Header Ads

Header ADS

আমি সব জানি



 আমি সব জানি

আমি যার কথা বলছি, সে মেয়েটির বয়স আট বছর কিন্তু সে সব সময়ই ভাবতো, সে সব কিছুই জানে। তার বাবা যদি তাকে কখনো কিছু বলতে যেতেন, অমনি উত্তর দিত আমি সব জানি। ওর মা যদি কোন দোকানের শোকেস থেকে কোন নতুন জিনিস তাকে দেখাতে যেতেন, সে বলতো ও আমি আগেই দেখেছি। সে কোন মতেই স্বীকার করতো না যে, দুনিয়ার এমন কোন জিনিস জানেনা। কেউ যদি তাকে কোন শহরে নিয়ে যায় আর তার পরে একটি বেশ সুন্দর ছাতা কিনে দিয়ে তার জন্ম দিনের উপহার দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করে যে, সে খুশি হয়েছে কিনা? সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিবে ও আমি ভেবেছিলাম যে, এবারে একটা ছাতা আমি পেয়ে যাচ্ছি।

একদিন এই সব জানা মেয়েটির জীবনে এক মজার ঘটনা ঘটলো। তার বাবা বললেন, যে তিনি তাকে কলিকাতা নিয়ে যাবেন। তার খুবই আনন্দ হলো সে ভাবলো ভাই বোনদের মধ্যে সেইতো কেবল কলিকাতা যেতে পাচ্ছে । যাবার পথে মেয়েটির বাবা ভাবলেন, যে এই যাত্রাটা যাতে বেশ আনন্দদায়ক হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি ট্রেনের মধ্যে তার খবরের কাগজ পড়া বন্ধ করে চলতি গাড়ীর জানালা দিয়ে সুন্দর সুন্দর দৃশ্যগুলো মেয়েটিকে দেখিয়ে দিতে লাগলেন। ছোট্ট মেয়েটি বললো, ওসব আমি আগে থেকেই দেখেছি। শেষে বাবা একটু বিরক্ত হয়েই এ প্রসঙ্গ বাদ দিলেন। তারপর তিনি বললেন, আচ্ছা বলতো যদি তুমি কলিকাতায় হারিয়ে যাও তবে তুমি কি করবে? ও আমি চলে যাবো। মেয়েটি খুব সহজেই উত্তর দিল। কিন্তু কেমন করে? সোজা স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠে পড়বো। কিন্তু তুমি রাস্তা চিনবে কি করে? ও হ্যাঁ সে তো খুব সোজা। আমি তো জানি। অবশেষে তারা কলিকাতা পৌঁছে গেলেন। তারপর একটা পার্কের মধ্যে ঢুকে তারা একটি সুন্দর পাথরের মূর্তি দেখতে লাগলো। কি শান্ত, কি সুন্দর! চারদিক দিয়ে কত লোক যাওয়া আসা করছে। কিন্তু মেয়েটি যেন তাদেরকে লক্ষ্য করেনি। এক দৃষ্টে সে মূর্তিটার দিকে চেয়ে আছে। প্রথমে সে স্বীকার করতেই চাইলো না যে সে নতুন একটা কিছু দেখছে। শেষে আর থাকতে না পেরে পাশ ফিরে তার বাবাকে এ সম্বন্ধে দু চারটি কথা জিজ্ঞেস করতে গেল। আচ্ছা বাবা ও লোকটা----- এই পর্যন্ত বলেই সে থেমে গেল। চেয়ে দেখলো তার বাবা পাশে নেই। বাবা বাবা বলে চিৎকার করেও সে কোন উত্তর পেল না। 

বাবা তার চলে গেছে। আর সে একলা পড়ে আছে। সে পার্ক থেকে বড় রাস্তাটার ফুটপাতে এসে পড়লো। এখন সে ভাবতে লাগলো বাড়ী যাবার রাস্তা নিয়ে সে তার বাবাকে কি বলেছে। সে চেয়ে দেখতে লাগলো তার চারদিকে দিয়ে কত লোক যাওয়া আসা করছে। কেউ বাসে উঠছে। কেউ বা কোন গাড়ীতে গিয়ে উঠছে। আবার কেউবা পথ বেয়ে চলে যাচ্ছে। এযেন সমুদ্রের এলোমেলো ঢেউ। হঠাৎ যেন নিজেকে বড় অসহায় মনে হলো। সে এখন বুঝতে পারলো যে সে বাড়ী যাবার রাস্তা সম্বন্ধে কিছুই জানেনা। কত বাস দেখা যাচ্ছে। এখন কোনটায় চড়ে সে তাদের বাড়ী যাবার রেল স্টেশন যাওয়া যায় তা ভারতেই পরলোনা। এমনকি স্টেশনের নামটাও ভুলে গেছে। তখন সে কাঁদতে শুরু করলো। প্রথম দিকটায় কোন লোকই তার দিকে তাকালো না। খানিক ক্ষণ পরে এক বিরাট ভুড়িওয়ালা পুলিশ রাস্তা পার হয়ে তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো। খুকি কি হয়েছে? আমি হারিয়ে গেছি। সে ফুঁপিয়ে উঠলো হারিয়ে গেছে। পুলিশ আবার জিজ্ঞেস করলো। তোমার সাথে কে ছিল? আমার বাবা। মেয়েটি উত্তর দিল কিন্তু তিনি চলে গেছেন। কোথায় গেছেন? আমি জানিনা। উত্তরে মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে বললো -তুমি থাকো কোথায়? আমি জানিনা। সে আস্তে করে উত্তর দিল। আচ্ছা তাহলে তুমি আমার সঙ্গে এসো। আমি তোমার সাথে যেতে চাই না। সে রীতিমত কাঁদতে শুরু করলো। -না আমি তো তোমাকে একলা ফেলে যেতে পারি না। পুলিশ বললো, এসো ভয় নাই আমরা তোমার বাবাকে খুঁজে বের করবো। কাজে কাজেই ছোট মেয়েটিকে পুলিশের সঙ্গে থানায় যেতে হলো। খুব বেশি দূরে যেতে না যেতেই একটি পরিচিত শব্দে সে তার নাম শুনতে পেল রুবী। নিজের নাম শুনে পিছনে চেয়েই সে আনন্দে লাফিয়ে উঠলো। সব ভুলে সে লাফিয়ে পড়লো তার বাবার কোলের উপর। তুমি এসেছো সে আনন্দে চেঁচিয়ে উঠলো। আমি ভেবেছিলাম আমি হারিয়ে গেছি। তখন খুব মজা হলো। বাবা বললেন, রুবী আমি লুকিয়ে লুকিয়ে সব দেখেছি। সত্যিই তুমি বাড়ী যাবার রাস্তা চেনো কিনা? কিন্তু যখনি সে উত্তর দিতে গেল আমিতো জানি। ওমনি তার সেই পুলিশটার কথা মনে পড়ে গেল। তার সেই পার্কটার কথাও মনে হলো বৈকি। সে আস্তে আস্তে বললো, আমি জানিনা যে।


জনাব আমার লেখা গুলো যদি আপনার কাছে ভালো লাগে তাহলে মন্তব্য এবং শেয়ার করুন যাতে আমি আগামী তে আরো নতুন কিছু নিয়ে আসতে পারি। 


কোন মন্তব্য নেই

  [ছেলোদের পরীক্ষা হবে কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের ২য় তলায়, তারিখ- ৯ই ডিসেম্বর সকাল ৯টা এবং মেয়েদের পরীক্ষা মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ এর প...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.