Header Ads

Header ADS

অন্তরের ভয়



অন্তরের ভয়


বাবা মা আদুর করে তাদের এক মাত্র সন্তানের নাম রেখেছেন অন্তর। অন্তরের চাচা আছে তবে সে খুব লোভী এবং চাচীটা একজন দজ্জাল মেয়ে। অন্তরদের বাড়ীতে হঠাৎ করে জাত বসন্ত দেখা দিল। ওদের বাড়ীতে ভয়ে কেউ প্রবেশ করে না। ওদের ভাগীরা একবারও উকি দিতে সাহস পায় না। শুধু ওরা ভাবে শুরু হলো। এরা সবাই মারা গেলে এদের ঘর বাড়ী ধন সম্পত্তি সবই পেয়ে যাবে। একদিন ঘটলোও তাই। প্রতিবেশীরা দেখলো অন্তরেরা তিনজন অর্থাৎ অন্তর আর ওর বাবা মা মারা গেছে। এদেক এখন কে পারে। ওর চাচা চাচী টাকা খরচ করে একজন সুইপার ডেকে ঠিক করলো ওদেক দূরে কোথাও একটি গর্ত করে পুতে রাখতে। গ্রামের কয়েক জন সাহসী লোকও সাথে গেল। ওরা বেশ কিছু দূরে গিয়ে একটি জনাকীর্ণ ও জংলা জায়গায় পৌঁছে গর্ত খুঁড়তে লাগলো। গর্ত করছে এমন সময় হঠাৎ ভীষণ ঝড় ও শিলা বৃষ্টি সবাই লাশগুলো ফেলে দৌড় দিল।


এদিকে এক নতুন ঘটনা ঘটে গেল। আসলে অন্তর বেঁচেই ছিল। বৃষ্টি পড়ায় অন্তর চোখ মেলে। দেখলো। সে একটি গাছের নীচে পড়ে আছে। ও উঠে দেখলো দু'চারটি শিয়াল কি যেন খেতে চাচ্ছে। তখন ঝড় বৃষ্টি থেমে গেছে। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। এই আলোতে সে শিয়ালের কাছে দুজন লোককে শুয়ে থাকতে দেখে নিকট গিয়ে দেখতে পেল এরা যে তারই বাবা মা তবে মৃত। অন্তর কেঁদে ফেললো। এত ক্ষণে অন্তর বুঝতে পারলো কে বা কারা এদের লাশগুলো এখানে ফেলে দিয়ে গেছে। ও পাশে একটি গর্তও দেখতে পেল তবে পানিতে ভরা। হঠাৎ ঐ পথে দিয়ে একজন কৃষক কোদাল হাতে ভোর রাতে জমি দেখতে যাচ্ছে। অন্তর কৃষককে ডেকে অনুরোধ করে বললো বাবা তুমি একটি উপকার করো। খোদা তোমায় ভালবাসবে। আমার বাবা মাকে এই গর্তে রেখে একটু মাটি চাপা দাও। তিন লাশের ভিতর আমি বেঁচে উঠেছি। এ কথায় লোকটির একুট দয়া হলো। সে ওর কথা মত ওকে বিশ্বাস করে লাশ দু'টো মাটি চাপা দিল এবং অন্তরের আর কেউ নেই বলে ওকে বাড়ীতে নিয়ে গেল। কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসা করে ওকে সুস্থ করে তুললো।


অন্তর দেখলো যে এখান থেকে ওদের বাড়ী দূরে নয়, তা ছাড়া বাবা মা বেঁচে নেই। যেহেতু ও বেঁচে আছে সেহেতু ওকে দেখতে পেলে মেরে ফেলবে এই ভয়ে সে পালিয়ে গেল। রাতের আঁধারে সে পা বাড়ালো অজানার পথে। যেতে যেতে ও ঢুকে পড়লো এক গহীন জঙ্গলে। জঙ্গলের ভিতর দিয়ে পথ। অন্তরের খুব ক্ষুধা পেয়েছে। রাস্তায় লোক বসতি নেই। দোকান পসার নেই তা ছাড়া ওর পকেটে পয়াসও নেই তবুও সে চলছে। হঠাৎ একটি কাঁঠাল গাছে কাঁঠাল ঝুলে থাকতে দেখালো। গাছের গোড়ায় থাকাতে হাত দিয়ে দেখলো একদম পাকা। এবারে ও কাঁঠালটা পেড়ে গাছের নীচে বসেই খেয়ে ফেললো। অন্তর আবার যাত্রা শুরু করলো। ও সামনে দেখতে পেল একজন খুব লম্বা মানুষ ওর আগে হেঁটে যাচ্ছে। অন্তর যত জোরেই হাটুক না কেন ওকে কোন ক্রমেই ধরতে পাচ্ছেনা। তবে ও যদি থামে তবে ও লোকটিও থেমে যায়। হঠাৎ পিছন থেকে কে একজন চিৎকার করে বললো- এই লম্বু দাঁড়া। এবারে অন্তর ভয় পেয়ে গেল। সে পাশে একটি লতাপাতায় ঢাকা গর্তে নেমে লুকিয়ে থাকলো। সে কাছে থেকে স্পষ্ট দেখতে পেল এক চোখ আওয়ালা ভয়ংকর চেহারার কে একজন বিশ্রী দেহের অধিকারী ওর পিছু ছুটলো। অন্তর বেঁচে গিয়ে পিছনে নিচে বসিয়ে রাখলো। অন্তরের গলাটা ভয়ে একদম শুকিয়ে গেছে। ওর সামনে গাছ থেকে কয়েকটি বনজাম এসে পড়লো ও ভিতু মনেই একটি জাম মুখে পুরে খেয়ে নিতেই অন্তর উপর দিকে উঠতে লাগলো এবং গাছের উঁচু ডালে গিয়ে বসলো। সে দেখলো যে ডালে সে বসেছে আসলে সেটা কোন ডাল নয় রোমে আবৃত ভয়ংকর এক দানবের পা। যার পায়ের উপর বসে আছে তার চোখ তিনটি। দু'পাশে দুইটি আর কপালে একটা। লোকগুলো কালো মিশমিশে। সে দাঁত বের করে হাসতে হাসতে বললো, আমিই তোকে জাম ফেলে দিয়েছিলাম আর এই জাম খেয়ে তুই উড়ে আমার কোলে এসে বসেছিস। যাক একটু পরেই তোকে কচমচ করে আরামে আরামে চিবাবো।

অন্তনের একদিকে ভয় আর অন্য দিকে চিন্তা হতে লাগলো- নীচে দুই মাথা ও এক পা ওয়ালা দা মার উপরে ওকে কোলে নিয়ে আছে তিন চোখ ওয়ালা দানব। এবার অন্তর এর অন্তর থেকে খোদাকে ডাকতে লাগলো। হঠাৎ একটি তিন পাও আগুন ওয়ালা এক চোখ বিশিষ্ট একটি ভয়ংকর অ এসে উপরের জনকে রেগে বললো, ওকে নেমেদে আমি খাবো। তিনজনই ওকে খাবে এই নিয়ে গুদের ভিতর ঝগড়া থেকে মারামারি শুরু হলো। ওরা তিনজনই মারামারি করে ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে কেউ নড়তে না পেরে শুধু হাঁফাতে লাগালো। এই সুযোগে অন্তর সবার সামনে দিয়ে দৌড় দিল। ওকে দেখেও কেউ এর কোন ক্ষতি করতে পারলো না।


যেতে যেতে অন্তর একটি গাছে উঠে পড়লো। কেননা সন্ধ্যা লেগে গেছে। অনেক রাতে ও জনতে পেল গাছের নীচে কারা যেন বলাবলি করছে। ওরা বলছে এখনই টাকার ঘড়া পুততে হবে। দুদিন পর এসে নিয়ে গেলেই চলবে। এই বলেই ওরা একটি চকচকে পিতলের ঘড়া গাছের নাচে পুতে রাখলো। এবার অন্তর গাছ থেকে জায়গাটি লক্ষ্য করলো। অন্তর দেখতে পেল দুজন অন্ধ পোড়া টাকার ঘড়া পুতে রেখে এক সাথেই আকাশ পথে উড়ে গেল। অন্তর নেমে এসে একটি গাছের ডাল ভেঙ্গে লক্ষ্য রাখা স্থানে গুড়তে লাগলো। একটু পরেই ঘড়ার মাথা বের হয়ে পড়লো। ও শুধু মুখটা খুলে দেখলো এটা ভর্তি মোহর আর মনি মুক্তা। এবারে অন্তর ওর কাছে রাখা প্যান্ট পরে লুঙ্গী খুলে সব গুলিই পুটলী বেঁধে নিয়ে রওয়ানা দিল।


* প্রায় ২০/২২ দিন হবার পর অন্তর একটি জনবসতি দেখতে পেল। সে এক বাড়ীতে মোসাফির হিসেবে একটু ঠাই চাইল। ঐ বাড়ীর মালিকের কোন সন্তানাদী ছিল না। তাই অন্তরের দুঃখের কাহিনী শুনে ওকে নিজের ছেলে হিসেবে তার বাড়ীতে থাকতে বললেন। আপন ছেলে হিসেবে পেয়ে অন্তরের ধর্মবাবা খুশী মনে গরীব মিছকিনদের দান করতে লাগলেন। যে টুকু টাকা পয়সা হাতে ছিল তা দান করে শেষ করলেও তাদের মনে আনন্দের শেষ নেই। রাতে অন্তর তার বর্তমান বাবা- মাকে বললো, আমাকে তোমরা যখন নিজের ছেলে বলে মেনে নিয়েছ তাহলে আমরা এখন সবাই আপনজন। সে আরো বললো, আমার এই পোটলার ভিতর কিছু মূল্যবান মুদ্রা আছে। এ গুলো দিয়ে আপনাদের জায়গাতে আগামী কাল থেকে একটি বিল্ডিং বাড়ী তৈরি শুরু করেন। রাতের বেলা অন্তর এ অর্থ গুলো বাবা মার হাতে তুলে দিয়ে বললো এখনই কাজ শুরু করে দেন। তার কথামত কিছু দিনের মধ্যেই দু'তলা একটি বিল্ডিং তৈরী হলো। অন্তর একটি কন্ট্রাক্টর- এর কাজ নিল। এখন অন্তর বেশ ধনী লোক।


এদিকে অন্তরের চাচা চাচী অন্তরের বাড়ীতেই এসে হাজির হলো। ওর চাচা বললো, সাহের আমাদেক কিছু সাহায্য করুন। অন্তর তাদের চিনতে পেরেও নাম ধাম বাড়ী ঘর এর পরিচয় নিল। তারা কিন্তু অন্তরকে চিনতে পারেনি। কেননা সে তো আর ছোটটি নেই। তবে অন্তর নিজেই তার পরিচয় দিয়ে ফেললো বিশেষ করে ওদের অবস্থা দেখে। এবারে চাচা-চাচা একত্রে অন্তরের কাছে কান্নাকাটি করে মাফ চেয়ে নিল। অন্তর অতিতের কথা মনে না রেখে তাদের এই বাড়ীতেই থাকার ব্যবস্থা করে দিল। কথায় আছে লেজ যার বাঁকা তা সোজা করলেও আবার বাঁকা হয়েই যায়। তাই থাকতে থাকতে অন্তরের চাচা চাচী চিন্তা করলো অন্তরের এত সুখ কেন আর এত টাকা সে কোথায় পেল।


এবার দুজন মিলে একদিন অন্তরের খাবারে বিষ মাখিয়ে দিল। ভাগ্যের জোরে বাড়ীর পোষা বিড়াল এই খাবার খেয়ে টেবিল থেকে পড়ে ছটফট করে মরে গেল। অন্তর খেতে এসে দেখলো প্লেটের ভাত তরকারী এলোমেলো আবার একটি বিড়ালও নীচে পড়ে মরে আছে আর বিড়ালের মুখে একটি মাংসের টুকরাও দেখতে পেল। এবার মজা হলো কি কথায় বলে পাপ কখনো ঢাকা থাকেনা, যা সত্য তা একদিন বেরিয়েই পড়ে। অন্তরের একটি কথা শিখানো ময়না ঐ ঘরেই থাকতো। উঁচু একটি টেবিলের খাঁচার ভিতরে থেকে সে সব দেখে ফেলেছে। অন্তর ঘরে ঢুকলে ময়না স্পষ্ট করে বলতে লাগলোঃ এরা ভাতের প্লেটে বিষ দিয়েছে, তা খেয়ে বিড়ালটা মারাই গেল। অন্তর ওর চাচা চাচীকে এ কথা বললে ওরা আমতা আমতা করতে থাকে। এতে অন্তরের সন্দেহ আরো বেড়ে যায়। এবার অন্তর বলে- সত্যি কথা না বললে পুলিশে খবর দিব। ওরা দোষ স্বীকার করে বলতে থাকে বাবা আমাদেক এবারের মত মাফ করে দাও।


অন্তর ওদেক চাপ দিলে আগের অপকর্মের কথাও ওরা স্বীকার করে ফেলে। ওরা বলে আমরা ধন সম্পত্তি বাড়ী ঘরের লোভে পড়ে তোমাকে জ্যান্ত জেনেও সুইপারকে ও কয়েকজন লোককে কিছু অর্থ দিয়ে তোমাদেক পুতে ফেলতে বলি। এই কথা বলে ওরা কাঁদতে থাকে। অন্তর কিন্তু এ মায়া কান্নায় এবার গলে গেল না। পুলিশকে খবর না দিয়ে ওদেক বলে দিল আপনারা আমার বাড়ী থেকে এখনই বের হয়ে যান আর কোনদিন যেন এ দুটো মুখ আমার সামনে না দেখি। দেখলেই পুলিশ দিয়ে এ্যারেস্ট করবো। এ কথা শোনার পর অন্তরের চাচা-চাচী বাড়ীতে থেকে বের হয়ে গেল। তারপর অন্তরের মা-বাবা ছেলের জন্য লাল ঢুকটুকে বৌ ঘরে এনে সবাই মিলে মিশে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো।


জনাব আপনার কাছে যদি আর্টিকেল গুলো ভালো লাগলে মন্তব্য এবং শেয়ার করুন যাতে আমি আপনার জন্য আগামী তে আরো নতুন কিছু নিয়ে আসতে পারি। 

কোন মন্তব্য নেই

  [ছেলোদের পরীক্ষা হবে কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের ২য় তলায়, তারিখ- ৯ই ডিসেম্বর সকাল ৯টা এবং মেয়েদের পরীক্ষা মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ এর প...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.