বুড়োর চালাকি
বুড়োর চালাকি
এক গ্রামে থাকে এক বুড়ো আর এক বুড়ী। বুড়ো কোন কাজ কর্ম করে না। সে শুধু যায় দায় আর ফোকলা দাঁত বের করে ফিক ফিক করে হাসে। কিন্তু বুড়ী ব্যবসা করে। বুড়ীর অনেক গুলো মোরগ ও মুরগী আছে। বুড়ী আবার সখ করে তাদের নাম রেখেছে পোঁটা পুঁটি। মুরগীরা ডিম পাড়ে আর সেই ডিম গুলো বাজারে বিক্রি করে আসে। এই রূপে বুড়ো বুড়ীর দিন চলে। সকাল হলেই মোরগ মুরগীরা খেতে বের হয়। আর মাঝের বেলায় বুড়ী পৌটা পুঁটি আয় আয় বলে ডাকতেই তারা ফিরে আসে। একদিন বুড়া বুড়োকে বল্লো ও গো আমি একবার আমার বোনের বাড়ী থেকে বেরিয়ে আসি কেমন? অনেক দিন যাইনি। বুড়ো বল্লো মন চেয়েছে যাও। আমি তোমার মোরগ মুরগী দেখা শুনো করবো। আর আমার খাওয়া দাওয়ার ভাবনা সে হয়ে যাবে। হাড়ায় চাল আছে নিঙ্গে রেঁধে খাবো। তুমি যাও। বুড়ি বুড়োর কথা শুনে সন্তুষ্ট হয়ে বোনের বাড়ী চলে গেল।
প্রায় একমাস হয়ে গেল তৰু বুড়ী এলোনা। বুড়ো মুরগীর রক্ষণাবেক্ষণ করে বটে কিন্তু মুরগীগুলো খাবার জন্য তার প্রাণ ছট ফট করে। একদিন বুড়ো লোভ সামলাতে না পেরে পুঁটি বলে একটি মুরগীকে রেঁধে খেয়ে ফেললো। কিন্তু বিভ্রাট বাধলো মুরগীর হাড় গুলো নিয়ে। খেয়ে দেয়ে হাড় গুলো মাটিতে ফেলে দিল। হাড় গুলো ফেলে দেবা মাত্র মাটি বলে উঠলো বুড়ী এলে বলে দেবো। বুড়ো তাড়াতাড়ি হাড় গুলি তুলে চালের বাতায় গুজে দিল। সেখানেও ঐ একই কথা- বুড়ী এলে বলে দেবো। বুড়ো তাড়াতাড়ি আবার সেখান থেকে হাড় গুলো নিয়ে পুকুরের পাড়ে মাটিতে পুঁতে দিল। সেখানেও ঐ একই কথা। হাড়গুলো নিয়ে বুড়া মহা এক ফাসাদে পড়ে গেল। হাড় গুলো সে রাখে কোথায়। যেখানে রাখে সেখানেই বলে বুড়ী এলে বলে দেবো। কি বিপদ! এমন সময় বুড়োর মাথায় এক বুদ্ধি এলো। বুড়ো হাড় গুলো নিয়ে গুজে দিলো। নিজের দাড়ীর মধ্যে। বুড়োর দাড়ী আর কথা বললো না। একদিন সন্ধ্যাবেলা বুড়ী বোনের বাড়ী থেকে ফিরে ডাকতে লাগলো। কিছুক্ষণ ডাকবার পরে যে মুরগী গুলি খেতে বেরিয়ে ছিল তারা সবাই একে একে এসে গেল কিন্তু পুঁটি বলে মুরগীটা এলো না। তখন বুড়ী খুব কাঁদতে লাগলো। অনেক ক্ষণ কাঁদার পর বুড়ী বুড়োকে জিজ্ঞেস করলো তার পুঁটি কোথায়। বুড়ো সোজা বলে বসলো আমি কি জানি? আমি কি তোমার মুরগী খেয়েছি। বুড়ী কিন্তু মনে মনে বুঝলো যে ঠিক বুড়োই তার পুঁটিকে খেয়েছে।
বুড়ী ঠিক করে রাখলো যে বুড়োর কাছ থেকে মুরগী ক্ষতির প্রতিশোধ নিতেই হবে। পাঁচদিন পরে একদিন বুড়ী বুড়োকে বললো আজ কতদিন হলো বোনের বাড়ী থেকে এসেছি একদিনও দেখলাম না তোমাকে গোসল করতে। এসো আজ গোসল করে দেই। বুড়ো প্রথমে না না করলো। কিন্তু বুড়ী বুড়োর কোন কথাই শুনলো না। সে জোর করে বুড়োকে গোসল করতে নিয়ে গেল। বুড়োকে খুব যত্ন করে গোসল
করিয়ে দিয়ে বললো- এসো তোমার দাড়ীটা একটু আঁচড়ে দেই। বুড়ো বুড়ীর কথা শুনে বললো না না দাড়া আঁচড়াবার কোন দরকার নাই। এমনি ঠিক আছে। বুড়ী কিন্তু বুড়োর কথা শুনলো না। সে চিরুনী দিয়ে বুড়োর দাড়ী আঁচরাতে আরম্ভ করলো। আঁচড়াবার সাথে সাথে দাড়ীর মধ্যে যে মুরগীর হাড় গোজা ছিল তা অমনি বেরিয়ে এলো। বুড়ী তা দেখে বুড়োকে ধমকে উঠলো-তবে যে বুড়ো তুমি বললে আমি মুরগী খাইনি? এখন এ হাড় বেরুলো কোথা থেকে? বুড়ো লজ্জায় মরে গেল। সে কোন জবাব দিল না। বুড়ো গোসল করে উঠলে বুড়ী বললো এগো আমাদের কুলগাছে তো অনেক কুল হয়েছে দুচারটা পাড়ো না। কুলের আচার করে খাওয়া যাবে।
বুড়ো বুড়ীর কথায় রাজী হয়ে গেল। কুল গাছে চড়লো কুল পাড়তে। ঝুল পেড়ে যখন বুড়ো গাছ থেকে নেমে আসছে তখন বুড়ী মজা করবার জন্য এক ধাক্কা মেরে বুড়োকে গাছ থেকে ফেলে দিল। বুড়ো গাছ থেকে পড়েই মরে গেল। বুড়ী ভাবতে পারেনি যে বুড়ো গাছ থেকে পড়ে অমনি মরে যাবে। বুড়ো মরে গেলে বুড়ী চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। বুড়োর শোকে বুড়ী ভাত খায় না। মাছ খায় না, এমন কি কিছুই যায় না। শুধু রাঙ দিন কাঁদে। একদিন বুড়ী কাঁদছে এমন সময় একটি কাক এসে বুড়ীকে জিজ্ঞেস করলো কেনরে বুড়ী কাঁদিস তুই। বুড়ী বললো, বাবা আমার বুড়ো মারা গেছে। এখন আমার কুল গাছ কে পাহারা দেবে তাই কাঁদছি। কাক বললো, আমি পাহারা দেবো। বুড়ী বললো কি বলে দেবে? কাক বললো এই বলে- কা কা কা, বুড়ীর মাথা খা। কথাটি শুনে রেগে গিয়ে বুড়ী বললো- দূর মুখো দূর হয়ে যা। কাক চলে গেল।
আর একদিন বুড়ী কাঁদছে এমন সময় একটা চিল এসে বুড়ীকে কাঁদবার কারণ জিজ্ঞেস করে। বুড়ী বললো আমার বুড়ো মরে গেছে, এখন আমার কুল গাছ কে পাহারা দেবে তাই কাঁদছি। চিল বললো আমি দেবো। বুড়ী বললো কি বলে দেবে। চিল বললো, চিল চিল, চিল বুড়ীর মাথায় কিল' বুড়ী রেগে বললো দূর পোড়ার মুখো দূর হয়ে যা। চিল উড়ে গেল। যে দিন চিল উড়ে গেল তার পরদিন একটা ফিঙে পার্থী এসে বুড়ীকে জিজ্ঞেস করলো বুড়ী কাঁদছো কেন? বুড়ী বললো সুজন এসে কান জ্বালিয়ে গেছে তুমি এসেছে আবার জ্বালাতে। ফিঙে বললোঃ না বুড়ী তোমার কাঁদবার কারণটি কি আমায় বলো। বুড়ী বললো আমার বুড়ো মরে গেছে। এখন আমার কুলগাছ কে পাহারা দেবে তাই কাঁদছি। ও এই কথা আমি পাহারা দেখো? কি বলে পাহারা দেবে?
এই বলবো-
ফিঙে ফিঙে বাবুর লাঠি,
যে বুড়ীর কুলগাছে হাত দেবে
তার নাকটি ধরে কাটি।
বুড়ী একথা শুনে খুব খুশী হলো। ফিঙে সারাদিন কুলগাছ পাহারা দেয় আর বুড়ীর কুল চুরি হয় না। বুড়ীও মুরগীর ব্যবসায় পুরাদমে মন দিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো।
--------------------সমাপ্ত, ---------------------------
জনাব,আপনার কাছে আর্টিক্যাল গুলো সামান্য ভালো লাগলে মন্তব্য এবং শেয়ার করে আমাকে উৎসাহিত করবেন। যাতে আমি আগামীতে পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী আরো সুন্দর কিছু আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারি।



কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন