ম্যাজিকের রহস্য -১, অশরীরী মুদ্রা
অশরীরী মুদ্রা
ম্যাজিকের বইএ দুই-একটি টাকার খেলা না থাকলে তার অঙ্গহানি হয়, তাই ৩টি সহজ ও চমকপ্রদ টাকার খেলা এখানে দেওয়া হোল । টাকার খেলাকে অনেকে ছোট খেলা মনে করে আমল দিতে চান না। বস্তুতঃ টাকার খেলাতেই খ্যাতি অর্জন করেছিলেন আমেরিকার টি- নেস ডাউন্স সাহেব । সেজন্য তাঁকে King of Koins বলা হোত। এখানে তাঁর সম্মানার্থে Coin এর বানান C এর পরিবর্তে K দিয়েই লেখা হতো । টাকার খেলা বহু সাধনা সাপেক্ষ- আমি নিজে কলিকাতার বিখ্যাত জাদুকর প্রোফেসর স্বর্গীয় ডি,পি, দাস, যাঁকে ভারতের ডাউন্স বলা হোত, তাঁর খেলা দেখেই এই উক্তি করছি। বিগত ১৯৮৮ সনের মার্চে কলিকাতা সার্ক জাদু উৎসবে আগত এক জাদুকর দম্পতির সাথে আমার ঘনিষ্ঠ পরিচয় হয় । ক্লোজ আপ প্রদর্শণীতে আমার প্রদর্শিত টাকার খেলা দেখে এতটা মুগ্ধ হন যে দীর্ঘ সময় ধরে আমার প্রতিটি টাকার খেলার কৌশল তাকে ছাত্র হিসাবে শিক্ষা দিতে বাধ্য হতে হয় । আমারই গুরুদেব প্রোঃ গীতেন্দ্র কুমার সাহার অনুমতি নিয়ে তাঁরই সাক্ষাতে এই শিক্ষাদান করতে হয়েছে । যাহোক এখানে প্রথম শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে দু'টি টাকার খেলা দেওয়া হোল।
সংঘটনঃ জাদুকর একটি সাধারণ কাঁচের গ্লাস, একখানা পিস্বোর্ডের চৌকা গ্লাস-ঢাকনী এবং ঢাকনাসহ একটি পিসবোর্ডের কৌটা উপস্থিত করেন । উপরোক্ত দ্রব্য টেবিলে রেখে দর্শকদের কারো কাছ থেকে একটি ৫০ পয়সা মুদ্রা চেয়ে নিলেন । মুদ্রাটি কোন দর্শক চিহ্নিত করে দিলে তা' দর্শক সমক্ষে উক্ত কৌটায় রেখে ঢাকনা আটকিয়ে সেটি পিসবোর্ডের চৌকা গ্লাস ঢাকনার উপর রাখা হোল। তারপর চৌকা ঢাকাটি গ্লাসের উপর রাখা হোল ( ১ নং চিত্র) ।
জাদুকর এবার তাঁর জাদু দন্ড গ্লাসের ও কৌটার উপর ঘোরাতে ঘোরাতে বেশ খানিকটা উঁচুতে গ্লাস ও কৌটার উপর স্থির করে ধরে রাখলেন । হঠাৎ টাকা সহ কৌটাটি কোন অদৃশ্য শক্তি বলে সামান্য নড়ে উঠল আর অমনি টাকাটি তার ভিতর হতে নীরেট তলা ও পিবোর্ডের চৌকা ঢাকনা ভেদ করে ঠং করে গ্লাসের ভিতর পড়ল।
উপকরনঃ একটি সাধারণ কাঁচের গ্লাস, পিস্ বোর্ডের চৌকা ঢাকনা, একটি ৫০ পয়সা (আধুলী), সমান ব্যাসের দুই ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের কৌটা, জাদুদন্ড, কালো সরু নাইলন সূতা, সামান্য নরম কাঁচা মোম ও একটি পিন।
কৰ্ত্তব্যঃ খেলাটিতে দুইটি মুদ্রা ব্যবহার করা হয়েছে- একটি দর্শকদের অপরটি জাদুকরের । জাদুকরের টাকাটিতে সামান্য কৌশল আছে। এর একপিঠে গোল কৌটাটির ভিতরকার গায়ে যে রঙের কাগজ লাগান- সেই কাগজ আঠা দিয়ে লাগান আছে । কৌটার ভিতরকার ব্যাস মুদ্রার ব্যাসের সমান হওয়া চাই। কৌশল করা মুদ্রাটি বাম হাতে লুকিয়ে দর্শক তার মুদ্রাটি চিহ্নিত করে দিলে তা ডান হাতে নিন এবং বাম হাতে রাখার ভান করে ডান হাতেই রেখে দিন ও বাম হাতের মুদ্রাটি
হাত উঁচু করে সকলকে দেখান এবং তৎক্ষনাৎ ডান হাতে চৌকা ঢাকনাটি টেবিল হতে তুলে । ২ নং চিত্রের মত ) মুদ্রাটিকে তার নীচে দিয়ে গ্লাসের কাঁনার উপর রাখুন এবার ডান হাতেই গোল কৌটা তুলে আনুন । বাম হাতের কৌশল করা মুদ্রাটি ডান হাতে নিন ও কৌটাটি বাম হাতে নিন ও মুদ্রাটিকে তার ভিতর ফেলুন দুই হাত শূণ্য দেখান। কাগজ লাগান পিট যেন উপরের দিকে থাকে মুদ্রাটিকে সে ভবে ফেলতে হবে। উপরের দিকে না পড়লে কৌটাটিকে উপর নীচে কয়েকবার ঝাকানি দিন 'তাতে শব্দ থেকে যেমন মুদ্রাটির অস্তিত্ব প্রমাণ হবে অপরদিকে উল্টানোও হবে । কৌটার ঢাকনা বন্ধ করে-গ্লাস ঢাকনীর উপর দাঁড় করিয়ে রাখুন ।
জাদুদণ্ড হাতে নিন তার এক প্রান্তে কালো এবং খুব সরু সূতা বাঁধা থাকবে । সূতার অপর প্রান্তে নরম কাঁচা মোম লাগানো আছে। ডান হাতে জাদুদন্ড ধরে বাম হাতে মোম লাগানো সূতার-প্রান্ডটি চৌকা ঢাকনার যে পার্শ্বে টাকা আছে সেই পার্শ্বে আটকিয়ে দিন । ঐ সময়েই ডান হাতটি জাদুদন্ড সহ কয়েকবার ঘুরান। সাবধান, যেন প্রথমেই সূতায় টান না পড়ে । এবার ঢাকনা ছেড়ে দিয়ে বাম হাত সড়িয়ে নিন । ডান হাতের জাদুদন্ড ধীরে ধীরে উপরে তুলতে থাকুন যেন দর্শক গণ বুঝতে না পারেন । ঢাকনাটি সূতোর টানে সামান্য উঁচু হলেই টাকাটি (দর্শকদের চিহ্নিত করা) গ্লাসের ভিতর পড়ে শব্দ করবে । সাবধানে মোম তুলে সূতাসহ জাদুদণ্ড টেবিলে রেখে দিন এবং মুদ্রাসহ গ্লাস ঢাকনী পরীক্ষা করাতে পারেন ।
পরিশেষে গোল কৌটাটির তলার দু'দিক চেপে ধরে খোলা মুখ নীচের দিক রেখে ঝাঁকি দিলেও মুদ্রা পড়বে না। ভিতরে দেখলেও মুদ্রা আছে বলে কেউ সন্দেহ করবে না । দর্শকদের মুদ্রাটি কিন্তু ফেরৎ দিতে ভুলবেন না ।
সম্মানিত পাঠক আপনার কাছে আমার লেখা গুলো ভালো লাগলে মন্তব্য এবং শেয়ার করুন। যাতে আমি আপনার জন্য আগামীতে নতুন কিছু নিয়ে আসতে পারি।




কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন