Header Ads

Header ADS

মাটির পুতুল রহস্য




মাটির  পুতুল রহস্য 


পিয়নের কাছ থেকে পার্শ্বেল আর চিঠিটা পেয়েই লাফাতে লাফাতে এলো লিটন। বলল, মা চিন্তি এসেছে। চিঠি এসেছে এ নতুন খবরটা শুনে ওর বোন বিউটিও ছুটে এল। রোজই তো পিয়ন কত লোকের চিঠি বিলি করে যায়। কিন্তু ওদের চিঠি কোনদিন থাকে, কোনদিন থাকে না তাই এই আগ্রহ। মা হোসনেয়ারা রান্না করছিলেন। নোংরা হাত ধুয়ে এসে লিটনের কাছ থেকে চিঠি আর পার্শ্বেল নিয়ে রশীদ সই করে ফেরত দিলেন। তিনি চিঠিটা পড়তে লাগলেন। লিটন আর বিউটি তাকিয়ে রইল মায়ের মুখের দিকে। চিঠিটা পড়তে পড়তে মার মুখখানি খুশীতে ঝলমল করে উঠল। তাই দেখে লিটন অবাক হয়ে শুধাল মা কে লিখেছে চিঠি? মা বললেন, তোমাদের বাবা। বাবা? হ্যাঁ বাবা। মা বললেন, তিনি এবার ছুটি। দিয়ে বাড়ীতে আসছেন শীঘ্রই। লিটন আর বিউটির বাবা বজলুর সাহের যুদ্ধের চাকুরী করেন। সব সময় তাকে তার পল্টনের সঙ্গে দেশ বিদেশে বেড়াতে যেতে হয় বলে অনেকদিন বাড়ী আসতে পারেননি। কতদিন ওরা বাবাকে দেখেনি। বাবা ওদেক কত ভালবাসেতেন। তাই বাবা আসছেন শুনে আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠল দু'জনে। বিউটি বলল, বাবা কবে আসবেন মা। ওর মা বললেন, আর পনের দিনের মধ্যেই। লিটনের খুশী যেন আর ধরে না। লিটন বলল, ভারী মজা হবে কিন্তু। যাই আমি টুটু ও মিঠু ভাইয়া, বিলকিস আপা, বাধন মামা ও দুলাভাইকে মজার খবরটা দিয়ে আসি।


ছুটে বেরিয়ে যাচ্ছিল লিটন পিছন থেকে মা চেঁচিয়ে ডাকলেন আরে যাসনে যাসনে আসল মজাইতো এখনও দেখিসনি। ঘুরে দাড়াল লিটন। আবার মজা। মা বললেন, তোদের বাবা একটা ভারী মজার উপহার পাঠিয়েছেন। আর লিখেছেন যে বলতে পারবে সেই পাবে উপহারটি। বলতো কি? মজার উপহার আর কি হতে পারে? প্রথমেই লিটন আর বিউটি দু'জনেই ভেবে কোন কুলকিনারা পেল না। তবে বিউটির অনেক দিনের শখ বড় একটা জাপানী ডল পুতুলের। বিউটি ভাবল হয়তো বাবা সেই ডল পুতুলটাই পাঠিয়েছেন। যুদ্ধ করতে করতে কত দেশ ঘুরছেন বাবা একটা ডল পুতুল পাঠানো তার পক্ষে কি আর এমন অসম্ভব। মেজ চাচার ছেলে সোহাগ সম্পদের তো তিন তিনটা ডল পুতুল আছে। বাবা কি আর একটা পাঠাতে পারবেন না। বিউটি বলল, আমি বলছি মা ডল পুতুল একটা। এদিকে লিটনের লোভ আছে এরোপ্লেনের। উপর। রোজ আকাশ দিয়ে পায়রার মত এরোপ্লেন উড়ে যায়। একেক সময় ঘুড়ির মত গোত্তা খেয়ে পড়ে। কত কেরামতি দেখায়। মনে হয় এই বুঝি মুখ থুবড়ে পড়ল। কিন্তু পড়েনা হুস করে আবার উঠে যায় আকাশে। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে লিটন আর মনে মনে হিংসে করে। ভাবে ইস! যদি এরকম আমার একটা থাকত তাহলে আমিও অমন বাহাদুরী দেখাতাম। লিটন শুনেছে যুদ্ধের কাজে এই সব এরোপ্লেন লাগে। যুদ্ধ এখন থেমে গেছে। এখন তো আর এরোপ্লেন দরকার নেই। বলা যায়কি বাবা হয়তো একটা এরোপ্লেন পাঠিয়েছেন আমার জন্য। লিটন সোৎসাহে বলল, ডল পুতুল না হাতী। বাবার আর খেয়ে দেয়ে কাজ নেই। যুদ্ধ করতে করতে শুর জন্যে পুতুল কিনে পাঠাবেন। আমি বলছি এরোপ্লেন। বাবা আমার জন্য একটা এরোপ্লেন পাঠিয়েছেন না মা।

লিটনকে থামিয়ে দিয়ে মা হেসে বললেন, দূর পাগলা এইতো ছোট্ট পার্শ্বেল এর মধ্যে কি আর এরোপ্লেন থাকে না ভুল পুতুল থাকে। কথাটা সত্যি কিন্তু মিথ্যে হলেই যেন ভাল হত। পার্শ্বেলটা বয়ে আনলেও সেদিকে এতক্ষণ খেয়াল করেনি লিটন। মার কথা শুনে ভারী মুষড়ে পড়ল সে। বিউটি তো একেবারে মন মরা হয়ে পড়ল। আর কিছু না বলে মা পার্শ্বেলটা খুলতে লাগলেন। এর মধ্যে কি আছে। জানবার জন্যে তারও কৌতূহল বড় কম নয়। লিটন ও বিউটি কিছুটা হতাশা হলেও তাদেরও কৌতূহল আছে ডল পুতুল বা এরোপ্লেন না হোকগে কিন্তু উপহার তো একটা আছেই। তাই তারা দু'জনেই পার্শ্বেলটার মধ্যে কি আছে দেখবার জন্য উপুড় হয়ে পড়ল। অনেক কাগজ ও লেকড়ার মোড়ক ছাড়িয়ে দেখা গেল অতি সাধারণ একটা মাটির পুতুল। রঙ লালছে। এরোপ্লেন নয়, ডল পুতুল নয়, সুন্দর একটা ভাল পুতুলও নয়। অতি সাধারণ একটি মাটির পুতুল এই? কি আর বলবে লিটন রাগে গড় গড় করতে করতে সে বাড়ী থেকে বের হয়ে গেল। আর বিউটির চোখ বাবার উপর অভিমানে ছল ছল করে উঠল। বিউটির দিকে তাকিয়ে মা বললেন, ওকি বিউটি কাঁদছ তুমি? ছি- ছি উনি এলে তোমায় কত ডল পুতুল কিনে দিবেন। লক্ষীটি এখন এটাই নাও। মা বিউটিকে বুকে টানিয়ে নিতে যান। এক ঝটকায় মাকে সরিয়ে দিয়ে বিউটি বলল, না কক্ষণো আমি এই যা তা পুতুলটা নেব না। ভারীতো ছাইয়ের পুতুল। মা বললেন ছিল। একথা বলনা। বাপ মা আদর করে যা দেন তাই মাথায় তুলে নিতে হয়। এই বলে মা পুতুলটা বিউটির হাতে গুজে দিলেন। পুতুলটা হাতে দেওয়াতে বিউটির রাগ হল। সে করল কি নর্দমা লক্ষ্য করে ছুঁড়ে দিল পুতুলটা। মা হা, হা, করে উঠলেন -কি করলি কি করলি। বিউটি তখন মার ধারে কাছে থাকলে তো। চো চোঁ দৌড় দিয়েছে সে।


পনের দিন পর লিটন বিউটির বাবা বাড়ী এলেন। নানা রকম কথা বার্তার পর তিনি জিজ্ঞেস করলেন তার পাঠান মাটির পুতুলটা ঠিক মত রেখে দেওয়া হয়েছে কিনা। লিটন ও বিউটি পরস্পর মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে লাগল । মা মুখ ফুটে কিছু বললেন না। সকলকে চুপ চাপ দেখে বাবা ভাবলেন, পুতুলটা ঠিকমতই রেখে দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, পুতুলের ইতিহাস তাহলে শোন। পল্টনের সঙ্গে গিয়েছিলাম জাপানে। জাপান তখন যুদ্ধে হেরে গেছে। জাপানীদের তাই খুব দুরবস্থা। অভাবে পড়ে তারা দামী সব জিনিস পত্তর বিক্রি করে ফেলতে লাগল। একজন একটা হীরে খুব সস্তায় আমার কাছে বিক্রি করতে এসেছিল। আমি দেখলাম এটা যদি আমি এখানে কিনে বাংলাদেশে আবার বিক্রি করি তাহলে অনেক টাকা লাভ হবে। তাই এতদিন চাকুরী করে যা জমিয়েছিলাম তা দিয়ে হীরেটা কিনে ফেললাম। তারপর তোমাদের অবাক করে দিবার জন্য একটা মাটির পুতুলের মধ্যে ভরে পাঠিয়ে দিলাম। লিটন আর বিউটির উপহার হিসেবে। কারণ টাকা পয়সা যা কিছু সবইতো ওদের জন্যে। এই পর্যন্ত বলে হঠাৎ বাবা তাকিয়ে দেখলেন যে বিউটি বা লিটন কেউ তার পাশে নেই। তিনি অবাক হয়ে উঠে দাঁড়ালেন। তারপর এপাশ ওপাশ তাকিয়ে দেখতে লাগলেন। হঠাৎ নর্দমার দিকে তার নজর পড়ল। দেখলেন যে দু'জনেই নর্দমার উপর ঝুঁকে পড়ে কি যেন খুঁজছে। এগিয়ে গিয়ে তিনি জিজ্ঞেস করলেন কি খুঁজছিস রে? কেউই উত্তর দিল না। বাবা আবার জিজ্ঞাসা করলেন কিরে লিটন বিউটি কাঁদা ঘাটছিস কেন? এবারেও লিটন বা বিউটি কেউই কথা বলল না। কি কথা ওরা বলবে। নিজেদের আহাম্মকির জন্যে ওদের তখন নিজেদের হাত কামড়াতে ইচ্ছে করছিল।

জনাব আপনার সহায়তা যদি আর্টিক্যাল গুলো যদি ভালো লাগে তাহলে মন্তব্য এবং শেয়ার করুন। যাতে আমি আপনার জন্য আগামী তে আরো নতুন কিছু নিয়ে আসতে পারি। 

কোন মন্তব্য নেই

  [ছেলোদের পরীক্ষা হবে কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের ২য় তলায়, তারিখ- ৯ই ডিসেম্বর সকাল ৯টা এবং মেয়েদের পরীক্ষা মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ এর প...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.