Header Ads

Header ADS

কুমীর রূপে রাজা



 কুমীর রূপে রাজা


একদিন এক গরীব চাষী মাঠে গিয়ে দেখতে পেলো তার ফসলগুলি কুমীরে নষ্ট করেছে। নদীর ধারেই তার ক্ষেত আর সেই নদীতেই বাস করতো অসংখ্য কুমীর। কুমীরগুলি আবার এমনই বেহায়া মে ফসল নষ্ট করে দিব্বি মাঠের আশে পাশে দল পাকিয়ে শুয়ে বিশ্রাম করে। এই দৃশ্য দেখে ছানীতো রেগে আগুন! সে গালাগালি দিয়ে কুমীরগুলোকে বল্লো আমার মাঠের ফসলগুলো করলি তোরা নষ্ট, ভালো চাসতো পালা এবার, বলছি আমি পালা। কিন্তু কমীর গুলি চাষীর কথা গ্রাহ্যই করলো না, পালানো তো দূরের কথা একটু নড়লোও না। পরের দিনও একই অবস্থা। চাষীর কচি কচি গমের গাছগুলো আজও কুমীরেরা নষ্ট করে দিব্বি মাঠের মধ্যে আরামে ঘুম দিচ্ছে। চাষী আজ আর থাকতেনা পেরে তাদের দিকে পাথর ছুঁড়ে মারলো। আর যায় কোথায়। যেমনি না পাথর ছুঁড়ে মারা অমনি কুমীর গুলি তেড়ে এলো চাষীর দিকে। চাষীতো ভেবেই সারা। সে হাত জোড় করে কাঁপতে কাঁপতে বললো-


দোহাই দোহাই ক্ষমা কর, বধ করোনা মোরে, সবার কাছে চাচ্ছি ক্ষমা হাত দু'টি জোড় করে। চাষীর কথায় কুমীরগুলো বল্লো- তোমায় মোরা ছাড়তে পারি সন্দেহ নাই তাতে, তোমার মেয়ের বিয়ে যদি দাও গো মোদের সাথে।


ভয়ে ভয়ে চাষী তাদের কথায় রাজি হয়ে গেল। কুমীরেরাও সন্তুষ্ট হয়ে ঝুপ ঝুপ করে নদীর জলে ঝাঁপিয়ে পড়লো। বাড়ী এসে চাষী তার স্ত্রীর কাছে সব কথা খুলে বলতেই চাষী বৌ তো কেঁদেই সারা। মেয়ে তাদের চাঁদের মত সুন্দর। যেমনি রূপ তেমনি তার গুণ। এক বড়লোকের ছেলের সাথে তার বিয়েও ঠিক হয়ে আছে। অনেক ভেবে চিন্তে চাষী বৌ বললো, ওসব কুমীরের কথা ভুলে যাও। আমাদের মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু হলো ভারি বিপদ। মেয়ের বিয়ের সবঠিক। হঠাৎ তার ভাবি বরটি মারা গেল। মেয়ের আবার একটি নতুন সমন্ধ হলো কিন্তু বিয়ের আগেরদিন সে বরটিও সাংঘাতিক ভাবে অসুস্থ হয়ে। পড়লো। এমনি ভাবে চাষীর মেয়ের সঙ্গে যারই সম্বন্ধ হয় তারই একটা বিপদ ঘটে বিয়ে ভেঙ্গে যায়। চাষী আর বৌ তখন বুঝতে পাড়লো কুমীরদের কাছে প্রতিজ্ঞাভঙ্গ করা হয়েছে বলে তাদের মেয়ের ভাগ্যে বর মিলছে না।


পরের দিন বৌয়ের পরামর্শে চাষী নদীর ধারে গিয়ে অনেক কাকুতি মিনতি করে কুমীরদের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাইলো। আর তার মেয়েকে অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে বল্লো। কিন্তু কুমীরেরা বল্ল- প্রতিজ্ঞা করলে সেটা রক্ষা করা চাই নইলে আরও বিপদ হবে অন্য উপায় নাই।চাষা মুখ ভার করে বাড়া ফিরে এলো। পরের দিন চাষীর মেয়ের গেল একটা ঠ্যাং ভেঙ্গে। চাষী বৌ কাঁদতে কাঁদতে বল্ল, কুমীর গুলির অভিশাপে আমাদের আর রক্ষা নাই দেখছি। হয়তোবা ভরা শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে মেরেই ফেলবে। তার চেয়ে মেয়েটিকে নিয়ে দেই কুমারেদের সাথে। পরদিন চাষী গিয়ে কুমীরদের ডেকে তার মেয়ের সঙ্গে কুমীরদের বিয়ের দিন স্থির করে এলো। বিয়ের দিন কুমীর রাজা এলো চতুর্দোলা করে বিয়ে করতে। সঙ্গে সঙ্গে এলো যত রাজ্যের কুমীরের দল। আর কত রকম যৌতুক নিয়ে এলো তার আর ঠিক ঠিকানা নেই।


বিয়ের পর কুমীরের দল চাষীর মেয়েকে নিয়ে আনন্দে হল্লা করতে করতে ফিরে চল্লো নদীর দিকে। এদিকে চাষীর মেয়ে তো ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে চলেছে, ভয়ে তার প্রাণ গেছে উড়ে। নদীর মধ্যে নামতেই একটি ব্যাপার হলো। চাষীর মেয়ে দেখে হঠাৎ নদীর জল গেল সরে, আর তার ভিতর থেকে বেরিয়ে এলো মনিমুক্তা সোনার এক শুকনা সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি দিয়ে সবাই চলে গেল নীচে নেমে। তারপর হাজির হলো এক সুন্দর রাজপুরীতে। কি সুন্দর রাজপুরী। কি বিরাট বিশাল তার আকার আর তার চারধারে কত ফুলের বাগান আর পাখীর গান। দেখেতো চাষীর মেয়ের চক্ষু স্থির। এ কোথায় এলো সে। তারপর আরও আশ্চর্য হলো সে দেখলো তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক অপূর্ব রাজপুত্র। তার সৌন্দর্যের রশ্মিতে চারিদিকে যেন আলো হয়ে গেছে।


অন্যান্য কুমীরগুলোও সব মানুষের আকার ধরে ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে। পতাল পুরীতে চাষীর মেয়ের দিন বেশ সুখেই কেটে যাচ্ছে। এদিকে চাষী আর চাষী বৌ এর আর দুঃখের শেষ নেই। তাদের এত সাধের মেয়েটি বোধ হয় এতদিন আর বেঁচে নাই। কুমীরেরা খেয়ে ফেলেছে। একদিন চাষী বল্ল যাই একবার মেয়ের খোঁজ নিয়ে আসি। চাষী বউ বল্ল জলের ভিতর যাবে কি করে। চাষী বল্ল কুমীর রাজা বিদায় নেবার সময় আমাকে একটা ইট দিয়ে গেছে। বলেছে নদীর ধারে গিয়া এই ইট ছুঁড়ে মারলেই জলের প্রবেশ করবার পথ পাবে। চাষী সেই ইটখানা নিয়ে নদীর ধারে গিয়ে যেই ছুঁড়ে মাড়লো অমনি অবাক কান্ড। নদীর মাঝখানে জল গেল সরে। আর তার ভিতর দিয়ে জেগে উঠলো এক সুন্দর রাস্তা। সেই রাস্তা দিয়ে চাষী নেমে গেল নীচে। তারপর যেসব দৃশ্য তার চোখে পড়লো তাতে যেন তার মাথায় গোল লেগে যেতে লাগলো।


জলের নীচে এক আজব পুরী আর সেই আজব পুরীর দরজায় পাহারা দিচ্ছে সব সৈন্য সামন্ত। চাষী রাস্তার এক পাশে দাঁড়িয়ে ভাবছে সে এখন কি করবে? এমন সময় রাজপুরীর জানালা দিয়ে তার মেয়ে তাকে দেখতে পেল। রাণীর হুকুমে তৎক্ষণাত চাষীকে অন্দর মহলে নিয়ে যাওয়া হলো। আর মেয়েকে অনেকদিন পর দেখে চাষী আনন্দে কেঁদে ফেল্ল। মেয়ে বল্ল বাবা তুমি একটু অপেক্ষা কর, রাজা এক্ষুণি শিকার মেরে বাড়ী আসবেন। চাষী বললেন, রাজার সঙ্গে আমার দেখা করে কাজ নেই। সেই কুমীর আমাকে দেখলেই খেয়ে ফেলবে। বলতে বলতেই রাজা এসে হাজির। কোথায় কুমীর এযে এক অপূর্ব সুন্দর রাজপুত্র। রাজপুত্র বল্ল বাইরে আমরা যখন যাই তখন কুমীরের ছদ্মবেশ ধারণ করি কিন্তু জলের ভিতর যখন থাকি তখন আমরা আবার মানুষ হয়ে যাই। চাষী শুনে অবাক হলো। তারপর তার মেয়ের অনুরোধে চাষী তার বউকেও পাতালপুরীতে নিয়ে এসে সুখে শান্তিতে বাস করতে লাগলো।


জনাব আমার লেখা গুলো যদি আপনার কাছে ভালো লাগে তাহলে মন্তব্য এবং শেয়ার করুন যাতে আমি আগামী তে আরো নতুন কিছু নিয়ে আসতে পারি। 

কোন মন্তব্য নেই

  [ছেলোদের পরীক্ষা হবে কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের ২য় তলায়, তারিখ- ৯ই ডিসেম্বর সকাল ৯টা এবং মেয়েদের পরীক্ষা মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ এর প...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.