Header Ads

Header ADS

ম্যাজিকের রহস্য ২১,এক্স-রে ভিশান (X-RAY VISION )

 

এক্স-রে ভিশান (X-RAY VISION )

কচি কাঁচার মেলার পরিচালক ' দাদা ভাই' এর আমন্ত্রনে আমি একবার কচি কাঁচার সপ্তাহ ব্যাপী মেলা ও প্রদর্শনীতে জাদু প্রদর্শনীর জন্য ঢাকায় উপস্থিত হই। আমার এক্স-রে ভিশান খেলাটি দেখে দর্শকবৃন্দের কেউ কেউ ব্যক্তিগত পত্রে রহস্যটির কৌশল জানার জন্য অনুরোধ জানান । জাদুকর মহল এই খেলাটি বিভিন্ন নামে পরিবেশন করে থাকেন । যেমন- এক্স-রে আই, আনবিক দৃষ্টি বা ATOMIC VISION, অন্তর্দৃষ্টি, দিব্য দৃষ্টি, ইত্যাদি। আমি এক্স-রে ভিশান নামেই খেলাটির পরিচয় দিয়ে থাকি। এর পদ্ধতি দীর্ঘদিন সাধনার বিষয় এবং উপযুক্ত ব্যক্তিত্ব, প্রদর্শন ভঙ্গী ও অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে । এই বই এ প্রথম শিক্ষার্থীদের উপযোগী সহজ কৌশল যুক্ত অতি চমকপ্রদ আমার এক্স-রে ভিশানের একটি পদ্ধতি এখানে প্রকাশ করছি।

সংঘটন : টুপীর ভিতর ভিন্ন ভিন্ন রঙের ২০/২২ খানা রঙীন সিল্কের রুমাল নিয়ে জাদুকর এক্স-রে ভিশান সম্বন্ধে সামান্য ভূমিকা দেন এবং দর্শকদেরকে নীরব থাকতে অনুরোধ করলেন । তাঁর অনুরোধে দর্শকবৃন্দের একজন তাঁর চক্ষু দু'টি বেঁধে দিলেন । এবার যে কোন দর্শক-যে কোন একটি রঙ্গীন রুমাল জাদুকরের হাতে তুলে দিলে তিনি ধীর এবং গম্ভীর ভাবে বলে দিলেন-" রুমালতীর রং নীল” ( ৫২ নং চিত্র )। যদি কেউ সন্দেহ করেন নাকের পাশ দিয়ে দেখছেন- তবে জাদুকর তা'র হাতটি পিছনে নিয়ে খেলা দেখাবেন । দর্শক এবারে তার মনোনীত রঙের রুমালটি জাদুকরের পিছনে রাখা হাতে দেবেন । কিন্তু; কী আশ্চর্য । এবারে এবং প্রতিবারেই জাদুকর নির্ভুলভাবে রুমালের রং বলে দিতে লাগলেন ।

উপকরন : একটি টপ হ্যাট ( অভাবে একটি সুন্দর ভাবে নক্সা করা বাক্স ), ২১ খানা রুমাল - ৩টি নীল, ৩টি লাল, ৩টি হলুদ । ৩টি

বেগুনী, ৩টি সবুজ, ৩টি সাদা ও ৩টি কমলা রঙের । চক্ষু বাঁধবার তুলার প্যাড ও কালো রঙের বন্ধনী- যার দু'পাশেই ইলাষ্টিক লাগানো । পুঁতির হিসাব-নীল রুমালের জন্য ৩টি, হলুদ রুমালের জন্য ৬টি, সবুজ



রুমালের জন্য ৬টি মোট ১৫টি গোল পুঁতি, আবার লাল, বেগুনী, সাদা মোট ১টি রুমালের জন্য চৌকাপুঁতি ১৫টি প্রয়োজন হবে । ৯টি রুমালের জন্য ১৫টি গোল পুতির প্রয়োজন হবে ।

মানসিক সংকেত (Code) : একটি বিশিষ্ট সংকেত এই খেলাটির মূল কৌশল । কোড়টি আমার নিজের তৈরী । প্রকৃত পক্ষে খেলাটি খুবই

সহজ । প্রতিটি রুমালের কোণে গোল ও চৌকাপুতি ( bead ) ( যেন হাত দিয়ে অনুভব করা যায় কোনটি গোল আর কোনটি চৌকা পুতি) 'হেম' শেলাই করার সময় ভরে নেবে।

যেমন --

(১) নীল- এককোণে গোল পুতি

১ নং কোড় " নীলা



(২) লাল- এককোণে চৌকা পুতি

(৩) হলুদ - এক ধারের দু'কোণে গোল পুতি, ২নং কোড়- "হবে"

(৪) বেগুনী - এক ধারের দু’কোণে চৌকা পুঁতি

(৫) সবুজ – কোনাকোণী দু’কোণে গোল পুতি, ৩নং কোড় "স সা ”

(৬) সাদা - কোনাকোণী দু’কোণে চৌকা পুতি

(৭) কমলা – কোন কোণেই পুঁতি নেই- ৪ নং কোড- ক” এই কোডটিকে শৃঙ্খলার সাথে মনে রাখতে হলে প্রতি রঙের - নামের প্রথম অক্ষর নিয়ে নী-লা-১নং, হ-বে-২নং, স-সা- ৩নং এবং ক- ৪ নং কোড় তৈরীকরা গেল । যেমন-নীলা ইত্যাদি। নীল এবং লাল

কর্তব্য : প্রথমেই রুমাল হাতে নিয়ে যদি কোনাকোণী দুই কোনে পুতি থাকে তবে ৩নং কোড টি মনে করতে হবে-এইভাবে যদি এক ধারের দু’কোণে পুঁতি থাকে তবে - ২নং কোড ইত্যাদি। এবারে তর্জনী ও বুড়ো আঙ্গুলে অনুভব করে যদি ' মসৃণ' বলে মনে হয়-তবে ৩নং কোডের মনোনীত রুমালের রং হবে 'সবুজ' যদি ২নং কোডে দুই কোনের পুঁতি " অমসৃন" অনুভূত হয় তবে " হবে” কোডের ২নং রঙ অর্থাৎ " বেগুনী ” । যে রুমালের কোন কোণেই পুঁতি নেই সেটি হবে *

কমলা" রঙের। আজই - -"নীলা-হবে-সসা-ক” কোটি মুখস্থ করে ফেলুন।

সাবধানতা—রুমাল হাতে নিয়ে দর্শকদের সাথে -দু-একটি আমোদ জনক কথার ফাঁকে পুতি অনুভবের কাজটি অল্প সময়ে সমাধা করতে হবে। দু'একবার নাকের কাছে নিয়েও গন্ধ শুঁখার অভিনয় করতে হবে। এই পদ্ধতিকে ' মনোভাব বিকেন্দ্রী করন' ( misdirection) বলে। তার পর রুমালটিকে ধরে ধীর গম্ভীর ভাবে রুমালের রঙটি বলবেন। রুমাল গুলির আকৃতি, আয়তন এবং কাপড় একই রকম হওয়া চাই । শুধু রঙ গুলিই বিভিন্ন হবে।




কোন মন্তব্য নেই

  [ছেলোদের পরীক্ষা হবে কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের ২য় তলায়, তারিখ- ৯ই ডিসেম্বর সকাল ৯টা এবং মেয়েদের পরীক্ষা মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ এর প...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.