শিয়ালের বন্ধুত্ব, গল্প
শিয়ালের বন্ধুত্ব,
-তিন দিন থেকে শিয়াল পন্ডিতের খাওয়া হয়নি। বেচারার নাড়ী ভুড়া ক্ষিধের জ্বালায় জ্বলে যাচ্ছে। সে নিজের যন্ত্রণা না হয় সহ্য করতো কিন্তু তার ছোট দু'টি বাচ্চাও যে কয়দিন একেবারে উপোসা। ওরা কেঁদে কেঁদে শিয়াল পন্ডিত তাদের জন্য কিছুই খাবার যোগাড় করতে পারেনি। কয়দিন আগে এক টুকরো খরগোশের মাংস। তাদের ভাগ্যে জুটছিল বটে, তারপর একেবারে অনাহার। সর্বনাশের মূল হচ্ছে তেজা কুকুর গুলো। ওরা চাষাদের ক্ষেত খামার পাহারা দেয়। কাজেই সেদিকে সাহস করে এগোয় কার সাধ্য। অমন নধর নধর মুরগীর বাচ্চাগুলোর দিকে তাকালে জিব দিয়ে টপ টপ করে জল ঝরে পড়ে। কিন্তু উপায় কি ওদিকে একটু ঘেষতে গেলেই রাক্ষসে কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করে তেড়ে আসে। না এভাবে আর পারা যায় না। শিয়াল পন্ডিতের মাথায় হঠাৎ একটা দুর বুদ্ধি গজিয়ে উঠলো। সে অমনি তার লেজ দুলিয়ে হেলতে দুলতে চললো তার গাঁও ছেড়ে। কিছু দূর গিয়েই সে দেখলো গাছের উপর একটি টুনী পাখী। সে দিব্বি মনের আনন্দে গান করছে। টুনীকে দেখে শিয়াল ছোট একটি নমস্কার করে মুচকি হেসে বললোঃ বন্ধু টুনী বন্ধু টুনী করছি নমস্কার, সকাল বেলার গানটি তোমার বড়ই চমৎকার। হঠাৎ হোৎকা মুখো শিয়ালটাকে দেখে টুনীর তো ভয়ে মুখ গেল শুকিয়ে। কিন্তু গাছের অনেক উপরে থাকায় সে অনেকটা নিশ্চিত হয়ে রইল। শিয়াল তার কিছুই অনিষ্ট করতে পারবে না। শিয়াল আবার বললঃ ভাই টুনী তুমি আমার জন্য একটা কাজ করবে। এ জগতে তুমি ছাড়া আমার আর অন্য কোন বন্ধু নাই। সবাই আমাকে দুষ্ট বলে জানে ও আমকে ভয় করে। এমন কি আমার পাড়ার চাষাদের ক্ষেতে খামারে যে হাঁস মুরগী খরগোশ গুলো থাকে তারাও আমাকে এড়িয়ে চলতে চায়। শিয়ালের কথায় টুনীর দুঃখ হোলো। সে মনে মনে ভাবলো শিয়ালটা সত্যিই ভালো। সে বললো, তাই শিয়াল, তুমি তো ওদের কোন অনিষ্ট চিন্তা করো না। জিভ কেটে শিয়াল বললোঃ আরে ছিঃ ছিঃ এ কথা আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনা। আমার মত বন্ধু তাদের আর কে আছে। তুমি যদি ভাই তাদের কাছে আমার একটা খবর দিয়ে আসতে পারো তবে বড়ই উপকার হয়। টুনী উৎসুক হয়ে বললো, কি খবর। শিয়াল বললো শুধু এই খবরটা তাদের দিয়ে আসবে যে শিয়াল তাদের বন্ধু হতে চায়। তাদের ভালবাসতে চায়। শিয়ালের কথা শুনে টুনী আনন্দে রাজী হলো। শিয়ালের ফন্দি ফিকির সে কিছুই বুঝতে পারলো না। টুনী প্রথমে গিয়ে হাজির হলো একটি ধাড়ী হাঁসের কাছে। আর তাকে শিয়ালের কথা খুলে বললো। টুনীর কথায় বোকা হাঁস বিশ্বাস করলো। আর খুশী হয়ে শিয়ালের কাছে যেতে রাজী হলো। খপ খপ করে হেলতে দুলতে হাঁস তার একটি সঙ্গীকে নিয়ে চললো শিয়ালের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে।
এদিকে এই খবরটা চারিধারে ছড়িয়ে পড়লো। চাষার বাড়ীর খরগোশ আর হাঁস মুরগী গুলি এতে খুব সন্তুষ্ট হলো। দৃষ্ট শিয়াল যদি তাদের বন্ধু হয় তবে মন্দ কি? তাদের সব ভয় ভাবনা দূর হয়ে যাবে। এদিকে শিয়াল অপেক্ষা করছে। এক নির্দিষ্ট জায়গায় হঠাৎ খুশী হয়ে দেখলো টুনী দুটো মোটা হাঁসকে নিয়ে তার দিকে আসছে। টুনী শিয়ালের সঙ্গে হাঁস দুটির পরিচয় করিয়ে দিয়ে নিজের বাসার দিকে উড়ে গেল। আর দুষ্ট শিয়াল সেই নির্জন জায়গায় হাঁস দু'টির ঘাড় মটকে বাড়ীতে নিয়ে বাচ্চাদের খেতে দিল। এই ভাবে কিছু দিন যায়। আর একদিন সকালবেলা টুনী গাছের ডালে বসে গান করছে। আবার সেই দুষ্ট শিয়াল এসে বল্ল "বন্ধু টুনী বন্ধু টুনী করছি নমস্কার, সকাল বেলার গানটি তোমার বড়ই চমৎকার।" টুনী প্রফুল্ল হয়ে বললো, আজ আবার কি চাও বন্ধ। শিয়াল বল্লো আজ আবার যেতে হবে খরগোশদের কাছে। তাদের বলতে হবে আমি তাদের সঙ্গেও বন্ধুত্ব করতে চাই। আমার ইচ্ছে খরগোশদের জন্য একটা ভোজের উৎসব করি। তারা যে সব জিনিস খেতে ভালবাসে আমি তারই আয়োজন করবো। কাল সকালে এই ঝোপের পাশে আমার সঙ্গে তাদের দেখা করতে বলে এসো। টুনী মনের আনন্দে উড়ে গেল খরগোশদের কাছে। খরগোশদের দলপতির কাছে গিয়ে সে শিয়ালের কথা বল্লো। শিয়াল যে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে তাদের নিমন্ত্রণ করছে। এ কথা সে বেশ সরলতার সঙ্গেই তাকে জানিয়ে দিল। টুনীর মুখে সমস্ত কথা শুনে খরগোশ বল্লো বেশ তো আমরা এতে রাজী আছি। তবে আগে একটু পরীক্ষা করে দেখতে হবে সত্যি শিয়াল আমাদের বন্ধু কি না। টুনী বললো পরীক্ষা করে দেখা নিশ্চয়ই দরকার। তবে এই শিয়ালটি বড় ভালো। কারুর কোন অনিষ্ট চিন্তা করে না। তোমার ছোট ছোট বাচ্চাদের কাল সকালে একবার তার সঙ্গে দেখা করতে বলেছে। তারা কি কি খেতে ভালবাসে তাই সে জানতে চায়।
টুনী আর খরগোশের এইসব আলোচনা শুনে খরগোশের বাচ্চারা আনন্দে নাচতে নাচতে পরদিন ভোর বেলা হাজির হলো সেই ঝোঁপের ধারে। ধৃত শিয়াল ওৎ পেতে বসেছিল। সে খরগোশের বাচ্চাগুলোর ঘাড় মটকে মেরে ফেলে গর্তের দিকে টেনে নিয়ে গেল। কয়দিন প্রচুর মাংস খেয়ে শিয়ালের ছানাদের আর আনন্দের সীমা নাই। তারা শিয়ালকে প্রশ্ন করলোঃ বাবা-রোজ রোজ এত মাংস পাচ্ছ কোথায়? শিয়াল তাদের সব খুলে বললো কেমন করে খামার থেকে ভুলিয়ে এনে তাদের মেরে ফেলে আর তাদের জন্যে মাংস নিয়ে আসে শিয়াল সমস্ত কথাই ছানাদের কাছে বললো। শিয়ালের মুখে গল্প শুনে তার বাচ্চা দুটি গোপনে স্থির করলো একদিন তারা চুপে চুপে সেই খামার দেখতে যাবে আর হাঁস মুরগী খরগোশ মেরে আনবে। সেদিন গভীর রাতে শিয়াল ঘুমিয়ে পড়েছে। এই সুযোগে বাচ্চা দুটি বেরিয়ে পড়লো চাষাদের খামারের উদ্দেশ্যে কিন্তু খামার পর্যন্ত আর যেতে হলো না। চাষাদের পোষা বাঘের মত দুটো কুকুর এসে তাদের টুটি কামড়ে ধরলো। দুষ্ট শিয়াল সকাল বেলা উঠে দেখে তার বাচ্চারা গর্তের মধ্যে নেই। সে তাড়াতাড়ি করে সারা তল্লাটে কত খোঁজাখুঁজি করলো। বাচ্চাদের ডাকাডাকি করলো কিন্তু কোন সাড়া পেল না। সে যেমন দুষ্ট তেমনি তার উপযুক্ত শাস্তি হলো।
--------------------সমাপ্ত, ---------------------------
জনাব,আপনার কাছে আর্টিক্যাল গুলো সামান্য ভালো লাগলে মন্তব্য এবং শেয়ার করে আমাকে উৎসাহিত করবেন। যাতে আমি আগামীতে পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী আরো সুন্দর কিছু আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারি।



কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন