রহস্য
রহস্য
লো কটা ঢ্যাঙা। নিরেট ফ্যাকাসে মুখ। ঈগলের মত চোখ দুটোতে জ্বলজ্বল করছে জিঘাংসা। ঠিক যেন ফিল্মের ভাড়াটে খুনে মাস্তান । ওকে ভেতরে ঢুকতে দেবে কিনা, ভাবল মির্না। পরক্ষণেই আবার মনে হলো, কারও চেহারা নিয়ে দুশ্চিন্তা করাটা বোকামি। ‘আসুন, মিস্টার মূর,' নিরুত্তাপ গলায় বলল । ভেতরে ঢুকেই গোটা ড্রইংরুমটায় দ্রুত নজর বোলাল লোকটা। দরজা বন্ধ করে ওকে বসতে বলল মিনা ।
মাথা নাড়ল লোকটা। ‘বেশিক্ষণ থাকব না এখানে। জরুরি কথাটা শেষ করেই চলে যাব। আর শুরুতেই বলে রাখি, ফোনে আপনাকে সত্য কথাটা বলিনি।'
ভুরুজোড়া কুঁচকে গেল মির্নার। ‘কোনও সাংঘাতিক ব্যাপার?' ‘কৌতুক নিশ্চয়ই নয়। আর শুনুন, আমার নাম মূর নয়। আসল নামটা আমি বলছি না।' মির্নার উজ্জ্বল সুন্দর মুখে জেগে উঠল শঙ্কা। গম্ভীরভাবে দেখতে লাগল লোকটাকে ।
“ঠিক কী কাজে এসেছি বলার আগে একটা ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা আপনাকে জানাতে চাই । আপনার অভিনীত প্রতিটি নাটক আমি দেখেছি, মিস মির্না। আমার মনে হয়েছে, মঞ্চের সেরা
অভিনেত্রী আর সবচেয়ে সুন্দরী নারী
আপনিই।'
'এটা যদি আমার অটোগ্রাফ নেবার
কোনও কৌশল হয়.... 'না।' মির্নাকে থামিয়ে দিল লোকটা। "আমি চাই না আপনি আমাকে ভয় পান। ভয় আপনি অবশ্যই পেতেন যদি আপনার ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা বলার আগে আমি জানাতাম কেন আমি এসেছি। শুধু এটুকু জানুন, আমার দ্বারা আপনার কোনও ক্ষতি হবে না
অবাক হলো মির্না। 'আমার ক্ষতি করার
প্রশ্ন কেন আসছে?'
'এটাই আমার কাজ,' শুকনো গলায় বলল
লোকটা। আমি যে সংগঠনের সাথে জড়িত
তার কাজ হলো, ভাড়ায় খুন করা।”
মিনার চোখ ছানাবড়া হয়ে উঠল। "আপনি বলতে চান, আমাকে খুন করার জন্য আপনাকে ভাড়া করা হয়েছে?'
“হ্যাঁ। তবে আমি এটা করতে চাই না।' 'কে চায় আমাকে খুন করতে?"
"আমার মনে হয়, আপনি জানেন।
আমাকে কাজটা করতে বলা হয়েছে। কারণ
বলা হয়নি।'
মির্না একটা সিগারেট ধরাল। বলল, 'এসব বলে আপনি ঝুঁকি নিচ্ছেন কেন? আপনার সংগঠন কি খেপে যাবে না আপনার উপর?'
'ওরা এটা জানবে না।'
"যদি পুলিশ ডেকে প্রোটেকশন চাই, তখন কি জানবে না?' “সেক্ষেত্রে সম্ভবত আমাকে মেরে ফেলা
হবে। আপনি অতটা অকৃতজ্ঞ হবেন, আমি
মনে করি না।'
মির্নার চোখে-মুখে সংশয় ও দ্বিধার ছাপ ফুটে উঠল। লোকটার এখানে আসার আসল উদ্দেশ্য কী, বুঝতে পারছে না ও। 'আপনি ঝুঁকিটা নিচ্ছেন, এর কারণ কি শুধু এই যে, আপনি আমার ভক্ত?' 'এর চাইতেও বেশি।'
“তাই? কীরকম?"
‘আপনাকে ভালবেসেছি গত পাঁচ বছর ধরে,' শান্তভাবে বলল লোকটা। তবে এতে আপনার আপসেট হবার কিছু নেই। কারণ, আমি আপনার শারীরিক নৈকট্য কখনও প্রত্যাশা করিনি। আপনাকে বিরক্ত করার কোনও পরিকল্পনা আমার নেই। এখান থেকে বিদায় নেবার পর আপনি আর কখনও আমাকে দেখতেও পাবেন না। আমি শুধু চাই আপনি বেঁচে থাকুন।
লোকটাকে নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবল মির্না। তারপর বলল, 'ভাল লাগছে আপনার কথা শুনে। মনে হয় আমার ভাগ্যটাও ভাল। কিন্তু আপনাকে দেখে পাকা খুনির মতই লাগছে।' 'খুন আমি করি,' ঠাণ্ডা গলায় বলল লোকটা।
সিগারেটে জোরে একটা নার্ভাস টান দিয়ে ওটাকে অ্যাশট্রেতে গুঁজে দিল মির্না। বলল, 'খুনের পরিকল্পনার ব্যাপারে আপনি বিস্তারিত কিছু জানেন না?
“না। তবে একটা শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে আমার কাজে। বলা হয়েছে, আপনাকে অনুসরণ করব আমি। যদি আজ রাতে আপনি ফ্রান্সগামী বিমানে চড়েন তা হলে আপনার ব্যাপারে আমাকে আর কিছুই ভাবতে হবে না। যদি তা না করেন, তবে...'
'ম্যাক্স ফেনার।' ঠোঁটে ঠোঁট চেপে মির্না বলল। 'নাট্য প্রযোজক?' জিজ্ঞেস করল
লোকটা।
মাথা ঝাঁকাল মির্না। 'আমি জানতাম সে আমাকে ঘৃণা করে । কিন্তু এতদূর যাবে বুঝতে পারিনি। লোকটা নিশ্চয়ই পাগল।'
কী অভিযোগ ওর আপনার বিরুদ্ধে? 'নিজের সিদ্ধান্তে নিজেই বিপাকে পড়েছে
ও। হিসহিসিয়ে বলল মির্না। ওর নতুন নাটকে প্রধান ভূমিকাটা চাই আমি। কিন্তু ও চুক্তি করেছে জোর্ডানের সাথে। চুক্তির খেলাপ হলে জোর্ডান ওকে ন্যাংটো করে ছাড়বে, ও জানে। কিন্তু জোর্ডানের চেয়ে আমার ক্ষমতা
বেশি। আমার কথা না মানলে ওকে এরচেয়ে চড়া মূল্য দিতে হবে।
'সংবাদপত্রে দেখলাম, ফ্রান্সে কোনও একটা ছবির কাজ আছে আপনার?'
মির্না অসহিষ্ণু ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল। 'ম্যাক্সের নাটকে প্রধান ভূমিকার তুলনায় ওটা নস্যি। ম্যাক্স জানে, ফ্রান্স যাওয়ার কোনও ইচ্ছে এ মুহূর্তে আমার নেই। গতকাল ওকে বলেছি, যদি আজ সন্ধ্যার আগেই আমার সাথে চুক্তি না করে, তবে আমি ওর স্ত্রীর সাথে কথা বলব।'
‘আপনি কি ম্যাক্সকে ব্ল্যাকমেইল করতে চাইছেন?'
'এটা একটা ভয়ানক প্রতিযোগিতার জগৎ, মিস্টার। যে কোনও মূল্যে আপনাকে চূড়ায় উঠতে হবে। লিণ্ডা জোর্ডানের সাথে চুক্তিটা ভেঙে দিয়ে যদি ও আমার সাথে চুক্তি না করে, আমি ওর বিয়েটাই ভেঙে দেব। ব্রডওয়েতে এমন কোনও অভিনেত্রী নেই যে ওপরে ওঠার জন্য তার পজিশনকে ব্যবহার করে না । এটা অনৈতিক কিছু নয়। কারণ নাট্য ব্যবসায় অনৈতিক বলে কিছুই নেই।'
'এটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু একটা বিষয়ে আপনাকে সতর্ক করে দিতে চাই।' 'কী?'
“আমার কাজটা আমি করছি না, তা ঠিক। কিন্তু আপনি রেহাই পাচ্ছেন না। সংগঠন অন্য কাউকে এ দায়িত্ব দেবে এবং সে হয়তো আমার মত আপনার গোপন ভক্ত হবে না।'
ভয় পেল মির্না। 'তার মানে ওরা আমাকে ছাড়বে না?' 'না।'
'আমি
পুলিশ
প্রোটেকশন
চাইলে
সংগঠনের লোকেরা কি আপনাকে হত্যা করবে?'
'আমার কথা বাদ দিন। পুলিশ প্রোটেকশন আপনার জীবন রক্ষা করতে পারবে না। হয়তো আজ রাতে আপনি বেঁচে যাবেন। কিন্তু পুলিশ তো চিরদিন আপনাকে পাহারা দিতে পারবে না। সংগঠনের লোকেরা ঠিকই আপনাকে বাগে পেয়ে যাবে একদিন। আর আমার ধারণা, পুলিশ আপনাকে বিশ্বাস করবে না। তারা ভাববে, এটা আপনার নিজের নাম প্রচার করার একটা কৌশল ।'
নার্ভাস মির্না আরেকটা সিগারেট ধরাল। কিন্তু সাথে সাথে আবার অ্যাশট্রেতে গুঁজে দিল সেটা। বলল, 'তা হলে আমার কী করা উচিত বলে আপনার মনে হয়?'
“আপনি যদি ফ্রান্সগামী বিমানে চড়ে বসেন, তা হলে সব ল্যাঠাই চুকে যাবে। আমি শুধু বলে দেব, আপনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন, ব্যস।'
“আমার অভিনয় জীবনের সেরা সুযোগটা তা হলে হাতছাড়া করে দেব?'
‘আমার সংগঠনটা খুই দক্ষ। মর্গে গিয়ে আপনি তারকাখ্যাতি পাবেন না।'
মিনা আগু-পিছু পায়চারি করতে লাগল । ‘ধরুন, আমি আপনাকে বডিগার্ড হিসেবে নিলাম?'
হাসল লোকটা। তা হলে আমরা দু'জনেই একসাথে ওদের টার্গেট হব।'
পায়চারি থামিয়ে আরেকটা সিগারেট হাতে নিল মির্না । কিন্তু আগুন না ধরিয়ে আবার যথাস্থানে রেখে দিল। বলল, 'তা হলে কোনও সুযোগই নেই আমার?'
ধীরে মাথা নাড়ল লোকটা। 'না, নেই।'
ঠোঁট কামড়ে মিনা বলল, প্লেনে চড়লেই সব ঝামেলা চুকে যায়?'
'হুঁ। ফ্রান্সে আপনি একেবারেই নিরাপদ। "আচ্ছা। ঠিক আছে। আপনার লোকদের জানিয়ে দিন যে আমি ফ্রান্সে যাচ্ছি।'
লোকটার নিরেট কঠিন মুখে স্বস্তির হাসি ফুটল। 'ধন্যবাদ, মিস মিনা কালভার্ট। আমরা দু'জনেই তা হলে নিরাপদ থাকব।'
ফ্যাকাসে মুখ, ঢ্যাঙা লোকটা যখন ম্যাক্স ফেনারের অফিসে ঢুকল, হোঁৎকা মোটা টেকো- মাথা প্রযোজক স্তর দিকে উদ্বিগ্ন চোখ মেলে তাকাল। বলল, 'কী খবর, জন?'
'খুব সহজেই কাবু।' চেয়ারে বসতে বসতে বলল লোকটা। 'আজ রাতেই প্লেনে চড়ছে ও।'
“তোমার অভিনয়টা ধরতে পারেনি? “আমার অভিনয়ে কোনও খুঁত নেই।' গোমড়া মুখে বলল লোকটা।
"তোমাকে চিনতে পারেনি তো? “কী করে চিনবে? ব্রডওয়ের বাইরের জগৎ সম্পর্কে ও কিছুই জানে না। শুধু টোপ নয়, বড়শিটাও মুখে পুরেছে ও।'
ম্যাক্স ফেনার স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ল। *একটা বোঝা নেমে গেল আমার মন থেকে। ওই টেপ রেকর্ড যদি ও আমার স্ত্রীকে বাজিয়ে শোনাত...' শরীর জুড়ে একটা ভয়ের শিহরণ অনুভব করল ম্যাক্স। কোনও উচ্চাভিলাষী অভিনেত্রীর সাথে প্রেমের ব্যাপারে খুব সাবধানী হওয়া দরকার, জন।'
"আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার সুযোগ আমি
কাউকে দিচ্ছি না,' বলল লোকটা।
'হুঁ, আমার মত সমস্যা অবশ্য তোমার
নেই। এবার এয়ারপোর্টে উপস্থিত থেকে
দেখবে, ও মত বদলেছে কিনা।
'অবশ্যই। রাত নয়টার দিকে ফোন
কোরো আমার বাসায়। আমি ততক্ষণে
এয়ারপোর্ট থেকে ফিরে আসব।'
মাথা নাড়ল ম্যাক্স। 'তাই হবে, জন। যে-
মুহূর্তে তুমি আমাকে সুখবরটা জানাবে, আমার
নতুন নাটকে অভিনয়ের সুযোগটা পাবে
তক্ষুণি।'
রাত নয়টায় ফোন করল ম্যাক্স। বলো, ক খবর?' 'ও চলে গেছে।' অপর প্রান্ত থেকে জবাব
দিল জন ব্লেইক। 'তোমাকে আগেই বলেছি,
দুশ্চিন্তার কিছু নেই।'
“চমৎকার।' ম্যাক্স ফেনারের কণ্ঠে স্বস্তি *আগামীকাল চলে এসো আমার অফিসে। চুক্তি সই কোরো।'
মনের আনন্দে একটা সিগারেট. ধরাল ম্যাক্স। ঠিক তখনই ওর ফোন বেজে উঠল।
'হ্যালো।'
“আমি হাওয়ার্ড স্মিথ। একটা গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ আছে আপনার জন্য।' 'কী ধরনের মেসেজ?' সন্দিগ্ধ কণ্ঠে
জানতে চাইল কেনার।
“ফোনে নয়। মুখোমুখি হয়ে জানাতে চাই। আসব?”
"ঠিক আছে। ঠিকানা জানো?' 'জানি। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই আসছি -আমি ।
ঠিক পাঁচ মিনিট পর ডোরবেলটা বাজল। দরজায় দাঁড়িয়ে আছে গাবলু গুবলু মধ্যবয়সী একটা লোক। গোলগাল, উজ্জ্বল মুখ। 'মিস্টার ফেনার?' জিজ্ঞেস করল
লোকটি। “হ্যাঁ। মিস্টার হাওয়ার্ড স্মিথ?' মাথা দোলাল লোকটি। ফেনার ওকে
ভেতরে ঢুকতে দিয়ে দরজা বন্ধ করল।
'আপনি একা?' জানতে চাইল সে। হ্যাঁ। কী মেসেজ এনেছেন?'
হাসল গাবলু গুবন্ধু লোকটা। 'মিস মির্না কালভার্ট রেগে আছেন, মিস্টার ফেনার। ওঁকে সত্যি ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন আপনি।'
ফেনার শান্ত কণ্ঠে বলল, 'আমি বুঝতে পারছি না আপনি কী বলছেন।' “মিস মির্নার ব্যাপারে একজন পেশাদার
খুনিকে ভাড়া করেছিলেন আপনি, মিস্টার ফেনার। মির্না নিশ্চিত হতে পারেনি কোনটা সত্য...লোকটা তাঁকে শ্রদ্ধা করে বলেই তাঁকে খুন করতে চায় না, নাকি বিমানে না চড়লে তাঁকে খুন করা হবে বলে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিচ্ছে। যাই হোক, মির্না অবশ্য বিমানে না চড়ার ঝুঁকিটা নেননি।
“আপনার কথার মাথামুণ্ডু আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি কোনও পেশাদার খুনিকে ভাড়া করিনি।'
“অবশ্যই করেছেন, মিস্টার ফেনার। তবে ওই ব্যাপারটা নিয়ে আমি আর মাথা ঘামাচ্ছি না। মিস মির্না আপনাকে যা বলতে বলেছেন তা হলো এই, তাঁরও আছে কানেকশন। আপনি কি পিগোলেটির নাম শুনেছেন?', 'গুপ্তা সর্দার?'
হাওয়ার্ড স্মিথ মাথা দোলাল। 'তাঁকে যাই বলুন আপনি, তিনি মিস মির্না কালভার্টের ভক্ত। তাঁর সাথে মিস মির্নার রোমান্টিক সম্পর্ক আছে, আমি যতটুকু জানি। আমি যে-সংগঠন থেকে এসেছি, তার সাথে যোগাযোগ রাখার সুযোগ। তিনি ওঁকে দিয়েছেন।'
ভুরু কুঁচকে গেল ফেনারের। 'কী সংগঠন ওটা?'
"নাম আমি বলব না, মিস্টার ফেনার। মিস কালভার্ট এতটাই রেগে আছেন যে তিনি প্রতিশোধ নেবার সিদ্ধান্তে অটল। সচরাচর আমাদের কাজের ব্যাখ্যা আমরা দিই না। কিন্তু উনি চেয়েছেন, কেন কী ঘটছে সেটা আপনি জানুন।'
ফেনারের মুখটা ধীরে ধীরে রক্তশূন্য হয়ে উঠল। ক্ষীণকণ্ঠে বলল, 'আপনার কথা আমি বুঝতে পারছি না।'
'আমার মনে হয়, আপনি বুঝতে পারছেন।' গাবলু গুবলু লোকটা বলল। কোটের পকেট থেকে সাইলেন্সার
লাগানো একটা পিস্তল বের করল সে। লোকটার দিকে তাকিয়ে ফেনার বুঝল, সে মোটেও অভিনয় করছে না। মির্না কালভার্ট একজন সত্যিকার খুনিকে ভাড়া করেছে!,,,,৷


কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন