Header Ads

Header ADS

সবাই সত্যদেব আত্মীয়, গল্প




 সবাই সত্যদেব আত্মীয় 


সত্যদের নামে এক ছাত্র আমাদের ক্লাসেই পড়ত। নাম তার সত্যদের হলেও মিথ্যা কথা বলতেই সে অভ্যন্ত ছিল। এমন অনায়াসে স্বচ্ছন্দে অনর্গল মিথ্যা কথা বলতে কেউ পারে কিনা সন্দেহ। ধরা পড়ে যেত কথায় কথায় তবুও সে একটুও ঘাবড়াতো না। একদিন বাংলার মাস্টার ধরণীবাবু আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কেউ কবিতা লিখতে জান? সত্যদের কী করে বলে উঠল; স্যার আমার জেঠামশাই জানেন। তখন সে সবেমাত্র স্কুলে ভর্তি হয়েছে। ধরণী বাবু জিজ্ঞসা করলেন তোমার জেঠামশাই কবিতা কাগজপত্রে ছাপান নাকি? সতাদের ধরণী মাস্টারের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বলে উঠল; হ্যাঁ স্যার আর বিস্তর কবিতা কাগজপত্রে ছাপা হয়। তার লেখা অনেক বইও আছে। ধরণীবাবু বললেন বাহ! কি নাম তার? সত্যদের বুক সটান করে বলল, আজ্ঞে তার নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ধরণীবাবু যেন বোকা বনে গেলেন। তিনি ভড়কে গিয়ে বললেন তাই নাকি? রবীন্দ্রনাথের ভাইপো তুমি তা তো জানতাম না। পরদিনই তার মিথ্যা কথা ধরা পড়ে গেল। ধরণীবাবু রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে গেলেন। কি আর সঙ্গে বাচালতা? আজই ওকে শায়েস্তা করে দিবেন। কিন্তু সত্যদেবের দেখাই নাই।


কয়েকদিন স্কুল কামাই করে যেদিন ক্লাসে এল সেদিন ধরণীবাবু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কি হয়েছিল তোমার জেঠামশায়ের বাড়ীতে বেড়াতে গিয়েছিলে বুঝি? মাথা তুলে সত্যদেব বলল, না স্যার পেটের অসুখ হয়েছিল। কেন? বাজারের বাসি সন্দেশ উদ্দেশ খেয়েছিলে নাকি? স্যার অস্ট্রেলিয়া থেকে আমার বড় মামা দেড়শো বছরের পুরনো হাঁসের ডিম পাঠিয়েছিলেন। সেই ডিমের কালিয়া খেয়ে পেট খারাপ হয়েছিল। ক্লাসের সব ছাত্রই হেসে উঠল। ধরণীবাবু সত্যদেবকে ভাল করেই চিনতে পেরেছেন। গম্ভীর হয়ে তিনি বললেন, দেড়শো বছরের পুরানো হাঁসের ডিম না ঘোড়ার ডিম। তোমার মাথা আর মুন্ডু। ফাজিল ফরুর কোথাকার। বেশ চালাকী করতে শিখেছিস। তোর নাম সতাদের কে রেখেছিল? মিথ্যাদের রাখাই উচিত ছিল। আজ্ঞে পিসিমা রেখেছিলেন। মুখ কাঁচু মাঁচু করে সে বলল। ধরণীবাবু বললেন কে তিনি? সত্যদের অসংকোচে বলে উঠল সরোজিনী লাইডু স্যার। ছাত্ররা হেসে উঠল। ধরণীবাবু বললেন! দাঁড়াও মজা দেখাচ্ছি। তোমার বাবার সঙ্গে দেখা করে আজই তোমার ভন্ডামী ভাঙ্গতে হবে। তিনি কখন বাড়ীতে থাকেন? সতাদের বলল তিনি এখানে নেই স্যার। জয়পুরে তার বন্ধুর বাড়ী নিমন্ত্রণে গেছেন। ধরণীবাবু ততক্ষণে রীতি মত চটে গেছেন। তিনি তেড়ে বললেন, কে তার ফ্রেন্ড। সত্যদের বেশ কৃতিত্বের সাথে বলে উঠল জয়পুরের মহারাজা। ধরণীবাবু ফ্যাল ফ্যাল করে তার মুখের দিকে চেয়ে রইলেন।


তারপর আর একদিন সত্যদের কোথা থেকে একটা ভোঁতা ভাঙ্গাচুরা ফাউন্টেন পেন এনে স্কুলে হাজির হল। ছাত্ররা ঠাট্টা করে বলল, কিহে এটা বুঝি তোর ঠাকুরদাকে পাতিয়ালার মহারাজা উপহার দিয়েছেন। মুখ গম্ভীর করে সত্যদের বলল, এর অর্থ তোৱা আর কি বুঝবি? তোরাতো শিখেছিস শুধু জ্যাঠামি আর ফুকুরি কাটতে। আর কথায় কথায় দাঁত বের করে হাসতে। আরে এই ফাউন্টেন পেন দিয়েই তো বিদ্যাসাগর মহাশয় সীতার বনবাস বইখানি লিখেছিলেন। তারপর তার কাছ থেকে উপহার পান মাইকেল মধুসূদন দত্ত। মেঘনাদ বধ কাব্য লিখতে এই কলমটি চুরি যায়। আমার বড় মামা তখন পুলিশের ইনসপেক্টর ছিলেন। তিনি চোরাই বাজার থেকে এইটিকে যখন উদ্ধার করেন তখন বিদ্যাসাগর মহাশয়ও নেই, মাইকেলও নেই। কাজেই সেই থেকে এটা আমাদের বাড়ীতেই আছে।


এমন গুছিয়ে সে এইসব আজগুবি গল্প করতে পারত, যে তাতে ছাত্ররাই বেশ আমোদ পেত। একদিন বাংলার মাস্টার মহারজ্ঞী শব্দের অর্থ জিজ্ঞাসা করলেন। সত্যদের বলল, আজ্ঞে স্যার যার রাগ খুব বেশী সেই তো মহারাজ্ঞী। যেমন আপনি নিজে এইতো সেদিন আমার উপর ভয়ানক রেগে গিয়েছিলেন। তার কথায় ক্লাসের ছাত্ররা !একসঙ্গে হো হো করে হেসে উঠল। এমনিভাবে প্রতিদিন সে তার প্রশ্নের যা ইচ্ছে তাই একটা উত্তর দিয়ে দিত। এই রকম মিথ্যা কথা ও হাসি তামাশার ভিতর দিয়ে সে তার পড়ার জীবন শেষ করে দিল। তারপর অনেকদিন চলে গেল সত্যদেবের আর দেখা নাই।


সেদিন চিত্তরঞ্জন এভিনিউতে ওর সঙ্গে একটি ছাত্রের দেখা হয়ে গিয়েছিল। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তখন সে চিনাবাদাম খাচ্ছিল। পূর্বেরচেয়ে অনেক রোগা দেখাচ্ছিল। ছাত্রটি জিজ্ঞেস করল কিরে সত্যদেব এতদিন কোথায় ছিলি রোগা হয়ে গিয়েছিস যে? এই তো কিছুদিন মেশোমশায়ের সরস্বতী আশ্রয়ে কাটিয়ে এলাম। আরে সেখানে বুঝি তোর মেশো থাকেন। তার নাম কি? সত্যদেব আরো গম্ভীর হয়ে বেশ অহংকারের সঙ্গেই বলল মহাত্মাগান্ধী। ছাত্রটির বুক ঠেলে হাসি বেরিয়ে আসতে চাইল। অনেক কষ্টে তা চেপে সে বলল তুই বাঙ্গালী মহাত্মাগান্ধী তোর মেশো মশাই হল কি করে? সত্যদেব বলল, মহাত্মাগান্ধীর স্ত্রী আমার মায়ের মামাতো বোন। মায়ের এক মামা। গুজরাটি মেয়ে বিয়ে করেছিলেন কিনা। কস্তুরীবাই অর্থাৎ গান্ধীজির স্ত্রীর সেই গুজরাটি দিদিমার সম্পর্কে বোনঝি। তাহলে কস্তুরীবাই হচ্ছেন আমার মেশোমশায়। সেই সময় একটা ট্রাম এসে মোড়ে থামতেই ছাত্রটি তাতে চড়ে বসল। মনে হল দুনিয়ার বড় লোক সবাই ছিলেন সত্যদেবের আত্মীয়।


--------------------সমাপ্ত, ---------------------------

জনাব,আপনার কাছে আর্টিক্যাল গুলো সামান্য ভালো লাগলে মন্তব্য এবং শেয়ার করে আমাকে উৎসাহিত করবেন। যাতে আমি আগামীতে পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী আরো সুন্দর কিছু আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারি।


কোন মন্তব্য নেই

  [ছেলোদের পরীক্ষা হবে কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের ২য় তলায়, তারিখ- ৯ই ডিসেম্বর সকাল ৯টা এবং মেয়েদের পরীক্ষা মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ এর প...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.