লোভের পাওনা এমন
লোভের পাওনা এমন
এক বৃদ্ধলোকের তিন ছেলে। তিনজনকেই তিনি বিয়ে দিয়ে তিন বৌ ঘরে এনেছেন। বেশ কিছু দিন পর বৃদ্ধলোকের স্ত্রী মারা গেলেন। বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এখন তার সেবা যত্ন বৌয়েরা প্রথম প্রথম বেশ সেবা যত্ন করত কিন্তু পুরানো এখন তারা বিরক্ত বোধ করে। এখন সহজেই কেউ তার কাছে আসতে চায় না। বৃদ্ধ চিন্তা করলেন নিজের জন্য এখন একটা বুদ্ধির প্রয়োজন। তিনি আলাদা ঘরে থাকেন। একদিন অনেক রাতে বড় একখানা মাটির হাড়ি এনে লাল সালু কাপড় দিয়ে মুখ ভাল করে বেধে ফেললেন। পরে এটাকে ঘরের দো বাঁশার উপর রেখে দিলেন। কয়েকদিন পর বড় ছেলেকে ডেকে ঘরে এনে বলল, দেখ বাবা তুই আমার বড় ছেলে এবং প্রথম সন্তান তোকে কিছু দিয়ে যেতে চাই। আগ্রহ তরে তার ছেলে বলল কি বাবা? বৃদ্ধ দো বাঁশার দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বললেনঃ ঐ হাড়ির ভিতরে সোনাদানা টাকা পয়সা সবই আছে, আমি মরবার পর এটা তুমি নিও। আমি এটা তোমাকেই দিয়ে যেতে চাই। বৃদ্ধ একে একে তিনি ছেলেকেই একই কথা বললেন। তিনি আরও বললেন, কেউ যেন এটা না খুলে ফেলে। এতে এখন জানাজানি হয়ে যাবে। সেজন্য আমি মারা যাবার পর আমার কথামত তো পাবেই। মেজকে ডেকে বলল, তুমি আমার মেজ ছেলে তোমাকে বড় ও ছোট ছেলে থেকে দয়া একটু বেশী লাগে, তাই এটা তোমাকেই দিয়ে যেতে চাই। ছোট ছেলেকে বললেন, বুঝতেই তো পারছো। তুমি আমার সবছেলের ভিতর ছোট। তোমার মায়ের আবার পেট মোছা, ছেলে তাই তোমার উপর দরদ সবসময়ই বেশী। আমি অভাবে এই হাড়ীটা হবে তোমার, তুমিই এটার মালিক। ভিতরে কি আছে তা বুঝিয়ে দিয়ে বললেন, আমি এটা তোমাকেই দিয়ে যেতে চাই।
এর পরের ঘটনা। বড় ছেলে বাজার থেকে আঙ্গুর কমলা সেফ ইত্যাদি নানান ফল ফলান্তি এনে বাবার হাতে দিল। বৌকে বলল, তোমরা আগের মত বাবার সেবা যত্ন কর না কেন? এগুলি ঠিকমত খেতে দাও। মেজ ছেলে বাজার থেকে রুই মাছ এনে বৌকে বলল, মাছের মাথাটা বাবাকে খেতে দিও। বুড়োমানুষ কয় দিন আর বাঁচবে। ছোট ছেলে বাড়ী এসে এক বালতি দুধ তার বৌ এর হাতে দিয়ে বলল, বাবার চেহারার দিকে আর তাকানো যায় না। কি অবস্থা হয়েছে? ঠিকমত দুধ খেতে দিও। আর শীতের দিন গোসলের পানি গরম করে দিও। বাতের ব্যথা পা একটু টিপে দিও, শ্বশুরের খেদমত করলে পরকালে ভাল হবে বুঝলে? জামাকাপড় গুলি সাবান দিয়ে ধুয়ে দিও। ছোট বউয়ের কাজ দেখে অন্য দু'জনও বুড়োর সেবাযত্নও করতে লাগল। এভাবে বৃদ্ধের খেদমত খুব ভাল ভাবেই চলতে লাগল। দুঃখ কষ্ট, এমন কোন অসুবিধা আর রইল না।
কিছুদিন পর হঠাৎ করে বৃদ্ধ মারা গেলেন। বৃদ্ধকে কবর দিয়ে এসেই বড় ছেলে বলল, দো-বাশার উপর হাঁড়িটা দেখছ ওটা বাবা আমাকে দিয়ে গেছেন। এর ভিতর মেজো ছেলে এসে বলল ঐ হাড়িটা আমার। সবাইকে লক্ষ্য করে বলল, খবরদার ওতে কেউ হাত দিবে না। অল্প কিছু ক্ষণের মধ্যে ছোট ছেলে। এসে উপস্থিত। ওর হাড়ির উপর অন্যের দাবীর কথা শুনতে পেয়ে সে ঘর থেকে লাঠি বের করে বলল, কেউ এই হাড়িতে হাত দিবে না। ওতে হাত দিলে কাউকেই বাঁচাব না। বাবা ওটা আমাকে দিয়ে গেছে। একেবারে মারামারি হবার যোগাড়। শেষে গ্রামের লোকজন এল, মাতবরও এলেন। মাতবর ঠিক করলেন এখন কাজীর বিচারের দরকার। কাজীকে তাই ডেকে আনা হল। কাজী সাহেব এসে একে একে সব ঘটনাই বৃদ্ধের বড় ছেলের নিকট থেকে শুনলেন। তিনি সবার কাছ থেকে একদিন মাত্র সময় চেয়ে নিলেন। ঘরটির দরজায় বড় তালা লাগিয়ে চারিখানা কাজী সাহেব নিয়ে গেলেন। আর সবাইকে ঘরটির পাহারা থাকতে বললেন। কাজী সাহেব পরদিন এক দর্জির নিকট থেকে বিরাট দেখে একটি জামা তৈরী করলেন। তার জামার পকেট চার খানা করে নিলেন বেশ বড় বড়। মতলব বোঝা দায়। যা হোক একদিন পর কাজী এলেন বিচার করতে। তিনি বললেন, আমি এখন মাঠের ভিতরে গিয়ে দাঁড়াব। ঐ হাড়ীটা আমার মাথার কাপড়ের একটা চাকা তৈরী করে বসিয়ে দাও।
আমার চারিদিকে দূরে দূরে লোকজন দাঁড়িয়ে থাকো। আর গ্রামের মাতব্বর সাহেব এক, দুই, তিন বলিয়া এই লাঠি দিয়ে হাড়িতে আঘাত করবে। তোমার তিনভাই আমার পাশে থাকো। যখন হাড়ি ভেঙ্গে। সোনা দানা টাকাপয়সা আমার চারিপাশে পড়তে থাকবে তখন তোমরা তিনভাই যে যা কুড়ে নিতে পারবে সে গুলো তারই হবে। কাজী সাহেব বললেন, আমার গা বেয়ে পড়তে পড়তে যে গুলো পকেটে ঢুকে যাবে সেগুলোই হবে আমার। কাজীর পকেট গুলো এমনিই তো বড় বড় করে তৈরী করা। তারমধ্যে আবার উনি এগুলো এমন ভাবে হাঁ করে রেখেছেন তাছাড়া পকেটগুলোর আবার ঢাকনা নাই। ঘটনাটি দেখবার জন্য লোকজন চারিদিকে ভিড় করে দাঁড়ালো। কাজী সাহেব এক দুই তিন বলায় মাতবর সাহেব লাঠির দ্বারা ** হাড়িতে বাড়ি দিবার সঙ্গে সঙ্গে সবাই অর্থ কুড়ানোর দিকে ঝুঁকে পড়ল। হাড়ী ভাঙ্গলো ঠিকই তবে কাজী সাহেব চিৎকার দিয়ে উঠলেন-কেননা এতদিন বৃদ্ধ হাড়ীর ভিতর পায়খানা করে কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখতেন। একটু দুর্গন্ধ হলেও রোগীর ঘরে ধূপবাতি জ্বালানোর জন্য মদের গন্ধ কাউকে লাগেনি। আর কেউবা রোগীর ঘরে গেছে। সবাই অবাক হলো যখন মাতবর লাঠির বাড়ি হাড়ীতে মারলো। তখন সঙ্গে সঙ্গে হাড়ী ভেঙ্গে গলগল করে মল পড়ে কাজী সাহেবের কাপড় চোপড় নষ্ট হলো আর পকেটে ঢুকে গেল। প্রায় ৩/৪সেরের মত। এসময় চারি দিকে সবাই দৌড়াতে লাগলো। ছেলেরা মৃত বাবাকে গালি গালাজ করে গোসল করতে গেল। তারা বলতে লাগল এজন্যই বুড়োর এই বুদ্ধি। কাজী সাহেব হায়! হায়! করতে লাগল। তিনি বলে উঠলেন, জীবনে অনেক বিচার করেছি তবে এমন বিচার জীবনে কখন করিনি আর দেখিও নি। এই বলে কাজী সাহেব নদীর দিকে রওনা দিলেন।
--------------------সমাপ্ত, ---------------------------
জনাব,আপনার কাছে আর্টিক্যাল গুলো সামান্য ভালো লাগলে মন্তব্য এবং শেয়ার করে আমাকে উৎসাহিত করবেন। যাতে আমি আগামীতে পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী আরো সুন্দর কিছু আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারি।



কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন