Header Ads

Header ADS

পাঁচুর কেরামতি

 




পাঁচুর কেরামতি 


অজ পাড়াগাঁয়ে এক গৃহস্থের ছিল একটি মাত্র সন্তান। ছেলেটির জন্ম থেকেই সবসময় সর্দি লেগে থাকতো। সারাদিন ওর নাক দিয়ে পানি ঝরতো আর সারাক্ষণ প্যাচ পাঁচ করে হাঁচি ফেলত। নাতার এই অবস্থা দেখে ওর দাদী ওর নাম রাখল পাঁচু। পাঁচু বড় আদরে সন্তান বলে ওর ইচ্ছেমত সারাদিন দুষ্টানি করে বেড়ায়। সারাদিন ওর বন্ধুদের সাথে বনজঙ্গলে মাঠে ঘাটে ছুটে বেড়াতো আর এর গাছের ফল পাড়া ওর বাগানের ফুল ছেঁড়া। কারো পুকুর থেকে মাছ ধরা আর মাঠে বেঁধে রাখা গরু ছাগলের বাঁধন ছেড়ে দেওয়া। একে মারা ওকে ধরা আর দিনভর বাঁশী বাজান, পুকুরে সাঁতার কাটা, পটকা ফুটানো, গুলাল দিয়ে পাখী মারা ইত্যাদি ইত্যাদি। সব কাজের ভিতর একটা কাজ ওর ভাল লাগত না তা হল লেখাপড়া করা। ওর মা একদিন ওকে জোর করে প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি করে দিলেন। ও স্কুলে যায় কিন্তু মাঝে মাঝে স্কুল পালায়। ওর বাবা বলেন, তুই তো হামার একটাই ছাওয়াল। তোর স্কুলে যাবার কাম নাই। আমার কথা মতো কাম কর বাজান। ওর মা, দাদা ও দাদী ওর লেখা পড়া চান। ওর বাবা একজন কৃষক তবে মূর্খ।


একদিন ওর বাবা জমি থেকে হাল গরু নিয়ে ফিরে এসে দেখে পাঁচু মনোযোগ দিয়ে লেখা পড়া করছে। পাঁচু জোরে জোরে পড়ছে, পাখী সব করে রব রাতি পোহালো, কাননে কুসুম কলি ফুটিয়া উঠিল। পাঁচুর মায়ের নাম কুসুম তাই সে ওর বাবাকে ডেকে বললো? বাবাগো বইয়ের মধ্যে মা'র নাম আছে। পাঁচুর বাবা বললেন দেখতো বাজান হামার নামটা কুনটি না কুনটি আছেই । পাঁচু বানান করে করে খুঁজে বাবার নাম কালু মোড়ল কোথাও দেখতে পেলনা। পাঁচু বললো না বাজান তোমার নাম নাই। পাঁচুর বাবা রেগে গিয়ে বলল হামিতো তোর খাওয়া পড়ার সব খরচ দেই কিন্তু হামার নাম ছাপালোনা। তোর মাও কোন কামাই করে না। তবুও ওর নাম ছাপালো। ছাপবিই তো মেয়ে মানুষ তো তাই চোখ পড়ছে। এবারে বইটি নিয়ে চার ভাজ করে ছিড়ে ফেলে দিয়ে বলল, কালহিনী ক্ষেতে যাৰু হামার সাথে। পাঁচু মনে করল যাক বাঁচা গেল। কিন্তু ও এসব কথা ওর মাকে সব বলে দিল। পরদিন ওর মা আবার একটি নতুন বই কিনে। দিল। এতে পাঁচুর বড় বিপদ হল। ও তো পড়াশুনা চায়না। পাঁচুর এক বন্ধু ইংরেজী পড়তে গিয়ে পড়ে ফেলল Put, পুট But বুট। মাস্টার সাহেব শুনে বললেন, বাবা Put পুট ঠিকই তবে But বুট নয় বাট পড়তে হবে। পাঁচুর বন্ধু যে ভাষার এক এক শব্দের এক এক ধরণ তা আর পড়বেনা বলে সে লেখাপড়া ছেড়েই দিল। পাঁচু পড়বার সময় খুব শব্দ করে পড়তে থাকে। মনে হয় কবুতর বাকছে। তবে সব কিন্তু ভুল

পড়ে। বাড়ীতে কেউই তো লেখাপড়া জানেনা তাই কেউ ভুল ধরতে পারে না। একদিন পাঁচুর এক মামা ওদের বাড়ী বেড়াত্বে এলেন।


ওর মা তার ভাইকে বললেন, ভাইজান আমার পাঁচু বোধ হয় আর বাঁচবেনা। সর্বক্ষণ কবুতরের মত বাঁকে। এত বুদ্ধিমান ছেলে বাঁচার আশা কম। পাঁচুর মামা ওকে কাছে ডেকে বললেন ভাগ্নে গুণ করে বলতো ৩৪ কত হয়? পাঁচু চট করে উত্তর দিল ১৫ মামা। এবার বললেন যোগ করে বলতো ভাগ্নে ৮ আর ৭. ক্ষত হয়। পাঁচু বললো কেন মামা ১৭। এবারে মামা বললেন, ভাগ্নে বানান করেতে পুটি। পাঁচু সাথে। সাথে জবাব দিল, গরু পুটি। মামার তো জান আক্কেল গুড়ুম। উনি বললেন বোন তোমার ছেলেতো মস্ত বড় পন্ডিত। ওর মা বললেন অইতো বড় ভয় হয় আমার এত বুদ্ধিমান ছেলেকি বাঁচবে? পাঁচুর মাথা বললেন হাঁ বোন তোমাদের বাড়ীতে বেঁচেই আছে দেখছি। আমার কাছেও বেঁচেই গেল। তবে অন্যকোন শিক্ষিত লোকের ভাগে পড়লে ও আর বাঁচবে না মনে হয়।


পাঁচুর বন্ধুদের খুব অসুবিধে কেননা স্কুল করলে ওদের সাথে দৌঁড়াতে পারেনা। একদিন এর কয়েকজন বন্ধু মিলে মিটিং করে এক বুদ্ধি আঁটলো। পাঁচুর বাড়ীর পাশেই ছিল একটি বিরাট সড়ের গাছ। ওরা পাঁচুকে কি যেন পরামর্শ কানে ঢুকিয়ে দিল। গভীর রাতে ওর দুই বন্ধু সাদা কাপড়ের ঢিলা জামা গায়ে দিয়ে পাগড়ী মাথায় গাছে উঠলো। গাছের পাশের ঘরেই পাঁচুর বাবা মা থাকেন। দুজনের একজন গাছের উপর থেকে জোর গলায় বলল, পাঁচতো আর বাঁচবেনারে। পাঁচুর মা বাবার কানে ঐ কথা পড়াতে দুজনে জানালা দিয়ে তাকালো। গাছের উপর স্পষ্ট দেখতে পেল সাদা পোশাকধারী পাগড়ী পরিহিত দু'জন লোক তাদের ছেলের নামে কথা বলছে। পুনরায় কথাটি কানে পড়লো। একজন বলছে পাঁচুতো আর বাঁচেনারে। অন্যজন বললে কেন পাঁচু বাঁচেনারে? ১ম জন বলল, লেখাপড়া করবে পাঁচু মরবে সাঁঝকাল। ২য় জন বলল, কি করলে পাঁচু বাঁচবে? ১ম জন বলল, চাল চাবালে দিবে ফাল, পাঁচু বাঁচবে সর্বকাল।


পাঁচুর মা বাবা ভয়ে ঘরে জানালা বন্ধ করে দিয়ে চিত্রার পড়ল। এদিকে বন্ধুদের বুদ্ধিতে পাঁচু পরদিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই পড়া শুনা করল। এবারে বাবা মা দু'জনেই ওর হাত থেকে বই খাতা কেড়ে নিয়ে বলল, বাবা তোর হাতে পায়ে ধরে বলছি তুই আজ থেকে লেখাপড়া করতে পারবিনা। পাঁচু বলল, পড়াশোনা করতে ভাললাগে একটা বন্ধ করলে আমি কি করব। বাবা বললেন, আজ থেকে চালভাজা চাবারি আর মাঠে বন্ধুদের সাথে দৌড় ঝাঁপ দিয়ে বেড়াবি। পাঁচু তো মনে মনে এটাই চাচ্ছিল। পরদিন থেকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে ওর দিন আনন্দে কাটতে লাগলো। এতদিন পর পাঁচুর মনের আশা মিটে গেল।


--------------------সমাপ্ত, ---------------------------

জনাব,আপনার কাছে আর্টিক্যাল গুলো সামান্য ভালো লাগলে মন্তব্য এবং শেয়ার করে আমাকে উৎসাহিত করবেন। যাতে আমি আগামীতে পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী আরো সুন্দর কিছু আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারি।


কোন মন্তব্য নেই

  [ছেলোদের পরীক্ষা হবে কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের ২য় তলায়, তারিখ- ৯ই ডিসেম্বর সকাল ৯টা এবং মেয়েদের পরীক্ষা মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ এর প...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.