Header Ads

Header ADS

ইঁদুর ছানার পরিনতি, মজার গল্প

    
ইদুর ও পেঁচা

   ইঁদুর ছানার পরিনতি 


খেতের ধারে একটা বড়ো বটগাছ। সেই গাছে বসে আছে বুড়ো পেঁচা। বিশ্রী কদাকার তার চেহারা। থ্যাবড়া মুখের মধ্যে চোখ দুটো জ্বলছে জ্বলজ্বল করে। গাছের ডাল পালার ভিতর দিয়ে দেখা যাচ্ছে চাদ মামার মুখ। পেচা গান গাইছে বিকট সুরে। ভূতম ভূতম ভূত ভূত, মন করে তাই হুত- হত ভূতম, ভূতম ভুত ভুত, পেঁচা একমনে গান গাইছে। এমন সময় ক্ষেতের একটা গর্ত থেকে মুখ বের করে ছোট একটা ইঁদুর ছানা বরে-ওহে পেঁচো এইটি তোমার গান নাকি? বাপরে কি বিকট আওয়াজ । বিশ্রী সুর। ইঁদুর ছানার কথা শুনে পেঁচা তার গান থামিয়ে তার দিকে এমন কটমট করে তাকালো যে ইঁদুর ছানা চটপট গর্তের মধ্যে ঢুকে পড়লো। ইঁদুরের মা সব শুনছিল। সে ছানাকে সাবধান করে দিয়ে বলল, খবরদার বাছা ঐ বিটকেলে পাখিটার কাছে আর যাবিনা, ওটা বড়ই ভয়ঙ্কর জিনিস। সুযোগ পেলোই তোকে মেরে খেয়ে ফেলবে। মায়ের কথা শুনে ইঁদুর ছানা মনে মনে হেসে ফেললো। সে ভাবলো মা মিছামিছি ভয় পাচ্ছে। ঐ বুড়া পাখিটার সাধ্য কি আমার কোন অনিষ্ট করে। পেঁচা যেমনি বোকা তেমনি অলস। সমস্ত দিন পড়ে পড়ে ঘুমায়। ভাল করে নড়তে চড়তে পারে না। ও আমার কি করবে। আমি চটপটে, কত আমার বুদ্ধি আমার সঙ্গে পারবে কেন ঐ লক্ষীছাড়া ভুম পেচাটা? মায়ের মিছামিছি চিন্তা আমার জন্য।


আমি মায়ের কথা শুনব না। রাত গভীর হলো। বাইরে তখনো পেচার গান চলছে। ভূতুর ভুতুর ভুত ভূত, হুহুং ভূত। ঘুমে ইঁদুর ছানার চোখ ঢুলে আসছিল। সে গর্তের এক কোণে ঘুমিয়ে পড়ে মজার মজার স্বপ্ন দেখতে লাগলো। সে দেখলো গাছের সেই বুড়ো পেচাটি এসে দাড়িয়েছে তার গর্ভের কাছে। মুখে তার মিষ্টি হাসি। তার চেহারা এখন ভারি সুন্দর দেখাচ্ছে। তার ঝুনকালো পালকগুলো চাঁদের আলোতে এখন ধর ধর করছে। বয়স মনে হচ্ছে এখন তার ঢের কম। পেচার হাতে কত রকম খাবার। সেই খাবার হাতে নিয়ে সে ইঁদুর ছানাকে ডাকছে- ইঁদুর ছানা ভাই, তোমার সাথে এবার আমি ভাব করতে চাই। কত রকম খাবার আমি নিয়ে এলাম তাই।


ঘুমের মধ্যেই ইঁদুর ছানা হেসে উঠলো আর ভারী ভাল লাগলো পেঁচাকে পেয়ে। পেঁচার গলার স্বরটিও মনে হলো ভারী মিষ্টি। যেমন সেতারের মিঠে ঝংকার। হঠাৎ তার ঘুম গেল ভেঙ্গে। তাকিয়ে দেখলো গর্তের দাগ দিয়ে এক ঝলক জ্যোৎস্না এসে পড়েছে। তার মা এখন গভীর ঘুমে মগ্ন। ইঁদুর ছানার মনে হলো পেঁচা যেন বাইরে থেকে মিঠে গলায় তাকে ডাকছে-


ইঁদুর ছানা ভাই তোমার সাথে এবার আমি ভাব করতে চাই, কত রকম খাবার আমি নিয়ে এলাম তাই।


ধীরে ধীরে ইঁদুর ছানা বাইরে বেরিয়ে এলো। চাঁদের ঝলমলে কিরণে সারা দুনিয়াটা যেন হাসছে। ঝির ঝির বাতাস বইছে। চারিধারে একটা শান্ত স্নিগ্ধ ভাব। কিন্তু তার বন্ধু পেঁচা কোথায়।


ইঁদুর ছানা তার গর্ত ছেড়ে গিয়ে হাজির হলো বট গাছটার নীচে। এমন সময় ঘটলো এক অদ্ভুত কান্ড। হঠাৎ শোঁ করে একটা শব্দ হলো। তারপর ঝড়ের মত ইঁদুর ছানার উপর কে যেন ঝাঁপিয়ে পড়লো। ইঁদর ছানা ভয়ে তাকিয়ে দেখলো সেই ভূতুম পেঁচাটা তীক্ষ্ণ নখ দিয়ে তার গাটা আঁকড়ে ধরেছে। আর পালাবার উপায় নেই। ইঁদুর ছানা মনে মনে ভাবলো তবে কি স্বপ্নের ঘটনাটা সবই মিথ্যা। ইঁদুর ছানাকে নিয়ে পেঁচা হাজির হলো নিজের বাসায়। পেঁচার তিনটি ছানা সেখানে ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদছিল। পেঁচা বাচ্চাদের বললো-


কাঁদিসনে আর লক্ষী সোনা এই এনেছি খাবার মনের সুখে এবার সবাই করবি এটা সাবাড়। যে শোনেনা মায়ের কথা ইচ্ছা মত চলে। উচিত মত শান্তি তাহার হয় যে ধরাতলে।


--------------------সমাপ্ত, ---------------------------

জনাব,আপনার কাছে আর্টিক্যাল গুলো সামান্য ভালো লাগলে মন্তব্য এবং শেয়ার করে আমাকে উৎসাহিত করবেন। যাতে আমি আগামীতে পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী আরো সুন্দর কিছু আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারি।


কোন মন্তব্য নেই

  [ছেলোদের পরীক্ষা হবে কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের ২য় তলায়, তারিখ- ৯ই ডিসেম্বর সকাল ৯টা এবং মেয়েদের পরীক্ষা মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ এর প...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.