয়াত না করলে আমি যাব না। অধরা বলল ছয়জন কে কে ? আমি, সুলতান, মেহেদী, স্বাধীন, রাজীব আর মাহমুদ। অধরা আমাদের সবাইকে চিনত না। তাই আমাদের বন্ধুত্ব সম্পর্কেও জানত না। অধরা সিহাবকে বলল,Ok সবাইকে দাওয়াত করো। আগামীকাল সন্ধ্যা ছয়টায় দাওয়াত।
আসছ তো।
সিহাব দেখি।
অধরা। দেখি মানে। অবশ্যই আসবা ।
সিহাব : কেন আমি না গেলে কি তোমার জন্মদিন হবে না। আর আগামীকাল মায়ের পেট থেকে তোমার আবার নতুন করে জন্ম হবে নাকি? অধরা : ফালতু কথা রাখ। গিফট দেয়ার ভয়ে কি আসতে চাচ্ছ না ?
সিহাব :হ্যাঁ তাই । আচ্ছা বলো কি গিফট্ নিবা । অধরা : আমি কি ফকির চেয়ে চেয়ে গিফট্ নিব ।
সিহাব তুমি ইচ্ছে করলেও ফকির হতে পারবা না। ফকিরনি হতে পারবা। আর আমি তোমাকে সর্ট ড্রেস গিফট্ করব । কত সাইজ বল ? অধরা : হাসতে হাসতে । তুমি আসলেই একটা লেলপা ছেলে । সিহাব কই আমার গায়ে তো কোন লেলপা নেই। কাল সময় মতই বন্ধুদের নিয়ে আসব। তোমার পছন্দমত গিফট্ও নিয়ে আসবো। হ্যাপি ? অধরা : হুম ।
***
সিহাব বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে অধরার কাল বার্থ ডে। যেতে হবে । মাহমুদ শুনেই চেঁচিয়ে উঠল। এই মেয়েরা এত ডে পালন করে। বার্থ ডে, ম্যারেজ ডে, রোজ ডে, সবই ফালতু। গিফট নেয়ার বাহানা। জানিনা সামনে আবার খতনা ডে পালন করতে হয় কিনা । সিহাব বলল বাজে কথা রাখ কি গিফট্ দেয়া যায় বল। মেহেদী বলল চল আগে শপিং এ যাই । সবাই পছন্দ করে কিনব। মামা মানিব্যাগ প্রায় ফাঁকা। টিউশনির টাকা এখনো পাইনি। কিছু টাকা ধার দে তো। মাহমুদ খোঁচা দিয়ে বলল বিয়ে তো এখনো করিস নি । এখন থেকেই বোঝা মেয়ে মানুষ পালা কত জ্বালা । আমরা সবাই শপিং এ গেলাম। সিহাব অধরার জন্য একটি থ্রি-পিছ, শো- পিছ, একটি মহানবী (সাঃ) ও ফাতেমা (রাঃ) এর জীবনী এবং একটি জায়নামাজ কিনল। তারপর গিফটগুলো গিফট্ পেপারে মুড়িয়ে দিল এবং তার মধ্যে ছোট একটি চিঠি লিখে দিল । "প্রিয় অধরা,
জানি রুমে গিয়ে সবার আগে তুমি আমার গিফট্টি খুলে দেখবে । তোমার হবু স্বামীর দেয়া থ্রি-পিছ আর শো-পিছটি কি তোমার পছন্দ হয়েছে । শো- পিছটি কিসের ভূমি দেখেছো আগ্রার তাজমহল। বাদশাহ শাহজাহান তার স্ত্রীর প্রেমে নির্মাণ করেছিল। আমিও তোমার জন্য একটি প্রেমের তাজমহল
বানাবো । যার নাম হবে ‘অধরাপুরী'। সেথায় তুমি রাজকুমারীর মত সেজে আসবা আর আমি হব তোমার রাজকুমার । সেখানেই আমাদের ফুলসজ্জা হবে । জানিনা তা আর কত দূরে ?কতই বা নিকটে ? আজ থেকে দৈনিক মহানবী(সঃ) ও তাঁর মেয়ে ফাতেমা (রাঃ) এর জীবনী পড়বা । আমি চাই তুমি একজন চরিত্রবান আদর্শ নারী হও। আর দৈনিক আমার দেয়া জায়নামাজে নামাজ পড়ে তোমার হাত দুটো তুলে মালিকের কাছে প্রার্থনা করবে তিনি যেন অচিরেই তাঁর এই দুই সৃষ্টিকে একত্রিত করে দেন এবং তাদেরকে মিলনের স্বাদ উপভোগ করার তৌফিক দেন । আমিন"
বিশাল অক্টোলিকা । হ্যাঁ এই রাজ প্রাসাদেই অধরা থাকে । যেন রাজবাড়ী । সারা বাড়ীতে ঝাড়বাতি জ্বলছে। বাহারী খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাহমুদ বলল মামা কেক কাটতে কাটতে তো অনেক দেরী হয়ে যাবে। কেবল DJ Party চলছে। আমরা বরং আগেই একবার মেরে দেই । পরে আবার হবে। খাওয়া-দাওয়া তো চলছেই। সিহাব বলল আরে না। ওর আজ এদিকে তেমন খেয়াল নেই। অধরাকে খুঁজছে। এখনো দেখা হয়নি । ওহ ! ঐ তো অধরা । সিড়ি দিয়ে নামছে। যেন ডানা কাটা পরী নেমে আসছে। সাদা লেহেঙ্গা পড়েছে। সিহাবকে দেখেই বলল হাই। সিহাব ও মুচকি হেসে হাত নাড়ল । সিহাব যেন লজ্জা পেয়ে গেছে। অধরা নীচে এসে ওর বাবার সঙ্গে আমাদের সবার পরিচয় করিয়ে দিল। ওর বাবা অনেক বড় Businessman. আমাদের দেখেই বলল Youngman তোমরা তো দেশ ও জাতির ভবিষ্যত। মন দিয়ে নিজেদের Carrier গড়ো । তোমাদের অনেক কাজ বাকী । একটু সাইডে এসে সিহাব মিন মিন করে বলল আসল কাজ তো তোমার মেয়েকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করা। পারিবারিক ভাবে তো কোনদিন মেনে নিবা না । মেহেদী হেসে বলল তাহলে এই রাজত্ব রাজকন্যা
একসাথে পেয়ে যাবি। অধরার তো আর কোন ভাই-বোন নেই। স্বাধীন বলল মামা অধরার মায়ের আর ছোলপোল হলো না ক্যা ? ওর বাবাও কি রাজা ব্যবহার করছিল । মাহমুদ বলল বাজে কথা রাখ তো । আচ্ছা সিহাব। অধরাকে কোথায় ভাগিয়ে নিয়ে যাবি? বর্ডারের বাইরে । শিলিগুড়ি হয়ে দার্জিলিং। একবারে তিনমাস হানিমুন থেকে Pregnent করে নিয়ে আসব । সবাই হা হা হা ! Good plan. অধরা আমাদের ডাকছে। কেক কাটার সময় হয়ে গেছে। অধরার আত্মীয়-স্বজন ও শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও এসেছে । অধরা কেক কেটে প্রথমে সিহাবের দিকে তাকাল । মনে হয় ইশারায় খাইয়ে দিল। তারপর ওর বাবা-মাকে খাইয়ে দিল। কেকের ক্রীমের আস্তরনটা একটু মোটা । অধরার এক মামা পাশে দাড়িয়ে ছিল। সে বলল হ্যালো মামনী। তাকে কেক খাওয়াতে গিয়ে এক বিড়ম্বনা। মুখের সাথে সাথে নাকও কিছুটা খেয়ে নিল । মেহেদী হঠাৎ করে হেসে ফেলে। মামা বড় বড় চোখ করে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকল এবং টিস্যু দিয়ে মুখ মুছ ছিল। আমি মেহেদীর হাত টিপে চুপ করতে বললাম। তারপর অধরা আমাদের সবাইকে কেক খাইয়ে দিল। শুধু সিহাবকে ছাড়া । ওর ঠোঁটে শুধু ক্রীম মেখে দিল । অনুষ্ঠান এখন জমে উঠেছে। সবাই খাওয়া-দাওয়ায় ব্যস্ত । আমরাও মাহমুদ শুধু রান মেরে দিচ্ছে। হঠাৎ দেখি সিহাব নেই। কিছুক্ষণ পর মিন মিন করে হাসতে হাসতে আমার পাশে বসল। আমি বললাম কিরে তোর ঠোঁটে যে অধরার লিপস্টিক দিয়ে দিয়েছিল সেটা গেল কই ? অধরা মুছে দিয়েছে । টিস্যু দিয়ে মুছে দিয়েছে ?
না
রুমাল দিয়ে ?
না।
আঁচল দিয়ে ?
না।
রাজীব বলল আমি বুঝেছি। কিছমিছ। সিহাব প্রতিবাদ না করে খালি মিনমিন করে হাসছে । ভালো করে চেয়ে দেখি ওর ঠোঁট কেন জানি লাল হয়ে গেছে। আমি বললাম যা হবার হয়েছে। এখন খা। ও বলল আমি আর কিছু খাব না। জন্মের খাওয়া খাওয়াইছে। মাহমুদ বলল এতটা কিন্তু ভালো নয় । কেউ দেখে ফেললে কি হতো । আরে পর্দার আড়ালে ।
বাসায় এসে আজ রাতে সিহাবের ঘুম ধরছে না। শুধু এপাশ ওপাশ করছে। ফোন চার্জে দেয়া ছিল। হাতে নিয়ে দেখে ১২ বার অধরার মিছকল উঠে
আছে। সিহাব ব্যাক করল ।
সিহাব : কি খবর ।
অধরা : কি খবর মানে ? তুমি না খেয়ে গেলে কেন ?
সিহাব কে বলল ?
অধরা : মেহেদী বলল । তুমি নাকি বিরিয়ানী খাওনি ।
সিহাব: তুমি যে খাবার খাইয়েছ তাতেই পেট ভরে গেছে । অধরা : তাই। কেউ যদি দেখত। সত্যিই পেট ভরছে?
সিহাব : এক মিনিটে কি আর পেট ভরে।
অধরা : তো একবারে নিয়ে গেলেই পারো। একঘন্টা ধরে খাওয়াবনি।
সিহাব : সত্যিই আসবা ।
অধরা : উম। সাহস কত ? আমার বাবা তোমাকে গুলি করেই মেরে
ফেলবে । আমার একটা Cousinকিন্তু Police officer.
সিহাব : ওসবগুলি আর Cousin কে আমি ভয় পাই না ।
অধরা : তোমার গিফটগুলো খুবই ভালো লাগছে। বিশেষ করে তুমি যে মহানবী (সাঃ) জীবনী দিয়েছ এটি আমি পড়ে শেষ করব ।
সিহাব : একটা Letter পাইছ।
অধরা : হ্যাঁ।
সিহাব : তাহলে আজ রাতেই নামাজ পড়ে মালিকের কাছে দোয়া কর যেন আমাদের বাসর তাড়াতাড়ি হয় ।
অধরা : এখন আমি নামাজ পড়তে পারব না। অসুস্থ।
সিহাব : তোমাকে না ভালো মানুষ দেখে আসলাম । জ্বর-সর্দি তো কিছুই
দেখলাম না।
অধরা : তুমি আসলেই একটা Gobet. এটা সেই অসুখ না। এই অসুখ হলে মেয়েদের নামাজ পড়তে হয় না । কই তুমি তো Senora gift দিলা
সিহাব বুঝলাম । পরে কিনে দিবনি । আমি চাই তুমি তোমার সৌন্দর্য্য শুধু আমাকেই দেখাও অন্যকে নয় । আজ দেখেছ সবাই কেমন করে তোমার
দিকে চেয়েছিল । আমার ভীষণ ঈর্ষা হচ্ছিল। অধরা : আচ্ছা। তাহলে একটা হিজাবও কিনে দিও।
সিহাব : সত্যিই পড়বা তো ।
অধরা : অবশ্যই তুমি বললে সমুদ্রেও ঝাঁপ দিতে পারি ।
সিহাব :Ok. এখন আপাততঃ সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে হবে না । বিছানায় ঝাপ
দিয়ে ঘুমিয়ে পড় ।
অধরা : Good night.
সিহাব:Good night.
***
আজ শুক্রবার। জুম্মার নামাজ আমরা ছয় বন্ধু একসঙ্গেই পড়ি। এই হুজুরের বয়ান আমাদের খুব ভালো লাগে । হুজুর আজ বয়ান করছে নারীর পর্দা বিষয়ে । আমাদের মনোযোগ হুজুরের বয়ানের দিকে।
হুজুর : আচ্ছা বলেন তো কলা কত করে হালি । ২০ টাকা করে তাইনা । কিন্তু কেউ যদি ছেলা কলা নিয়ে রাস্তায় বসে থাকে আর তার উপর ধুলাবালি জমে থাকে এবং মাছি ভনভন করতে থাকে আপনারা কেউ কি এক টাকা হালিও কলা কিনবেন ?
শ্রোতা না।
ঠিক তেমনি যে সমস্ত নারীরা বেপর্দা হয়ে চলে বখাটে যুবক নামক মাছি তাদের অর্ধউলঙ্গ শরীর দেখে ভনভন করতে থাকে। তারা এদেরকে 1 time plateএর মত ব্যবহার করে ফেলে দেয়। এদের সাথে সবাই প্রেম করতে চায় । কিন্তু বিয়ে করতে চায়না। কিন্তু ছালওয়ালা কলা যেমন মানুষ অধিক দামে কিনতে চায় ঠিক তেমনি যে সকল নারী হিজাব পড়ে তাদেরকে ভালো ছেলেরা মোহরানা পরিশোধ করে বিয়ে করতে চায়। কি কথা ঠিক ? শ্রোতা ঠিক।
হুজুর : “সূরা নূর" এর ২৬ নং আয়াতে আল্লাহপাক বলেন, “দুশ্চরিত্রা নারীকুল দুশ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষকুল দুশ্চরিত্রা নারীকুলের জন্য। সচ্চরিত্র নারীকুল সচ্চরিত্র পুরুষকুলের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষকুল সচ্চরিত্রা নারীকুলের জন্য। তাদের সম্পর্কে লোকে যা বলে, তার সাথে তারা সম্পর্কহীন। তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক
জীবিকা ।”
হযরত (সাঃ) বলেন, 'মহিলারা শয়তানের ফাঁদ।' কাজেই আসুন আমরা নারীদেরকে পর্দায় রাখি। রাজী আছি না শ্রোতা : ইনশাআল্লাহ ।
ইনশাআল্লাহ ।
***
সিহাব একটু জোরেই ইনশাআল্লাহ বলল । নামাজ শেষে বের হয়ে আমরা কিছুক্ষণ আড্ডা দেই । আজ বের হয়েই স্বাধীন বলল মামা এগুলো প্রেম পীরিতি বাদ দিয়ে দেব। রাজীব বলল ওয়াজ শুনে তো মনে হয় ভালোই হয়ে যাই। কিন্তু সামনে যখন কোন সুন্দরীকে দেখি মাথা ঠিক রাখতে পারিনা । সিহাব বলল অধরা কাল আমার থেকে বোরকা কিনে চেয়েছে। ও এখন হিজাব পড়বে। দেখলিনা হুজুর কি বয়ান করল। তুই যদি অন্যের মোবাইল টিপিস তোর মোবাইলে দেখবি কেউ টিপতে টিপতে স্ক্রিনই ফেটে দিয়েছে। So, নিজে মোবাইল কিনে নিজেরটা বৈধভাবে টিপাটিপি করতে হবে। মাহমুদ বলল এখন চল, ক্ষুধা লাগছে। বিকেলে কফিশপে দেখা হবে।
***
হঠাৎ শুনলাম চৈতীর বিয়ে। চৈতী এ বিয়েতে মোটেও রাজী নয় । ছেলে কানাডাতে থাকে । প্রচুর অর্থ আছে সত্য কিন্তু মদ্যপ এবং দুশ্চরিত্র । তাই চৈতীর মত নেই । এ বিয়েটি মূলত চৈতীকে বাড়ী থেকে তাড়াবার জন্য ওর মামীদের কৌশল । কারণ চৈতী আর ওর মামাতো কোথাও বের হলে সবাই চৈতীর দিকেই চেয়ে থাকে। এজন্য ওর মামাতো বোন ওর প্রতি ভীষণ Jelous. ওদের ধারণা বাসায় চৈতী থাকলে ওদের ভালো বিয়ে হবেনা। সবাই এসে আগে চৈতীকে পছন্দ করবে। তাই ওকে আগে বাড়ী থেকে তাড়াতে হবে। যদিও চৈতীর মামার এ বিয়েতে আগ্রহ নেই। কারণ ছেলেটি দেখতে কালু মামা । অর্থাৎ কালো, মোটা এবং বয়সে অনেক বড় । চৈতীর অনেক স্বপ্ন ছিল। Graduation শেষ করবে । চাকরি করবে। ও বাধ্য হয়ে বিষয়টি ওর বান্ধবী অস্ত্রকে জানাল। অস্ত্রর মাধ্যমেই বিষয়টি আমরা জানতে পারি। প্রাইভেটে চৈতীর সঙ্গে দেখা। আমি চৈতীকে বললাম পড়া শেষে আগেই যাবিনা । তোর সাথে কথা আছে। প্রাইভেট
শেষে বাইরে এসে দেখি চৈতী মুখ মলিন করে বসে আছে। যেন রাজ্যের চিন্তা ওর উপর ভর করেছে। আমরা ছ'জন এবং ওর দু'জন বান্ধবী ছাড়া বিষয়টি কেউ জানেনা । আমরা এখন ওর কাছে। আমি বললাম চৈতী কি শুনতেছি। ও বলল ঠিকই শুনেছিস। তোর কি এ বিয়েতে মত আছে। মোটেই না। ইচ্ছে হচ্ছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্নহত্যা করি। কিন্তু আত্নহত্যা মহাপাপ । সিহাব হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে বলল চৈতী আমরা বেঁচে থাকতে এ বিয়ে কিছুতেই হতে পারে না । তুই তোর মামার বাসা থেকে চলে আয় । চৈতী : কোথায় যাব বল । আমাকে লেখাপড়া করানোর মত সামর্থ্য আমার
মায়ের নেই । আর শহরে আমার কোন থাকার জায়গাও নেই । মাহমুদ : তোর লেখাপড়ার খরচ চালানোর দায়িত্ব আমাদের। আমাদের দৈনিক চা-বিড়ি খেতে যা খরচ হয় তা দিয়ে তোর মত পাঁচজনের পড়াশোনার খরচ চলবে । সেই খরচ না হয় কিছুটা কমিয়ে দেব আমরা। তুই আমাদের ফ্রেন্ড।
চৈতী : আমি কারও করুনা নিয়ে বাঁচতে চাইনা। আমি গরীব সত্য কিন্তু আমার আত্মসম্মানবোধ আছে ।
মেহেদী : এটা করুণা নয় চৈতী। ফ্রেন্ড কি ফ্রেন্ডকে হেল্প করতে বা ধার দিতে পারেনা । তুই Established হয়ে আমাদের দিয়ে দিস। তোর মত Brilliant student টিউশনি করেও অনেক Earn করতে পারবে। তুই লেখাপড়া চালিয়ে গেলে তোর Future অনেক Brightহবে । চৈতী :কিন্তু আমি থাকব কোথায় ?
অস্ত্র : তুই আমার সাথে মেসে থাকবি । প্রয়োজনে আমার খাবার, জামা, বেড দুজনে ভাগ করে ব্যবহার করব। এরপরও কি তুই আমাদের পর ভাববি ।
চৈতী : তোরা সবাই অনেক ভালো রে। আমি তোদের ঋণ কখনো শোধ করতে পারবনা । Ok তাই হবে।
চৈতী : আজ মামা বাড়ী থেকে চলে আসবে। আসার সময় ওর মামাতো বোনকে বলতে গেলে ও মুখ ভেংচিয়ে বলল উম। তারপর ওর মায়ের কানের কাছে গিয়ে বিড়বিড় করে বলতে লাগলো আমি আগেই বলেছিলাম না ওর কোথাও ফষ্টিনষ্টি আছে। ওর মামীও গলা মিলিয়ে বলল, ঠিকই ঠিকই মাগী ভ্যাস ধরে থাকে। আর তলে তলে কত জায়গায় যে লাইন
করে রাখছে।
ওর মামার কাছে বিদায় নিতে গেলে ওর মামা চৈতীর মাথায় হাত রেখে বলল মা তুই আমাকে ভুল বুঝিস নে। আমারও এ বিয়েতে তেমন মত ছিল না। যেখানেই থাকিস নিজের প্রতি যত্ন নিস। ভালো করে পড়ালেখা করিস । আর মামাকে একেবারে ভুলে যাসনে। চৈতী ওর মামার গলা ধরে কেঁদে দিল । ওর মামাও চোখ মুছতে মুছতে বলল কিছু লাগলে জানাবি । ***
কিছু ব্যস্ততার কারণে অনেক দিন হলো রাজীবের গ্রামে যাওয়া হয়নি। কয়েকদিন হল দীনাকে ফোনেও পাচ্ছেনা। আজ খুব অস্থির লাগছে। রাজীব তাই দেরী না করে কাউকে না বলেই গ্রামে গেল। ওর মা ওকে দেখে বলল বাবা এতোদিন আসিসনি কেন ? মাকে একেবারে ভুলে গেলে চলে । তোর স্বাস্থ্যও কিছুটা খারাপ হয়ে গেছে। রাজীব মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। ও ওর বাবা-মার একটাই ছেলে। ওর একটা বড় বোন আছে বিয়ে হয়ে গেছে । তাই ওর বাবা-মা রাজীবকে খুবই ভালোবাসে। তাদের স্বপ্ন ছেলে লেখাপড়া শেষ করলেই সংসারের সকল দুঃখ ঘুচিয়ে যাবে। এভাবেই স্বপ্ন দেখতে দেখতে দিন কাটে রাজীবের বাবা-মায়ের। রাজীব বাবা-মায়ের
সঙ্গে দেখা করে বাড়ীর বাইরে গেল। কিন্তু আজ কেন জানি সব অন্য রকম লাগছে । রাজীব আসার সংবাদ পেলে দীনা তো এতোক্ষণ বাড়ীতে বসে থাকবার মানুষ নয়। নিশ্চয় ওর কিছু হয়েছে। হাঁটতে হাঁটতে রাজীব দীনাদের বাড়ীর দিকে গেল । রাজীবকে দেখেই দীনার ছোট বোন দৌড়ে এলো । ভাইয়া তুমি এতক্ষণে আসলে। এই বুঝি তোমার আসার সময় হলো । রাজীব আর দীনার সম্পর্কের কথা এই ছোট বোন ছাড়া গ্রামের আর কেউ জানত না । দীনা যখন দেখা করতে যেত সে ঘর পাহাড়া দিত। এবার রাজীবের কাছে এসে ও কাঁদো কাঁদো সুরে বলল, ভাইয়া হঠাৎ একদিন আমাদের বাসায় আমার খালাতো ভাইয়ের সাথে তার এক বন্ধু বেড়াতে এল। তাদেরকে খাওয়া-দাওয়া আমি আর দীনা আপুই করাচ্ছিলাম। হঠাৎ দীনা আপুকে ছেলেটির খুব ভালো লেগে যায় । ছেলেটি বড় সরকারী চাকরি করে। বাবার অবস্থাও বিশাল। আবার খালাতো ভাইয়ের বন্ধু ও আত্মীয় । সে সরাসরি দীনা আপুকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং বলে বিয়ে আজ রাতেই হবে। বাড়ীর সবাই ভাবলো সরকারী চাকরি তো সোনার হরিণ। ছেলেও দেখতে সোনার মত। আর সোনার কদর কে না করে। বাবা-মাও রাজী হয়ে গেল। দীনা আপু কিছু বুঝে ওঠার সময়ই পেলোনা। বারবার আমাকে বলছিল কিছু একটা কর। আর তোমার কথা বলছিল। একবার নদীতে ঝাপ দিতেও চেয়েছিল। কিন্তু আমি যেতে দেইনি । আমরা দু'বোনই সব-সময় পরিবারের সামনে ছিলাম। আমাদের ফোনগুলোও ছিল ভাইয়ার হাতে। কিভাবে যে সবকিছু এতদ্রুত হয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারলাম না। দীনা আপু যাবার সময় শুধু তোমাকে একটা চিঠি দিয়ে গেছে। রাজীবের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল । পাথরের মত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এতোক্ষণ সব শুনছিল । দীনার দেয়া চিঠিটি নিয়ে মূর্তির মত নদীর দিকে আসল ।
“রাজীব জানি না আমার চিঠি যখন তোমার হাতে পৌঁছাবে তখন আমি পৃথিবীতে থাকব কিনা। সত্যি বলতে কি জানো, মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সে হয়ে যায় খুব অসহায় । কিছুই করার থাকে না তার । মেয়ে হয়ে জন্মেছি, তাই মুখ বুঝে সব সয়ে যেতে হল । তুমি পাশে থাকলে হয়তো শেষ একটা চেষ্টা করতাম। আমি যে কতটা অসহায় আর নিরূপায় ছিলাম তা তোমাকে বোঝাতে পারব না । পারলে ক্ষমা করে দিও। নিজের যত্ন নিও। আর একটা কথা, যদি ইচ্ছে হয় নতুন কাউকে খুঁজে নিও । ইতি অপরাধী দীনা।”
রাজীব একবার নদীর দিকে তাকাচ্ছে, একবার আকাশের দিকে তাকাচ্ছে। আজও আকাশ আছে কিন্তু তাতে চাঁদ নেই। আজও নদী আছে তাতে ঢেউ নেই । আজও নদীর পাশে রাজীব বসে আছে কিন্তু কে যেন নেই । আচ্ছা, এটাই কি জীবন । মানুষের জীবন কি এরকমই হয়। রাজীবের মুখে কোন শব্দ নেই । নীরবে চোখ দিয়ে শুধু অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে ।গরমের দিনে শরীর ঘামলে কাপড় যেমন ভিজে যায়, আজ রাজীবের চোখের ও হৃদয়ের ঘামে তার পড়নের কাপড় তেমনি হয়েছে ।
***
ছেলে এতোদিন পর শহর থেকে আসল। কিন্তু বিকেল বেলা সেই যে বের হয়েছে সকাল হয়ে গেল বাড়ীতে এলোনা। রাজীবের মা চিন্তিত হয়ে বাড়ীতে বসে আছে । তার বাবাও কিছুটা অস্থির । ছেলের আসার কথা শুনে রাতে বাজার থেকে বড় মাছ এনেছে। মা কেটে সুন্দর করে রান্না করেছে । সকাল বেলা সূর্য উঠার পর রোদ যখন রাজীবের চোখের উপর এসে পড়ল তখন ওর ঘুম ভেঙ্গে গেল। উঠে যে দাঁড়াবে এতটুকু শক্তি ওর শরীরে নেই। অনেক চেষ্টা করে উঠে নদীতে হাত মুখ ধুয়ে বাড়ীতে গেল। বাবা-
মা যেন কিছু বুঝতে না পারে । নিজে যা কষ্ট পেয়েছে তার ভাগ আর বাবা- মাকে দিতে চায় না ও ওর মা ওকে দেখেই ছুটে এলো । মা : বাবা সারাদিন কোথায় ছিলি ?
রাজীব :মা বন্ধুদের সাথে সাথে আড্ডা দিতে দিতে রাতে আর ঘরে ফেরা
হয়নি । অনেকদিন পর বাড়ীতে এসেছি তো । তাই । মা তোর চোখ মুখ অমন দেখাচ্ছে কেন ?
রাজীব : সারারাত তেমন ঘুম হয়নি তো। একবেলা ঘুমালেই ঠিক হয়ে যাবে।
মা : যা হাত মুখ ধুয়ে আয় তাড়াতাড়ি। তোর বাবা রাতে না খেয়ে আছে তোর জন্য । মায়ের
রাজীব ভাত নিয়ে নাচোড়ে, মুখেও দেয় কিন্তু গলা দিয়ে নামেনা। খুশির জন্য অনেক চেষ্টা করে কিছুটা খেয়ে নিল ।
***
দিনদিন রাজীব কেমন যেন আনমনা হয়ে যাচ্ছে। শরীর অর্ধেক হয়ে গেছে। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম কিছুই ঠিক নেই। আবার শহরেও যাচ্ছেনা। বাইরে বন্ধুদের সাথেও তেমন আর মিশে না। সবসময় প্রায় একা একা থাকে আর কি যেন ভাবে। আর মাঝে মাঝে উদাস ভঙ্গিতে আকাশের দিকে চেয়ে থাকে। ছেলের মতিগতি দেখে একদিন তার মা তাকে একা একা ডেকে বলল বাবা সত্যি করে বলতো তোর কি হয়েছে। আমি তো তোকে পেটে ধরেছি। তোর কিছু একটা নিশ্চয় হয়েছে। না মা কিছুই হয়নি । অনেকদিন হলো বন্ধুদের সাথে দেখা নেই তো তাই। এভাবে পাশ কাটিয়ে যাবার চেষ্টা করে রাজীব। মাঝে মাঝে যখন তার খুব খারাপ লাগে নদীর পাড়ে গিয়ে একা একা বসে থাকে। আজও বিকেলে রাজীব নদীর দিকে যাচ্ছিল । পথে হঠাৎ দীনার বাবার সঙ্গে দেখা। দীনার বাবা বাজার
থেকে ফিরছিল । হাতে একটা বিশাল বোয়াল মাছ। রাজীবকে দেখে বলল কি বাবা কেমন আছ ?আর আমাদের বাড়ীতে বেড়াতেও আসো না । শুনছ মনে হয়, দীনার তো হঠাৎ বিয়ে হয়ে গেল। ছেলেদের বিরাট অবস্থা । ছেলেও চাকুরে । সব আল্লাহর ইচ্ছা। রাজীব আস্তে করে বলল, খুব ভালো হয়েছে চাচা। রাজীব নদীর পাড়ে একা একা বসে আছে। আর অতীতের স্মৃতি স্মরণ করছে । হঠাৎ পেছনে একটা হর্ণ বাজল । তাকিয়ে দেখে একটা কার । গতকাল বৃষ্টি হয়েছে প্রচুর। যেহেতু গ্রামের রাস্তা তাই এমনভাবে কাঁদা জমে গেছে গাড়ী আর একফুট সামনেও যাচ্ছে না। হঠাৎ গাড়ী থেকে একটা কোর্ট টাই পড়া ভদ্রলোক নামল । তার হাতে কয়েকটি ব্যাগ । একা একা সব নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। পাশে কোন ভ্যান রিক্সাও নেই। শুধু একটা ছেলেকে রাস্তার পাশে দেখতে পেল। তারপর ভদ্রলোক রাজীবের কাছে এসে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলল, ভাইয়া একটু হেল্প করবেন? আমাদের গাড়ী তো সামনে আর যাচ্ছে না। এতগুলো ব্যাগ একা একা নিয়ে যেতে পারছিনা । রাজীব বলল ঠিক আছে আমাকে কিছু দেন। সমস্যা নেই । কার বাসায় যাবেন ?দীনাদের বাসায়। হঠাৎ আঁতকে উঠল রাজীব। গাড়ীর দিকে তাকিয়ে দেখে দীনা গাড়ী থেকে নামছে । দু'জনার কিছুক্ষণ তাকাতাকি হয় । দীনা কিছুটা ভড়কে যায় । কয়েকদিনে কিছুটা মোটা হয়ে গেছে । দীনাকে আজ আরও বেশী সুন্দর দেখাচ্ছিল । নতুন শাড়ী, চোখে সানগ্লাস, সারা শরীরে স্বর্ণের গহনা। যেনো রাজরানী। গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে তিনজন হেঁটে যাচ্ছে। একপাশে রাজীব অপর পাশে দীনা মাঝখানে নতুন জামাই । আজ রাজীব আর দীনার মাঝে কত বড় দেয়াল উঠে গেছে। দীনা কিছুটা ঘামতে শুরু করেছে। রাজীব অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে রেখেছে । মাঝে মাঝে শুধু দু'একবার অভিমানের চাহনি দিচ্ছে । সে যেন দীনাকে বলতে চাচ্ছে কি অপরাধ ছিল আমার ? বেশ সুখেই তো আছ
আর আমার দিকে একটু চেয়ে দেখো। যদি আমার ভেতরটাও একটু দেখতে । নতুন জামাই মাঠের দিকে চেয়ে মাঝে মাঝে বলে উঠছে What a charming natural scenary, দীনাদের বাড়ীর উঠানে আসতেই দীনার বাবার সাথে দেখা হয়ে যায়। নতুন জামাই বিয়ের পর এই প্রথম শ্বশুর বাড়ীতে এসেছে। শ্বশুর আনন্দে আত্নহারা প্রায়। দীনার বাবা রাজীবকে এক প্রকার জোর করেই বাড়ীর মধ্যে নিয়ে গেল। রাজীবের হাতে ব্যাগ ছিল। ওগুলো ফেলে চলেও আসতে পারছে না। নতুন জামাই ঢাকার একজন আধুনিক মানুষ। প্রথমে সবাই গেষ্টরুমে ঢুকলো। রাজীব গেষ্টরুমে বসা আছে । অপর পাশে জামাইবাবু আর দীনা। জামাই বলল গরম লাগছে । দীনা Coat টা খুলে দাও তো। দীনা স্বামীর Coatখুলে দিচ্ছে । রাজীব চেয়ে চেয়ে দেখছে। জামাইবাবু ঢাকা থেকে মিষ্টি এনেছে । মিষ্টির প্যাকেট খুলে রাজীবকে নিতে বলল । Formality maintain এর জন্য রাজীব এক পিছ নিল । জামাইও একটি মুখে দিল । তারপর প্যাকেট থেকে একটি মিষ্টি তুলে দীনাকে খাইয়ে দিল । রাজীবের মুখে দীনার স্বামীর দেয়া মিষ্টি আর অন্তরে দীনার দেয়া তিক্ততা। দীনার ছোট বোন সব চেয়ে চেয়ে দেখছিল । সহ্য করতে না পেরে সে বাইরে এসে একা একা কেঁদে দিল ।
***
রাজীব এখন বেশীরভাগ সময় নদীর পাড়েই কাটায় । একদিন রাতে নদীতে বসে বসে চাঁদ দেখছিল । হঠাৎ দেখে নদীর মাঝে কেমন যেন একটা ডিঙ্গি নৌকার মত ভাসছে । নৌকাটিতে দু'জন মানুষ বসে আছে । নৌকাটি একটু কাছে আসলে ভালোভাবে চেয়ে দেখে নৌকাতে দীনা বসে আছে। আর পাশের মানুষটি তার স্বামী। আজ তার পাশে রাজীব নয় অন্য কেউ । সে মাঝে মাঝে নদীর পানি হাতের চোয়ালে উঠিয়ে দীনার চেহারার দিকে
ছিটিয়ে দিচ্ছে। আর দীনা হেসে উঠছে। রাজীব চেয়ে দেখছে আর ভাবছে এটাই কি প্রেম !
***
গ্রামে আর ভালো লাগছেনা রাজীবের । সে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে । আর পারছে না। আবার শহরেও যেতে ইচ্ছে করছে না। রাজীবের বাড়ীর পাশেই মহাস্থানগড় (পুন্ড্রনগর) নামে একটা জায়গা আছে। এর পাশ দিয়ে করতোয়া নদী বয়ে চলেছে । মহাস্থানগড় একসময় বাংলার রাজধানী ছিল । মহাস্থান গড়ের পাশেই বহুল আলোচিত বেহুলার বাসরঘর। মহাস্থানে প্রাচীন অনেক ঐতিহ্য রয়ে গেছে। এখানে একজন মহান সাধকের মাজার আছে। শাহ্ সুলতান মাহমুদ বলখী (রহঃ)। উনি একসময় বলখ রাজ্যের বাদশাহ ছিলেন । জীবনের এক পর্যায়ে বাদশাহী, রাজত্ব, সব বিসর্জন দিয়ে খোদায়ী প্রেমের নেশায় মত্ত হয়ে উঠেছিলেন । পরবর্তীতে দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে মাছের উপর সওয়ার হয়ে মহাস্থান গড়ে আগমন করেন । তাই তাকে বলা হয় মাহী সওয়ার। রাজীব মাঝে মাঝে আগে থেকেই তার মাজারে আসতো। এখন রাজীব এখানেই বেশী সময় কাটায়। এখানে আসলে কিছুটা হলেও মানসিকভাবে স্বস্তি পায়। নিজেকে কিছুটা হালকা মনে হয় । মনে অনেকটা প্রফুল্লতা কাজ করে । সে যে ক্ষুদ্র এক নারীর প্রেম থেকে বঞ্চিত হয়ে মহান স্রষ্টার ঐশিপ্রেমে বিভোর হয়ে গেছে। এ কয়েকদিনে ওর চেহারাও কিছুটা ভালো হয়েছে। রাজীব এখন নিয়মিত নামাজ পড়ছে । ছোট ছোট দাড়িও উঠতে শুরু করেছে । মাজার মসজিদের ইমাম সাহেবের তেলাওয়াত রাজীবকে খুব আকৃষ্ট করে। রাজীব ইমাম সাহেবের কাছে কুরআন পড়তে শুরু করেছে। তার কাছ থেকে নামাজের প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুনও শিখছে । কয়েকদিনে হুজুরদের সাথে ওর ভালো সম্পর্ক হয়ে গেছে ।
***
মাজারে মোসলেম ভাই নামে এক ব্যক্তির সাথে রাজীবের পরিচয় হয়। রাজীব তার সাথে মাঝে মাঝে রাতে থাকে। মোসলেম ভাই এর জীবনেও বিশাল ইতিহাস রয়েছে। একসময় সে ঢাকায় চাকরি করত। মাসে মাসে বাড়ীতে স্ত্রীর কাছে আসত। তার স্ত্রী ছিল গ্রামের সেরা সুন্দরীদের একজন । গ্রামের এক লম্পট ছেলের কু-নজর পড়ে তার স্ত্রীর প্রতি । প্রথমে প্রথমে তার স্ত্রী পাত্তা দিত না। কিন্তু ছেলেটি মাঝে মাঝে তাদের বাড়ীতে যাতায়াত করত। বিভিন্ন খাবার আর কসমেটিকস্ এনে মোসলেম এর স্ত্রীকে দিত । অনেকে কিছুটা সন্দেহও করত কিন্তু কিছু বলার সাহস পেত না। মাঝে মাঝে ঘরে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প করত। এতদিনে মোসলেমের স্ত্রীও লোকটার প্রতি বেশ দূর্বল হয়ে পড়ে। লোকটি তাকে বিভিন্ন ভাবে কু-প্রস্তাব দিতে শুরু করে। প্রথমে প্রথমে না করলেও পরে আর তেমন কিছু বলত না। ফলে সে অবাধে তার ঘরে যাতায়াত করত। যা ইচ্ছে করত । পরে যখনই বাড়ী ফাঁকা হত মেয়েটিই লোকটিকে ফোন দিয়ে ডেকে নিত। পরিস্থিতি এমন গড়াল যে রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ত লোকটি নীরবে মেয়েটির ঘরে চলে আসত। আবার শেষ রাতে বের হয়ে যেত । শেষ পর্যন্ত মেয়েটিই ছেলেটিকে চাপ দিতে শুরু করে আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও। আমি তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে পারব না। আমাকে নিয়ে অনেক দূরে চলে যাও। আমি গহনাপাতি, টাকা-পয়সা যা কাছে সব তোমাকে দিয়ে দিব। তবুও তুমি আমার চাহিদা পূরণ কর। এ লুকোচুরি আর ভালো লাগেনা । একদিন রাতে সত্যিই সবাইকে ফাঁকি দিয়ে মেয়েটি অজানার পথে পাড়ি জমায়। পরে জানা যায় লম্পট ছেলেটি কিছুদিন মেয়েটিকে ব্যবহার করে একটি অসাধু চক্রের হাতে তুলে দেয় । হয়তো সে এখন নিষিদ্ধ পল্লীর একজন। কাহিনী বলতে বলতে মোসলেমের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। ঐ ঘটনার পর থেকে সে আর
ঘর বাঁধেনি। একাকিত্বের যন্ত্রণা তাকে কুড়ে কুড়ে কষ্ট দিত । তারপর এ মাজারে এসে ইবাদত বন্দেগী শুরু করে। রাজীবও তার কাহিনী মোসলেম ভাইকে শোনায়। শেষে মোসলেম ভাই আফসোস করে বলতে থাকে নারী জাতি এরকমই । আবার বলে দোষ অবশ্য আমারও ছিল। আমার সুন্দরী স্ত্রীকে তো আমার পর্দায় রাখা উচিত ছিল । আমি তা করিনি বলেই মনে হয়। আজ আমাকে এই পরিণতি ভোগ করতে হলো ।
***
আমরা বন্ধুরা মিলে নিয়মিত বিকেলে কফিশপে আড্ডা দেই। কিন্তু আজ অনেকদিন হল রাজীবকে পাওয়া যাচ্ছে না। তার ফোনও বন্ধ। বাড়ীতে গেলে তো কখনো ও এতোদিন থাকে না। কোনদিন ও আমাদের ছাড়া এতোদিন থাকেনি। আবার ফোনেও কোন যোগাযোগ নেই। যত কিছুই হোক অন্তত একটা ফোন তো করবে । সিহাব : রাজীবের কোন বিপদ হল না তো ।
মাহমুদ: হতেও তো পারে ।
আমি বললাম যেহেতু অনেকদিন হয়ে গেল, আবার ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আমার মনে হয় আর দেরী না করে আমাদের তার গ্রামের বাড়ীতে যাওয়া উচিত। আসলে ব্যাপারটা কি ? মেহেদী বলল সুলতান ঠিকই বলেছে । এখনইTour এর Planকর ।
সবাই বললOk আগামীকাল সকালেই আমরা রওনা হচ্ছি ।
স্বাধীন :কিন্তু ওর বাড়ীর Full adress তো আমরা কেউ জানিনা । যাবি
কিভাবে ?
মাহমুদ : ভার্সিটির Form থেকে ওর Main adress সংগ্রহ করতে হবে।
সিহাব : Good idea. তাহলে মেহেদী আর স্বাধীন এখम ा। কাল সকালেই আমরা যাব। অফিসে গিয়ে রাজু ভাইকে বললেই দিয়ে দেবে।
মাহমুদ। কিন্তু কাল আমরা যাব কিসে ?
সিহাব কেন বাসে ।
মাহমুদ । দেখ বাস কখন ছাড়ে তার ঠিক নেই। তাছাড়া রাজীবের বাড়ীতে যেতে মেইন রোড থেকে তো অনেক ভিতরেও যাওয়া লাগতে পারে। তাই আমার মনে হয় একটা Noah গাড়ী নিলেই ভালো হবে। সুলতানের তো Rent a Car এর সাথে ভালো সম্পর্ক আছে। ফোন দিলেই গাড়ী পাঠিয়ে দেবে।
সিহাব : আরে সুলতানেরই কি শুধু একাRent a Car এর সাথে ভালো সম্পর্ক আছে আমার নেই। ও গেলে বেশী দাম নেবে আমি গেলে আরও কম দামে গাড়ী আনতে পারব। তাই বলেই সিহাব Rent a Car এ ফোন দিল। দুলাল মামা কেমন আছ? গতবার তো গাড়ী একটা দিছলা ফাটাফাটি । আগামীকাল সকালে একটা Noah গাড়ী লাগতেছে । টাকা যা দেব তাই নেওয়া লাগবে ।
দুলাল ঠিক আছে মামা আপনার সাথে টাকা নিয়ে বাজবে না। কাল সকালে গাড়ী চলে যাবে।
সকাল বেলায় সূর্যোদয়ের পূর্বেই আমরা রওনা দিয়ে দিব । এসময় একটু ঠান্ডা ঠান্ডা থাকে । কিন্তু সিহাব এখানো আসেনি । ওর সব সময়ই Late. স্বাধীন মনে হচ্ছে সালার বিছানার উপর এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে আসি ।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ও চলে আসে। চেয়ে দেখি ভালোভাবে মাথা আঁচড়ানোরও সুযোগ পায়নি। আমি বললাম তাড়াতাড়ি ওঠ দেরী হয়ে
যাচ্ছে । গাড়ী দুই ঘন্টা চলতে চলতেই বন্ধ হয়ে গেল । স্টার্ট নিচ্ছে না । অনেক কষ্ট করে ধাক্কাধাক্কি করার পর স্টার্ট নিলেও কিছুক্ষণ পর আবার বন্ধ হয়ে গেল । এভাবে তিনবার হবার পর স্বাধীন ক্ষেপে গিয়ে Driverকে বলল এই মিয়া গাড়ী তেল দিয়ে চালাও না পানি দিয়ে । Driver : মামা আমার কি দোষ মহাজনকে বলেন ।
স্বাধীন : এই গাড়ী কালকে কে ভাড়া করছে ?
সিহাব :
আমি ।
স্বাধীন : তাইতো বলি । আরে মিয়া যে কাজ মাড়াবার পারো না সেটা করতে যাও কেন । এরচেয়ে তো ঠেলাগাড়ীতে যাওয়া ভালো ছিল । ভাগ্যিস তোকে কারো বিয়ের গাড়ী ঠিক করতে বলেনি। তারপর অবশ্য গাড়ী আর থামেনি ।
মেহেদী বলল,সুলতান ভীষণ ক্ষুধা লাগছে। কোথাও স্টপেজ দিতে বল । তারপর একটি রেস্টুরেন্টের সামনে গাড়ী থামানো হল । ওয়েটার আমাদের সবাইকে মাগুর মাছের ঝোল দিয়ে ভাত দিল। হঠাৎ স্বাধীনের প্লেটে একটা চিংড়ি মাছের মত কি যেন দেখা গেল। ও বলল কিরে মামা মাগুর মাছের মধ্যে আবার চিংড়ি মাছ কোথায় থেকে এলো । সিহাব : মনে হয় মাগুর মাছের পেটের মধ্যে ছিল । বাচ্চা মাছ ।
স্বাধীন ভালোভাবে চেয়ে দেখে চিংড়ি মাছ নয় তেলাপোকা মরে আছে । তারপর চিৎকার করে ওয়েটারকে ডাকল। এই ওয়েটার তোর কাছে কি মাগনা খাবার খেতে আসছি। এটা কি? তোর ম্যানেজার কই?আজ মাগুর মাছ তোকে ভাজি করে খাওয়াবো ।
ওয়েটার :মামা ভুল হয়ে গেছে। ম্যানেজার দেখলে বকাবকি করবে। মারতেও পারে। থামেন আমি আপনাকে একটা রুই মাছের মাথা এনে দিচ্ছি।
স্বাধীন : আমি তোর মাথা খাব । তাড়াতাড়ি ম্যানেজারকে ডাক । মাহমুদ : এই স্বাধীন বাদ দে।
হাতে সময় নেই । এই ওয়েটার প্লেটটা Change করে দে। জিজ্ঞেস করতে করতে অনেক কষ্টে আমরা রাজীবের বাড়ী পৌঁছাই। রাজীবের মা আমাদেরকে দেখে খুব খুশি হয়। আমাদের আপ্যায়ন করেন। তারপর বলেন বাবা তোমরা কি জানো ওর কি হয়েছে । ও এরকম হয়ে গেল কেন?
বলতে বলতে চাচী কেঁদে ফেললেন । মেহেদী :চাচী আপনি কাঁদবেন না। আমরা যখন আসছি সব ঠিক হয়ে যাবে।
মাহমুদ আমাদের ডেকে বলল আগে দীনার বাড়ী খুঁজে বের করতে হবে । তারপর আসল রহস্য জানা যাবে। কিন্তু সবাই ওখানে একসঙ্গে যাওয়া যাবেনা । So আমি আর মেহেদী যাচ্ছি। তোরা সাইডে কোথাও থাকবি। Ok. তারপর মাহমুদ অনেক কষ্ট করে দীনার বাড়ী পর্যন্ত গেল । কিন্তু কার সঙ্গে কথা বলবে। কাউকে দেখাও যাচ্ছেনা। ও দীনাকেও কখনো দেখেনি। শুধু রাজীবের কাছে ওর গল্প শুনেছে। ওর একটা ছোট বোন আছে তাও জানত ।.......................
অন্ধকার থেকে আলো -১, এখানে ক্লিক করুন


কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন