Header Ads

Header ADS

আমি হাসুর কথা বলছি



 আমি হাসুর কথা বলছি


হাসুর বয়স মাত্র ছ-মাস। এরি মধ্যে সে গুণ গুণ করে আপন মনে কত কথাই না বলে। তার না আদর করলে সে এমন হাসবে তখন মনে হবেনা যে ওর বয়স মাত্র ছ-মাস। আর হাসু ভারি হাত পা ছোড়াছুঁড়ি করে রোদের দিকে চেয়ে খেলায়। তার বাবা মারা গেছে দু'মাস হলে। তার অবস্থা আদৌও ভাল ছিল না। দু-এক বিঘা জমি চাষ করে চলতো। হাসুর মা তাই খুব দায়ে পরেছে। তবে তার মা মেহনতে ভয় পায় না। হাসুর মা পাড়ার শেখের ধান ভানে, তাই কুটনীর চালে সে হাসুর জন্য দুধ কেনে নিয়ে কোন রকমে দিন চালায়। গত পৌষ মাসে নিজের বিছানায় শুয়ে হাত পা ছুঁড়ে খেলা করছে ঘরে আর কেউ নেই। জানালায় শুধু দুপুরের রোদ উঁকি মারছে। শীতের দিনে এমন নরম মৃদু আলো কবিদের ভালোই লাগে। দুপুর বেলা হাসুর বড় একলা কাটে। তার মা এই সময় ধান ভানতে যায়। মেঝের উপর হাসুকে শুয়ে থাকতে হয়। ওর কোন ভাই বোনও নেই যে তার পাশে বসে পাহারা দেবে। হাসুর মা তাকে বেশ ভালো বিছানা করে দিয়ে যায়। কাথাটা বেশ সুন্দর করে মুড়ি দেয় যেন তার শীত না লাগে। হাসু কিন্তু ভারি দুষ্ট। ঘুম ভাঙ্গলে হাই তুলবে তারপর কাঁদবার ভান করে যখন দেখবে কেউ ঘরে নেই তখন শুরু করবে খেলা। নরম বিছানার উপর ধুপধাপ হাত পা খেলার শব্দ করে আর কসরৎ কি।


সেদিনও হাসু তার শরীর থেকে কাথা ছুঁড়ে খেলা করছে। তাদের জানালা দিয়ে ঘরে ঢুকলো একটা শিয়াল ছানা। শিয়াল ছানা তখনও কাঁপছিল। ভিটের কাছে তরমুজের ক্ষেত। শিয়ালে তরমুজ নষ্ট করে। শিয়াল ছানাটা তার মার সাথে হঠাৎ দুপুরে বেরিয়ে পড়ে। চাষীদের তাড়া খেয়ে মা শিয়ালটা ছানাকে ফেলে কোথাও গা ঢাকা দিয়াছে। ছোট শিয়ালটা মার সাথে ঠিক মত দৌড়াতে পারেনি। দৌড়াবার সময় পানিতে " পড়েছিল তাড়া খেয়ে। তারপর ভিজে শরীর নিয়েই ঢুকেছে হাসুদের ঘরে। হাসু অবাক। সে দু'চোখ মেলে - এই জানোয়ারটা দেখতে লাগলো। ছোট শিয়াল ছানা, গোফ দুটো পরিপাটি করে বাঁকানো। তা দিলেই হয়, গোটা লোমে লাল চকচকে। তার উপর পড়েছে সূর্যের আলো। অবাক হবারই কথা। শিয়াল ছানাটা হাসুর পা তলায় এসে দাঁড়ালো। এইখানে বেশ রোদ পড়েছে। ভিজে গা শুকাবার ভাল জায়গা। শিয়াল ছানার যেন আরও একটু মতলব ছিল। যাকে বলে খেতে দিলে শুতে চায়। হাসু তো হাত পা ছোঁড়ার সাথে সাথে কাথা গুলো দূর করে দিয়েছে। শিয়াল ছানাটার মতলব-


শুনছো ভাই শুনছো ভাই কচি সোনা মনি, শীতের কাঁথা দাওনা বারেক বাড়ছে কাঁপনি।


এই লাল চকচকে গা জানোয়ারটা দেখে হাসুর আর ফূর্তি ধরে না। সে এমন লাথি ছড়ালো কাঁথা গুলি পড়লো ঠিক শিয়াল ছানার মাথায়। এমন শীতের বেলা কে এমন দয়া করে। শিয়াল ছানা হাসুর পায়ের তলে শুয়ে শুয়ে রোদ পোহাতে লাগলো। মাঝে মাঝে সে মিটি মিটি চোখে হাসুর দিকে তাকায়। যখন তাদের চোখাচোখি হয় হাসু ফিক করে হাসে আর জোরে জোরে হাত নাড়ে। শিয়াল ছানা গরম পেয়ে হাসুর বিছানা ঘেষে আরও এগোয়। আবার সেই মতলব খেতে দিয়ে শুতে হয়। ভাগ্যিস হাসু কিছু খেতে দেয়নি কাঁথা দিয়েছে মাত্র। নাহলে আরও কি জুলুম না সহ্য করতে হতো। এবার শিয়াল ছানা হাসুর বিছানার এক ভাগ দখল করে শুয়ে পড়লো। হাসুর খুদে পায়ের লাথি সব শিয়াল ছানার উপর পড়ছে। লাথির পর লাথি শীতের সময় এমন ছোট ছোট লাথি খেতে মজাই লাগে। শিয়াল ছানাটি হাই তুলতে লাগলো। ঘুম পেয়েছে তার, কিন্তু বেশি ক্ষণ এই আরাম তার কপালে নেই। হাসুর মা'র গলার আওয়াজ শুনতে পেয়ে শিয়াল ছানা তাড়াতাড়ি কাঁথা গুলো ছেড়ে জানালা দিয়ে তালগাছের বনে সেধিয়ে পড়লো। ভরা সাঁঝ, চারিদিকে গা ঢাকা আধার। হাসুর মা কিছু বুঝতে পারলো না।


পরদিন দুপুরে হাসু দেখে সেই শিয়াল ছানা আবার এসেছে। আজ তার আরও ফূর্তিতে হাত পা ছুঁড়ে ফেলতে লাগলো। তারপর থেকে শিয়াল ছানা দুপুর বেলা আর কোথাও যায়না। প্রতিদিন আসে হাসুদের বাড়ী। এখানে প্রায় সারাটা বিকেল কাটায়। আবার হাসুর মার পায়ের শব্দ শোনা মাত্র জানালা দিয়ে তাল

বনে ঢুকে পড়ে। আরো তিনমাস গেল। শিয়াল ছানার সাথে হাসুর খুব মিতালী চলে। আজ কাল হাসু হামাগুড়ি দেয়। শিয়াল ছানা এলে সে বিছানায় পড়ে থাকে না। তার গলা ধরে কত কি কথা বলে। সে কথা আমরা বুঝবোনা। হাসুর কম জুলুম সহ্য করেনা শিয়াল ছানা। টানাটানি করে ব্যাথা পেলে শিয়াল ছানা `সরে যায়। একদিন দুপুর বেলা শিয়াল ছানা একটা আধাজ্যান্ত কাঁকড়া এনে ঘরে ছেড়ে দিল। তার চিমটে ধরার কাঁটা দুটো ভাঙ্গা। কাঁকড়া ঘরে ঘোড় দৌড় দিতে লাগলো। হাসু হামাগুড়ি দিয়ে পেছনে পেছনে ছুটে। শিয়ালছানা গোঁফে তা দিতে দিতে শুধু পায়ের থাবা চাটে।


সেদিন হাসুর মা ঘরে কাঁকড়া দেখে অবাক। পাড়ার মেয়েরা বললো এবার খুব ধান হবে। না হলে নদীর কাঁকড়া ঘরে উঠে আসে। আরো কয়েকদিন পরের কথা। হাসুদের ঘরে তেল ছিল না তাই-তার মা হাসুকে দাওয়ায় শুয়ে পাশের বাড়ী তেল ধার করতে গেল। হাসুর মা ফিরে এসে দেখলো বিছানা সব উলট পালট করা। হাসু নেই-বিছানায় সেখানে শুধু রক্তের দাগ। হাসুর মা কাঁদতে লাগলো। পাড়ার আরো লোক এসে জড়ো হলো। লণ্ঠন হাতে লাঠি নিয়ে তারা রক্তের দাগ ধরে সন্ধানে বেরুলো, কিন্তু হাসুকে পাওয়া গেল না। তারপরে বাঁশ আর তালের বন। সবাই বললো ছেলেটাকে শিয়াল নিয়ে গেছে। কথাটা সত্য একটা বড় শিয়াল সেদিন হাসুকে শিকার করে নিয়ে গিয়েছিল। সারারাত্রি হাসুর মা পাগলীর মত কাঁদতে লাগলো হাসু হাসু করে। পরদিন মা শুয়ে ছিল আনমনে ঘুমে চোখ জড়িয়েছে মাত্র। মেঝের উপর দৌড়াদৌড়ির শব্দে তার ঘুম ভেঙ্গে গেল। তার চোখের সামনে শিয়াল ছানাটা। আমার বাছাকে খেয়েছিস দাঁড়া হাসুর মা ধরমড়িয়ে উঠে পড়লো। হাতের সামনে ছিল একটা কাটারী তা ছুঁড়ে মারলো। শেয়াল ছানাটা উঠতে পারলো না দা'র কোপটা পড়েছিল ঠিক ঘাড়ের উপরে। মরার আগে শিয়াল ছানার মুখ দিয়ে ফোটা ফোটা রক্ত ঝরছিল।



--------------------সমাপ্ত, ---------------------------

জনাব,আপনার কাছে আর্টিক্যাল গুলো সামান্য ভালো লাগলে মন্তব্য এবং শেয়ার করে আমাকে উৎসাহিত করবেন। যাতে আমি আগামীতে পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী আরো সুন্দর কিছু আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারি।


কোন মন্তব্য নেই

  [ছেলোদের পরীক্ষা হবে কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের ২য় তলায়, তারিখ- ৯ই ডিসেম্বর সকাল ৯টা এবং মেয়েদের পরীক্ষা মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ এর প...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.