Header Ads

Header ADS

আপনার পোশাক ইসলাম অনুযায়ী কেমন হওয়ার দরকার

 আপনার পোশাক ইসলাম অনুযায়ী কেমন হওয়ার দরকার

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ ، نَحْمَدُهُ وَنُصَلِّي عَلَى رَسُوْلُهُ الْكَرِيمِ

পোশাকের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

লিবাস পোশাক আল্লাহর একটি বড় নেয়ামত। এর দ্বারা তিনি মানুষকে সকল জীবজন্তু থেকে পৃথক বৈশিষ্ট্য মন্ডিত করেছেন এবং মানুষের শরীরের নির্দিষ্ট অংশ ঢেকে রাখাকে ফরজ ইবাদত সাব্যস্ত করেছেন। ইসলামে নারী পুরুষ উভয়ের জন্যই লিবাস পোশাক ও পর্দার ব্যাপরে পৃথক পৃথক বিধান রয়েছে। জান্নাত প্রত্যাশী প্রতিটি মুসলমানের জন্য তা মেনে চলা আবশ্যক।

বর্তমানে লিবাস পোশাক এবং পর্দার ক্ষেত্রে ফ্যাশনের নামে ইসলামী বিধানকে উপেক্ষা করে সর্বত্রই চলছে বিজাতীয় অনুসরণ-অনুকরণ। ফলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা ব্যাহত হচ্ছে এবং দেশ আল্লাহর গজবের লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

তাই আসুন! বিজাতীয় নির্লজ্জ ফ্যাশনের নামে অশ্লীলতা ও নগ্নতা পরিহার করে নবী করীম সা. এর শান্তিময়, কল্যাণকর সুন্নাহের অনুসরণ করি। তাহলে ইনশাআল্লাহ। ফিরে আসবে শান্তি শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা। সেই সাথে প্রতিষ্ঠিত হবে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও নির্লজ্জতামুক্ত একটি সভ্য সমাজ ।

মনে রাখতে হবে ইসলাম বিশ্ব মানবতাকে কোন নির্দিষ্ট ধরনের পোশাক পরিধানে বাধ্য করেনি। আবার একেবারে উন্মুক্ত ছেড়েও দেয়নি। তবে ৮টি মূলনীতি বর্ণনা করে দিয়েছে। যে সকল পোশাক পূর্ণাঙ্গভাবে এ মূলনীতি অনুযায়ী হবে, তা ইসলামী পোশাক এবং আখেরাতে মুক্তির কারণ হবে। অন্যথায় তা অনৈসলামী এবং জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে।

তাই মুসলিম ভাই বোনদের নিকট লিবাস পোশাক এবং পর্দা বিষয়ক মূলনীতিগুলো পৌঁছে দেওয়ার জন্যই আমাদের এ প্রয়াস। আল্লাহ তাআলা সকলকে আমলের তাওফীক দান  

পোশাকের ব্যাপারে আল্লাহ ঘোষণা

يَبَنِي آدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُورِي سَوْءَتِكُمْ وَرِيشًا وَلِبَاسُ التَّقْوَى ذلِكَ خَيْرٌ ذَلِكَ مِنْ ايْتِ اللَّهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ

হে আদম সন্তান! আমি তোমাদেরকে পোশাক দান করেছি, তোমাদের শরীরের যে অংশ প্রকাশ করা দূষণীয় তা ঢাকার জন্য এবং সাজ-সজ্জা গ্রহণের জন্য। বস্তুত তাকওয়ার পোশাকই সর্বোত্তম। এটি আল্লাহর কুদরতের অন্যতম নিদর্শন, যাতে তারা চিন্তা ভাবনা করে। (আরাফ-২৬) এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা শুধু ঈমানদারকে নয়; বরং তাঁর সৃষ্ট সকল আদম সন্তানদেরকেই সম্বোধন করে এ কথাগুলো বলেছেন। যার কারণে হযরত আদম আ. এর যুগ থেকেই সতর (গুপ্তাঙ্গ) ঢেকে রাখার বিষয়টি মানবীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবে চলে আসছে। আর এটিকে আল্লাহ তাআলার কুদরতের অন্যতম নিদর্শন সাব্যস্ত করা হয়েছে।

পোশাকের উদ্দেশ্য ও উপকারিতা

বর্ণিত আয়াতে পোশাকের তিনটি উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়েছে। [এক] শরীরের যে অংশ প্রকাশ করা দূষণীয় তা ঢেকে রাখা। [দুই] সাজ-সজ্জা ও শোভা অর্জন করা। এ দুটি কাজের দ্বারা আসল এবং প্রকৃত উদ্দেশ্য হল। [তিন] তাকওয়া এবং আল্লাহভীতি অর্জন করা।

পোশাকের ব্যাপারে আল্লাহর সতর্কবাণী

يبَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطنُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُم مِنَ الْجَنَّةِ يَنْزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْءتِهِمَا إِنَّهُ يَرنَكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا

تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيْطِينَ أَوْلِيَاءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ হে আদম সন্তান! শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই ফিত্নায় না ফেলতে পারে। যেমনভাবে তোমাদের পিতা মাতাকে (ফিনায় ফেলে)

জান্নাত থেকে বের করেছিল। সে তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখানোর জন্য বিবস্ত্র করেছিল। সে এবং তার দল এমন স্থান থেকে তোমাদেরকে দেখে যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখতে পাওনা। আর আমি শয়তানকে তাদের বন্ধু বানিয়ে দিয়েছি যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না। (সূরা আরাফ-২৭)

প্রথম ফরজ ও প্রথম হামলা

ঈমানের পর মানুষের উপর সর্বপ্রথম ফরজ হচ্ছে সতর ঢাকা। মানুষের চির শত্রু শয়তান এ ফরজের উপর সর্বপ্রথম হামলা করেছে। অর্থাৎ হযরত আদম আ. ও হযরত হাওয়া আ. কে বিবস্ত্র করে জান্নাত থেকে বের করেছে। আজও শয়তান এবং তার শিষ্যরা মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য ফ্যাশনের নামে অর্ধালোঙ্গ করে পথে নামাচ্ছে। যার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে গুনাহের এক অশ্লীল এবং গর্হিত পরিবেশ।

ইসলামে লিবাস পোশাক

ইসলাম স্বভাবজাত এবং বিশ্বজনীন ধর্ম। যুগরে পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী গড়িয়ে কিয়ামত পর্যন্ত এ ধর্ম চলতে থাকবে। স্থান ও কালের বিবর্তনে মানুষের রুচিরও পরিবর্তন ঘটবে। তাই ইসলাম বিশ্ববাসীকে নির্দিষ্ট ধরনের কোন পোশাক পরিধানে বাধ্য করেনি; বরং পোশাকের ব্যাপরে কিছু মূলনীতি দিয়েছে। এখন আমরা তা বর্ণনা করছি।

[এক] পোশাক সতর আচ্ছাদন যোগ্য হওয়া [এটি সূরা আরাফের ২৬ নং আয়াত থেকে আহরিত] নারী পুরুষের শরীরের যে অংশ প্রকাশ করা গুনাহ তাকে সতর বলে। পুরুষের সতরঃ পুরুষের সতর সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে-

قال النبي صلى الله عليه وسلم عَورَتُ الرَّجُلِ مَا بَيْنَ سُرَّتِه إِلى رُكْبَتِه [এক] রাসূল সা. ইরশাদ করেন, পুরুষের সতর হচ্ছে নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত। (দারা কুতনী-১/২৩০)

অপর এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে- রাসূল সা. হযরত আলী রা. কে বলেন, يا على لا تكشف فَخِذَكَ، ولا تنظر إلى فَخِذِ حي ولا مَيْتٍ . [দুই] হে আলী! তোমার রান (উরু) উন্মুক্ত করো না আর জীবিত ও মৃত কারো রানের প্রতি দৃষ্টি দিয়োনা। (আবু দাউদ, হা. নং ৪০১৬)

নারীর সতর: নারীদের সতরের তিনটি স্তর।

[এক] “নারীর সামনে নারীর সতর” তা হচ্ছে নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত । একজন নারী অন্য নারীর সামনে বিনা প্রয়োজনে কিছুতেই এই অংশটুকু প্রকাশ করতে পারবে না। (হেদায়া ২/৪৪৫, বাহরুর রায়েক ৯/৩৫৪) [দুই] “মাহরাম পুরুষের সামনে নারীর সতর” তা হচ্ছে নারীর মাথা, চুল, গলা, পা, পায়ের গোছা, হাত, বাহু এবং ঘাড় ছাড়া পূর্ণ শরীর । শরীরের এ অংশগুলো ছাড়া অন্য কোন অংশ মাহরাম পুরুষের সামনেও খোলা রাখতে পারবে না। (নূর, ৩১ আঘাত থেকে আহরিত। হেদায়া ২/৪৪৫) [তিন] “পর পুরুষের সামনে নারীর সতর: পূর্ণ শরীর।” মাহরাম পুরুষ ছাড়া নারীরা নিজেদের শরীরের চেহারা, হাত-পা সহ কোন অংশই পর পুরুষকে দেখাতে পারবে না। এমনটি করা কবীরাহ গুনাহ। এটিকে হিজাব বা পর্দা বলা হয়। (নূর ৩১.৬০ ও আহযাবের ৫৯ নং আয়াত থেকে আহরিত।) সুরা নূর এর ৩১ নং আয়াতে হযরত ইবনে আব্বাস (রা) এর তাফসীরে বর্ণিত হয়েছে যে বিশেষ প্রয়োজনে যদি নারীর চেহারা বা হাত খুলতে হয় তাহলে এ আয়াত তার আনুমতি দিয়েছে। কিন্তু চেহারাই যেহেতু রুপ ও সৌন্দের্যের কেন্দ্রস্থল তাই সাধারণ অবস্থায় তা ঢেকে রাখতে হবে। যেমন সুরা আহযাবের ৫৯ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে [তাফসীরে তাওযীহুল করআন ২/৪২৯]

মাহরাম এবং যাদের সাথে সাক্ষাত জায়েজ মাহরাম বলা হয় যাদের সাথে চিরকালের জন্য বিবাহ হারাম। তাই তাদের সাথে দেখা-সাক্ষাত, চলা-ফেরা সম্পূর্ণ জায়েজ। তাদের সংখ্য ১৪ জন। যেমন: ছেলের জন্য- ১. আপন মা। ২. আপন নানী। ৩ আপন দাদী। ৪. আপন মেয়ে। ৫. আপন বোন। ৬. আপন ফুফু। ৭. আপন খালা। ৮. আপন ভাতিজী। ৯. আপন ভাগিনী। ১০. দুধ মা। ১১. দুধ বোন। ১২. শাশুড়ী। ১৩. সৎ মেয়ে। ১৪. আপন ছেলের বউ। এছাড়াও যাদের সাথে সাক্ষাত জায়েজ- ১৫. সকল পুরুষ। ১৬ যৌন কামনামুক্ত নারী। ১৭. আপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে ।

মেয়ের জন্য- ১. আপন বাবা। ২. আপন নানা। ৩. আপন দাদা। ৪. আপন ভাই। ৫. আপন ছেলে। ৬. আপন চাচা। ৭. আপন মামা। ৮. আপন ভাতিজা। ৯. আপন ভাগিনা। ১০. দুধ বাবা। ১১. দুধ ভাই ১২. শাশুর। ১৩. সৎ ছেলে। ১৪. আপন মেয়ের জামাই। এছাড়াও যাদের সাথে সাক্ষাত জায়েজ- ১৫. সকল মহিলা। ১৬. যৌন কামনামুক্ত পুরুষ । ১৭. আপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে। (নিসা-২৩, নূর-৩১)

যে পোশাক সতর ঢাকতে অক্ষম

তিন ধরনের পোশাক নারী-পুরুষের সতর ঢাকতে অক্ষম। [এক] পরিমানে অম্পূর্ণ পোশাক। অর্থাৎ পোশাক এত ছোট যে তা পরিধান করলে নারী বা পুরুষের সতরের কোন অংশ দেখা যায়।

[দুই] গুণে অম্পূর্ণ পোশাক। পোশাকের গুণ হলো শরীরকে ঢেকে রাখা। পোশাক এত পাতলা বা মিহিন হওয়া, যা দ্বারা শরীরের আকার আকৃতি স্পষ্ট ভাবে দেখা এবং বুঝা যায় । [তিন] আঁটসাঁট-টাইটফিট পোশাক। অর্থাৎ পোশাক এত টাইটফিট

ভাবে শরীরে লেগে থাকে যে, শরীরের গঠন, আকৃতি এবং গোপনীয় অঙ্গগুলো দেখা এবং বুঝা যায়। (আহকামে লিবাস পৃ: ৪৬)

এ ধরনের পোশাকধারীরা উলঙ্গ

এ তিন ধরনের পোশাক তৈরী করা, বিক্রি করা, পরিধান করা সম্পূর্ণ হারাম এবং করীরা গুনাহ। এ ধরনের পোশাকধারীদেরকে রাসূল সা উলঙ্গ এবং জাহান্নামী আখ্যায়িত করে ইরশাদ করেছেন-


وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مَائِلَاتٌ مُبِيلَاتٌ رُءُوسُهُنَّ كَأَسْنِمَةِ الْبُخْتِ المَائِلَةِ، لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدُنَ رِيحَهَا ، وَإِنَّ رِيحَهَا لَيَوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا

কিছু নারী পোশাক পরিধান করা সত্ত্বেও হবে উলঙ্গ। তারা নিজেরা অন্যদের প্রতি আকৃষ্ট হবে এবং অন্যদেরকে নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করবে। তাদের মাথার চুলের খোপা হবে উটের কুঁজের ন্যায়। এসব নারীরা জান্নাতে প্রবেশ তো দূরের কথা, জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ হাজার হাজার মাইল দূর থেকে পাওয়া যাবে । (সহীহ মুসলিম ২১২৮)

[দুই] বেশ ভূষায়, সাজ-সজ্জা ও শোভা অর্জন

[এটি সুরা আরাফের ২৬ নং আয়াত থেকে আহরিত | সতর ঢাকার সমপরিমান পোশাক তো সর্বাবস্থায় ফরজে আইন। কিন্তু এতটুকু পোশাক লোক সমাজে রুচিপূর্ণ নয়। তাই অপচয় এবং অপব্যয় না করে মানানসয়ী পোশাক পরিধান করা উচিত। যাতে বহ্যিকভাবে নিজেকে সুন্দরও দেখা যায়। একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে

فَإِذَا أَتَاكَ اللهُ مَالًا فَلْيُرَ عَلَيْكَ اثْرُ نِعْمَةِ اللَّهِ وَكَرَامَتِهِ যখন আল্লাহ তাআলা তোমকে সম্পদ দান করেছেন, তখন আল্লাহর রহমত ও দানের নিদর্শন তোমার মধ্যে বাহ্যিক ভাবেও প্রকাশ পাওয়া (আবু দাউদ-৪০৬৩, নাসাঈ-৫২২৪)

উচিত।

[তিন] পোশাকে বিধর্মীদের অনুকরণ ও সাদৃশ্য না হওয়া

قال النبي صلى الله عليه مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ

রাসূল সা. ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি কোন জাতির অনুকরণ কিংবা সাদৃশ্যতা অবলম্বন করবে সে তাদেরই দলভূক্ত হিসাবে গণ্য হবে। (আবু দাউদ-৪০৩১) ইচ্ছাকৃতভাবে বিধর্মীদের অনুকরন করা হারাম এবং কবীরা গুনাহ। আর ইচ্ছা ছাড়া বিধর্মীদের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করা মাকরুহ এবং ঈমানী চেতনার পরিপন্থি। (আহকামে লিবাস-৫৬)

[চার] পোশাক পরিধানে অহংকার না থাকা রাসূল সা. ইরশাদ করেন- এক ব্যক্তি চিত্তাকর্ষক পোশাক পরিধান করে অহংকার বশত চুল আচড়াতে আচড়াতে পথ চলছিল; হঠাৎ আল্লাহ তাআলা তাকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দিলেন। কিয়ামত পর্যন্ত সে এভাবে ধ্বসে যেতে থাকবে। (সহীহুল বুখারী-৫৭৮৯,৫৭৮৮) [পাঁচ] পুরুষের পোশাক টাখনুর নিচে না হওয়া

قال النبي صلى الله عليه مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ مِنَ الْإِزَارِ فِي النَّارِ রাসূল সা. ইরশাদ করেন- (পুরুষের) পোশাকের যে অংশ টাখনুর নিচে থাকবে তা জাহান্নামে যাবে। (সহীহ বুখারী-৫৭৮৭) বর্তমানে আমরা ইসলামী বিধানকে উপেক্ষা করে বিজাতীদের আদর্শ দ্বারা নিজেদেরকে সজ্জিত করছি। এ বিষয়ে বিজাতীয়দের দুটি ফ্যাশন পরিলক্ষিত হয়।

[এক] টাখনুর নিচে প্যান্ট, পায়জামা ও লুঙ্গী পরিধান করা। [দুই] হাফপ্যান্ট পরিধান করে হাটু উন্মুক্ত রাখা। প্রথমটি তো জাহেলী যুগথেকেই চলে আসছে। আর দ্বিতীয়টি বর্তমানের মানবরূপি শয়তানরা মুসলমানদেরকে উলঙ্গ করে জাহান্নামী। বানানোর জন্য আবিস্কার করেছে। তাই আমদের উচিত জাহান্নামের এ পথ পরিহান করে জান্নাতের পথে ফিরে আসা। জান্নাতের পথ নির্ধারণ করে রাসূল সা. ঘোষনা করেন- হাটু খোলা থাকে এমন পোশাক পড়া হারাম। হাটু এবং টাখনুর মাঝ পর্যন্ত পোশাক পড়া সুন্নত। টাখনুর উপর পর্যন্ত পোশাক জায়েজ। টাখনুর নীচ পর্যন্ত পোশাক পড়া হারাম। (আবু দাউদ-৪০৯৬)

[ছয়] নারী পুরুষ একে অন্যের পোশাক পরিধান না করা হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে-

لعَنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمُتَشَبْهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ والمُتَشَبْهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ

রাসুলুল্লাহ সা. ঐ সকল পুরুষদের উপর লানত ও অভিসম্পত করেছেন, যারা নারীদের বেশ ধারণ করে এবং অভিসম্পত করেছেন ঐ সকল নারেিদর যারা পুরুষদের বেশ ধারন করে। [বুখারী -৫৮৮৫] অর্থাৎ যে ধরনের পোশাক পুরুষদের জন্য তা নারীদের জন্য হারাম। আর যে ধরনের পোশাক নারীদের জন্য তা পুরুষদের জন্য হারাম।

[সাত] পুরুষের পোশাক রেশমী না হওয়া পুরুষের জন্য চার আঙ্গুল পরিমানের বেশী রেশমী কাপড় পরিধানের অনুমতি নাই। কোননা হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে- أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: حُرِّمَ لِبَاسُ الحَرِيرِ وَالذَّهَبِ عَلَى

ذُكُورِ أُمَتِي وَأُحِلَّ لِإِنَائِهِمْ

রাসূল সা. ইরশাদ করেন- আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য রেশমী পোশাক এবং স্বর্ণালঙ্কার ব্যবহার হারাম এবং নারীদের জন্য তা হালাল। (তিরমিযী-১৭২০, বুখারী-৫৮২৯, মুসলিম-২০৬৯)

[আট] পুরুষের পোশাক নিষিদ্ধ রঙের না হওয়া

পুরুষের জন্য ৪টি রঙের পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে [এক] জাফরান। [দুই] গাঢ় হলুদ [তিন] কুসুমি রঙ। [চার] গাঢ় লাল। এটি মাকরুহে তানযিহী এবং তাকওয়ার পরিপন্থি। (বিস্তারিত দেখুন- বুখারী-৫৮৪৬, মুসলিম-২০৭৭, তিরমিযী-২৮০৭, সূত্র: আহকামে লিবাস, পৃ: ৭৩)

পর্দার প্রয়োজনীয়তা

আজকের পৃথিবীর এই অশাস্তি, অনিরাপত্তা, ইভটিজিং, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, হত্যা, আত্মহত্যা, বিষপান, এসিড নিক্ষেপ এবং তরুণ- তরুণীর অবৈধ সম্পর্ক গড়ে পালিয়ে গিয়ে মা-বাবার মুখে চুন-কালি যাখছে। এ জঘন্য পাপ কাজগুলো সংগঠিত হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে ইসলামী লিবাস-পোশাক এবং পর্দার বিধানকে উপেক্ষা করে বিধর্মীদের ফ্যাশনকে আকড়ে ধরা। তাই আসুন আমরা ইসলামী

লিবাস-পোশাক এবং পর্দার বিধানকে মেনে নেই। তাহলেই ইনশাআল্লাহ পৃথিবীতে শান্তি এবং নিরাপত্তা ফিরে আসবে।

নারী-পুরুষের পর্দা

পৃথিবীর সব ধর্মের সব বিবেকবান মানুষ এ ব্যাপারে একমত যে, পুরুষের তুলনায় নারীর সতর ও পর্দা বহুগুণ গুরুপূর্ণ। কেননা সৃষ্টিগত ভাবেই নারীর গঠন আকৃতিতে যৌনকৰ্ষণ বিদ্যমান। (মাআরিফুল হাদিস- ৬/১৭০) তাই নারী-পুরুষের পর্দার মাঝেও ভিন্নতা রয়েছে। পুরুষের পর্দা সতর এবং চোখের। আর নারীর পর্দা চেহারা, হাতসহ পূর্ণ শরীরের। (সূরা নূর-৩০ এবং ৬০, সূরা আহযাব-৫৯, , তিরমিযী-১১৭৩)

পর্দা নারীর সতীত্ব রক্ষার হাতিয়ার

পর্দা নির্লজ্জতা দমন এবং সতীত্ব রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ হতিয়ার। পর্দা নারীর জীবন। পর্দার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

وَقَوْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجُنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولى

হে মুসলিম নারীরা! তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান কর। (আর যদি বাইরে যেতে হয় তাহলে) জাহিলী যুগের মত (পর পুরুষকে) সাজ- সজ্জা পদর্শন করে বের হয়োনা। (সূরা আহযাব-৩৩) আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَإِذَا سَتَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْتَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَالِكَ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ (হে মুমিনগণ) তোমরা যদি (নবীর স্ত্রীগণের নিকট থেকে কোন কিছু চাও তবে পর্দার আড়াল থেকে তা চাইবে। এ বিধান তোমাদের এবং তাদের অন্তরকে অধিক পবিত্র রাখার জন্য। [সূরা আহযাব আয়াত-৫৩]

এ আয়াত নবীর স্ত্রীগণের ব্যপারে অবতীর্ণ হয়েছে। যারা ছিলেন পবিত্রতম নারী। আল্লাহ তাআলা নবীর স্ত্রী হিসাবে তাদেরকে মনোনীত করেছিলেন । তাদের ক্ষেত্রে যখন মুমিনদেরকে এরূপ পর্দা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তখন অন্যান্য নারীদের ক্ষেত্রে এ বিধান আরো অনেক বেশি প্রযোজ্য [পোশাক পর্দা ও দেহ সজ্জা - ২৭৭]

[তিন] আল্লাহ তাআলা বলেন-

يُأَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِأَزْوجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلْبِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا

হে নবী আপনি আপনার স্ত্রী, কন্যা এবং মুমিন নারীদেরকে বলে দিন (যখন তারা বাইরে যেতে চায়) তখন যেন তারা বড় চাদরদ্বারা (মুখসহ) নিজেদেরকে পরিপূর্ণ ঢেকে নেয়। পন্থায় তাদেরকে সৎ চরিত্রবর্তী হিসেবে চিনতে সহজ হবে। তাদেরকে ইভটিজিং করা হবে না। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাব-৫৯) নারী সাহাবীয়্যাদের আমল

عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رض قَالَتْ: لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلَابِيبِهِنَّ خَرَجَ نِسَاءُ الْأَنْصَارِ كَانَ عَلَى رُؤوسِهِنَّ الْغِرْبَانَ مِنَ الْأَكْسِيَةِ 

আম্মাজান উম্মে সালামা রা. বলেন-

যখন বর্ণিত আয়াত আবতীর্ণ হল, তখন থেকে আনসারী নারীগণ কালো কাপড় দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করে ঘর থেকে বের হতেন। (আবু দাউদ-৪১০১) আমাদের মা-বোনেরা কি পরবেন কুরআনের এ আয়াতের উপর নারী সাহাবীয়্যাদের মত আমল করতে ? আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন। আমীন।

শরম ও লজ্জাশীলতা

শরম ও লজ্জা মানুষের একটি বিশেষ গুণ। যে যতটুকু লজ্জাশীল হয় সমাজে সে ততটুকু মর্যাদাশীল হয়ে থাকে। মানুষের সুন্দর চরিত্র গঠনে এর রয়েছে বিরাট প্রভাব । এটাই ঐ গুণ যা মানুষকে মন্দ কথা কাজ, অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে ফিরিয়ে রাখে এবং ভালকাজে উৎসাহ দান করে। আর পোশাকের মাধ্যমে লজ্জাশীলতা এবং নির্লজ্জতার পরিচয় পাওয়া যায়। ইসলাস লজ্জার ব্যপারে অনেক গুরুত্বারোপ করেছে আর নির্লজ্জতা ও অশ্লীলতার উপর কঠোর বাণী উচ্চারণ করেছে। যেমন হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে-

إِنَّ الْحَيَاء وَالْإِيمَانَ قُرَنَا جَمِيعًا فَإِذَا رُفِعَ أَحَدُهُمَا رُفِعَ الْآخَرُ [এক] নবী সা. ইরশাদ করেন- লজ্জা এবং ইমান উভয়টি আঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত। এর থেকে যদি কোন একটি চলে যায় তাহলে অন্যটি ও চলে যায়। [শুআবুল ঈমান-৭৭29/

الْحَيَاء مِنَ الْإِيمَانِ وَالْإِيمَانُ فِي الْجَنَّةِ وَالبَذَاءُ مِنَ الْجَفَاءِ وَالْجَفَاء فِي النَّارِ [দুই] নবী করীম সা. ইরশাদ করেন- লজ্জা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত আর ঈমানের স্থান জান্নাত। পক্ষান্তরে নির্লজ্জতা মন্দ চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত, আর মন্দের স্থান জাহান্নাম । [মুখনদে আহমদ-১০৫১২]

অশ্লীলতা এবং বেহায়াপনার শাস্তি

 

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

 

إِنَّ الَّذِينَ يُحِبُّونَ أَنْ تَشِيعَ الْفَحِشَةُ فِي الَّذِينَ آمَنُوا لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِي

الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ

যারা মুমিনদের মাঝে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা এবং উলঙ্গপনার প্রচার প্রসার পছন্দ করে, তাদের জন্য দুনিয়া আখেরাতে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি

[সূরা নূর-১৯]

রয়েছে। ثلاث لا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ، وَلَا يَنظُرُ اللَّهُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْعَاقُ

وَالِدَيْهِ، وَالْمَرْأَةُ الْمُتَرَجِلَةُ الْمُتَشَبْهَةُ بِالرِّجَالِ ، وَالدَّيُّوتُ রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন- তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাদের দিকে (রহমরেত) দৃষ্টি দিবেন না। এক পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান। দুই. পুরুষের বেশধারণ কারিনী নারী। তিন. যে ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের অশ্লীলতা মেনে নেয়। [মুসনাদে আহমদ-৬১৮০]

পুরুষের পর্দা

পরুষের পর্দা হচ্ছে তার সতর ঢেকে রাখা এবং হারাম বস্তু থেকে চোখকে বিরত রাখা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

قُل لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصْرِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْىٰ لَهُمْ إِنَّ

اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ

হে নবী! মুমিন পুরুষদেরকে বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফজত করে এটাই তাদের জন্য উৎকৃষ্ট পন্থা। তারা যা কিছু করে আল্লাহ সে সম্পর্কে অবগত। [সূরা নূর-৩০]

قال النبي صلى الله عليه وسلم : لَعَنَ اللهُ النَّاظِرَ وَ الْمَنْظُورَ إِلَيْهِ রাসুল সা. ইরশাদ করেন (অবৈধ) দৃষ্টিপাতকারীর উপর আল্লাহর লানত-অভিশাপ এবং যার উপর দৃষ্টিপাত করা হয় তার উপরও। [বায়হাকী সূত্র মাআরিফুল হাদীস-৩১৯]

দয়াময় আল্লাহ তাআলার ঘোষণা: আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-

فَمَن جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّهِ فَانتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهِ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُوْلَئِكَ أَصْحُبُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَلِدُونَ

যার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসে গেছে, অতপর সে যদি বিরত হয়, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তারাই। আর তার ব্যাপার আল্লাহর এখতিয়ারে (অর্থাৎ আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন) আর যে ব্যক্তি পুনরায় সে কাজই করল, তো এরূপ লোক জাহান্নামী। আর তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। (সূরা বাকারা-১৭৫)

জরুরী সতর্কবাণী

হাদীস শরীফে আছে শেষ যুগে বহু ফিৎনা ফাসাদ এবং অশান্তি ছড়িয়ে

পড়বে। নানাভাবে মানুষ দ্বীন-ধর্মের সঠিক পথ থেকে সরে পড়বে। বর্তমানে এমনি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এসব কিছু থেকে বেঁচে থাকতে সাধারণ মুসলমানদের জন্য নিম্নের কাজগুলো অতীব জরুরী। [এক] হক্কানী উলামাদের সঙ্গলাভ করা। [দুই] দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত করা। [তিন] নিয়মিত ঘরে দ্বীনি তালীম করা। [চার] কুরআনী শিক্ষার ব্যাপক প্রসার করা ।


কোন মন্তব্য নেই

  [ছেলোদের পরীক্ষা হবে কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের ২য় তলায়, তারিখ- ৯ই ডিসেম্বর সকাল ৯টা এবং মেয়েদের পরীক্ষা মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ এর প...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.