Header Ads

Header ADS

ভাইরাস




 ভাইরাস 


বর্ষা এসে পড়েছে। রাতদিন ঝুপঝাপ সৃষ্টি। আর পারা যায় না। লিটন বিউটি দুই ভাই বোন হাঁপিয়ে উঠল। তারা বার বার হতাশ ভাবে বাইরের দিকে তাকায়। আজ তিন-চার দিন তারা একটুও বাইরে যেতে পারেনি। বাইরের মাঠ-ঘাট যেন তাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আর কতদিন চুপচাপ ঘরের ভিতর বসে থাকা যায়। শেষে আর থাকতে না পেরে লিটন বলল-চল বিউটি আপা আমরা বাইরে যাই। বিউটি ভয়ে তায় বলল পানি হচ্ছে যে। পানিতে ভিজালে মা বকবেন। যা হোসনেয়ারা তখন একমনে রান্না করছেন। লিটিন রান্নাঘরে একবার উকি দিয়ে এসে বিউটির হাত ধরে বলল- যা এখন কাজ করছেন জানতে পারবে তখনও টিপ টিপ বৃষ্টি হচ্ছিল। ভাই টুটু বোন বিলকিস তার ছেলে বাঁধন, তানভীরসহ ওদের নানী পারিয়েছেন আমেনা বিছানায় শুয়ে ঘুম। মাঠে পানি জমে থৈ থৈ করছে। লিটন বিউটি কাপিয়ে পড়ল পানির মধ্যে। বর্ষারদিনে ঠান্ডার রাজত্বে সকলেই খুব ব্যস্ত। ঠান্ডার রাজ্যের রাণী তার সব ছেলে মেয়েকে নানা দিকে। কাকে কি কাজ করতে হবে তা তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। সর্দি কাশি দুই ভাই এই মাঠে এসে ঘুমিয়ে পড়েছিল। পানির মধ্যে। লিটন, বিউটি ঝাঁপিয়ে পড়ল ওদের ঘাড়ে। সর্দি কাশি দুই রেগে। সর্দি বলল ছেলেটা ভারী পাজাতো। কাশি বলল, মেয়েটা এক নম্বরের শয়তান। তাই হাল উঠে দাঁড়িয়ে বলল দাঁড়া দেখাচ্ছি ওদের মজা। তুই ঢুকে পড়তো ঐ মেয়েটার শরীরের মধ্যে আর আমি এই গুটলু ছেলেটাকে জব্দ করছি। সর্দি কাশি দুই ভাই ঢুকে পড়ল লিটন, বিউটি দুই ভাই বোনের শরীরের


লিটনের নাকের মধ্যে সুড় সুড় করে উঠল সঙ্গে সঙ্গে শব্দ বেরুল হ্যাঁচ্চো। বিউটির মুখ থেকে বেরিয়ে এল থক থক থক। জানালা দিয়ে মা ডাকলেন লিটন, বিউটি হচ্ছে কি? শীঘ্রই বাড়ী এসো। ওরা বাড়ী ফিরে এলো। মা, তাদের ভিজে কাপড় বদলে দিতে দিতে বকতে লাগলেন। শয়তানেরা এই বাদলাদিনে এমন করে ঠান্ডা লাগাচ্ছে, সর্দি কাশি হবে যে হতভাগারা। সর্দি কাশি দুই ভাই ভিতর থেকে জানালো যে তারা আগেই তাদের পেয়ে বসেছে। দুই ভাই বোনের মুখ থেকে শব্দ বেরল হ্যাঁচ্চো, হ্যাঁচ্চো, খক খক। যা ভেবেছি তাই। লাগিয়েছ তো ঠান্ডা ভোগ এখন। মা তাদের দু'জনকে গরম কাপড় পড়িয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলেন। রাতে সর্দি কাশি লিটন, বিউটিকে অস্থির করে তুলল। সারারাত তারা ঘুমাতে পারল না, থক থক আর হ্যাঁচ্চো হ্যাঁচ্চোর জ্বালায় দুই ভাই বোন কাতর হয়ে পড়ল। তাদের বাবা মাও ঘুমাতে পারলেন না। বাবা বজলুর রহিম সাহেব আবার ভীত মানুষ। তিনি বিউটির মাকে বললেন, আজকাল চারিদিকে বড় নিমোনিয়া হচ্ছে। ওদের একটু সাবধানে রেখ। কাল সকালে ডাঃ ইয়াছিন সাহেবকে দিয়ে বুকটা না হয় একবার পরীক্ষা করিয়ে নেব। মধ্যে।


পরদিন লিটন, বিউটি বিছানা থেকে উঠতে পারলনা। সেদিন বৃষ্টিটা একটু কম ছিল। দুই ভাই বোন করুণ দৃষ্টিতে বাইরের দিকে তাকাতে লাগল। যদি তারা একটু বাইরে যেতে পারত। বিকেলে তাদের বাবা অফিস থেকে এসে বললেনঃ কাল রাত্রে পৌরসভার চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম সাহেবের বাড়ীতে দাওয়াত। আমাদের যেতেই হবে। কিন্তু লিটন বিউটির আর যাওয়া হবে না। ওরা বাড়ীতেই থাকবে, যে সর্দি কাশি হয়েছে ওদের। লিটন বিউটির মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়ীতে আর একবার তারা দাওয়াত খেয়েছিল। সেই সকল রকমারী খাবারের গন্ধ যেন তাদের নাকে এসে লাগল। জিহবাটা পানিতে ভরে উঠল। এত মজার খাবার হবে আর তারা খেতে পারবেনা। লিটন বিউটি উভয়ের চোখে পানি এল। রাত্রে সর্দি কাশি দুই ভাই অনেকক্ষণ ধরে জ্বালাতন করে যখন একটু চুপ করল তখন লিটন বিউটি ঘুমিয়ে পড়ল।


বিউটিদের বাসার নিকটেই থাকতেন নামকরা ডাক্তার ইয়াছিন। তার ছোট মেয়েটা কিছুতেই কাপড় গায়ে দিতে চায় না। মেয়েটির মা জহুরা ইয়াছিন রেগে উঠলেন, হতভাগী মেয়ে জামা গায়ে দাও, নইলে সর্দি কাশি হবে যে। ডাক্তার ইয়াছিন হেসে বললেন, ডাক্তারের বাড়ী এতো সহজে সর্দি কাশি আসেনা। সর্দি তার ভাই কাশিকে ডেকে বলল- শুনেছিস ভাই আস্পর্ধার কথা। ডাক্তারেরা যেন মরে না। কাশি বলল, দাঁড়াও ওদের মজা দেখাচ্ছি। আমি ওদের জব্দ করে আসি। সর্দি বলল না ভাই যেওনা। আমাদের এখনকার কাজ এখনও শেষ হয় নাই। এখন একে ছেড়ে গেলে রাণীমা বকবেন। ইনফ্লুয়েঞ্জা মামাকে দিয়ে মার খাওয়াবেন। কাশি বিউটির শরীর থেকে বেরিয়ে এসে বলল ভয় করি না আমি ইনফ্লুয়েঞ্জা মামাকে। বড় হয়ে আমি নিউমোনিয়া হব। আমি চল্লুম তুই আয়। আমি একা ডাক্তারকে কাবু করতে পারব না। সর্দি বড় ভাইয়ের কথা অমান্য করতে পারলো না। লিটনের শরীর থেকে বেরিয়ে কাশির পিছু পিছু চলে গেল। সকাল বেলা উঠে লিটন বিউটি দেখল তাদের সর্দি কাশি সেরে গেছে। তাদের বাবা বললেন, ডাক্তার ইয়াছিনের ওষুধটা বেশ উপকার করেছে দেখছি। লিটন চেঁচিয়ে উঠে বলল, আব্বু আমাদের চেয়ারম্যান কাকুর বাসায় নিয়ে যাবে তো? হ্যাঁ নিয়ে যাব। যাবার কথাতে লিটন, বিউটি আনন্দে নাচতে লাগল। কিন্তু ঠান্ডার রাজত্বে ঠান্ডার রাণী কাঁদতে বসেছে। এইমাত্র খবর এল সর্দি কাশি দুই ভাই ইয়াছিন ডাক্তার সাহেবের বাসায় ওষুধ চাপা পড়ে মারা গেছে।


--------------------সমাপ্ত, ---------------------------

জনাব,আপনার কাছে আর্টিক্যাল গুলো সামান্য ভালো লাগলে মন্তব্য এবং শেয়ার করে আমাকে উৎসাহিত করবেন। যাতে আমি আগামীতে পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী আরো সুন্দর কিছু আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারি।


কোন মন্তব্য নেই

  [ছেলোদের পরীক্ষা হবে কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের ২য় তলায়, তারিখ- ৯ই ডিসেম্বর সকাল ৯টা এবং মেয়েদের পরীক্ষা মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ এর প...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.