Header Ads

Header ADS

ব্যাঙের ছাতা



 ব্যাঙের ছাতা

আমার ছাতা দাও? জুলেখা মার কাছে শুয়ে আছে। আঁধার রাত সে ঘুমে অচেতন। আঁধার ঘরের কোণে কে যেন ডাকে। আমার ছাতা দাও? জুলেখার ঘুম ভাঙে না। মার কোল ঘেষে সে আরো ঘুমায়। আবার ডাক শোনা যায়। আমার ছাতা দাও? আমার ছাতা কেন তুমি কেড়ে নিলে, বাহিরে ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। শ্রাবণ মাসের রাত। জুলেখার ঘুম ভাঙার কথা নয়। খুব ভোরে তার ঘুম ভাঙে। তারপর সে গোলা বাড়ির দিকে যায়। শিউল তলায় ফুল কুড়ায়। সাত বছরের খুকির ঘুমকি এতরাতে ভাঙে। আমার ছাতা দাও এমন দুষ্টুমি করোনা। আমিতো তোমার কিছুই ক্ষতি করিনি। ছাতাটা ফেলে ফড়িং ধরতে গেছিলাম। তুমি কেন আমার ছাতা আনলে। আঁধার থম থম করে। ঝেপে বৃষ্টি ঝরে। বাইরে গাছ পালার শব্দ হয়। বাহিরে মাচাঙে বৃষ্টি ঝরার শব্দ। এতরাতে কেউ জেগে নেই। জুলেখার জেগে থাকার কথা নয়। আমার ছাতা দাও। এত ঝড় বাদলের রাত, আমি কেমন করে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবো। আমাকে দেখে কি তোমার দয়া হয় না। গুরু গুরু মেঘ ডাকে। বিজলীর আলোয় জুলেখার মুখ আরো সুন্দর দেখায়। চোখের পাতা আর খোলা নয়। কালো ফুলের পাপড়ীর মত চোখের পাতার ছায়া চারদিকে।


জুলেখার ঘুম ভাঙে না। -আমার ছাতা দাও। তুমি মায়ের কোলে ঘুমাও। আমি ছাতার কোলে ঘুমোই।। আমার মা নেই। তবু জুলেখার মনে হলো সে যেন গোলাবাড়ী ছেড়ে অনেক দূরে এসেছে। তার ভয় লাগে। পুকুর পাড়ের পাশে বৃষ্টির পানি ঝির ঝির শব্দে বয়ে চলেছে। সে তো তারই উপর খেলা করছিল। হঠাৎ আওয়াজ শোনা গেল। জুলেখা চেয়ে দেখে দুটো বড় ব্যাঙ তার দুপাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ভয় পায় জুলেখা। তবে সাহস তার আছে। তোমরা কি চাও? ব্যাঙ দুটো বলে, আমাদের রাজা তোমার সঙ্গে দেখা করতে চান। আমরা রাজার দূত। -না আমি যাবো না। দূত বড় বড় চোখ করে বলে- না গেলে তোমায় ধরে নিয়ে যাবো। একটা দূত ব্যাঙ ঘ্যাং শব্দ করলো। চোখের পলকে অনেক ব্যাঙ এসে জড়ো হলো জুলেখার চারপাশে। নানা রঙের ব্যাঙ। কোলা, আড়া, কটকটে, খদী আরো কত রকমের ব্যাঙ। তার চারদিকে গোল হয়ে তারা দাঁড়ায়। এবার তবে চালো। জুলেখা ভয় পায়। তবু জবাব দিতে ভোলে না বেশ চলো। তারা জুলেখাকে ঘিরে এগিয়ে চলে। জুলেখার ভয় কেটে গেছে। বেশ মজা লাগে তার। ব্যাঙের রাজার ডাক পড়েছে। দেশটায় রাজা আছে তবে। চারদিকে ব্যাঙের পাহারা। জুলেখার পায়ে জুতো নেই। তাই ঠান্ডা লাগে। পরণে শুধু একটা রঙিন ফ্রক। পানা পুকুরের ধারের ঠান্ডা তাই ঠাণ্ডা বেশি। হঠাৎ হট্টগোল কানে এলো জুলেখার।


পাঠশালার পড়ুয়ারা যেন নামতা পড়ছে সুর করে। আঁধারে ভয় লাগে। জুলেখার মনে হয় কে যেন চিৎকার করছে।


ব্যাঙের রাজার কাচারী, ঠ্যাং ধরে আছাড়ি।


কাদো কাদোঁ জুলেখা। তাকে আছড়ে মেরে ফেলবে নাকি ব্যাঙের রাজা। পা আর চলে না। দূত জিজ্ঞেস করে, খুকি হাঁটতে পারছো না। না। ঐ গোলমাল। না না গোলমাল নয়। সব ব্যাঙ তখন একসঙ্গে কোরাস গান ধরে। ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ, ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ, কোলা ব্যাঙের পাঠশালা। পানা পুকরের ধারে হাঁটছো। সর্দি তোমার কাশছো। ফেলাে পা তালে তালে, একটু খানি গোলমালে জরিমানা কানমলা। ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ, ঘাড ঘ্যাঙ। কোলা ব্যাঙের পাঠশালা। জুলেখা তালে তালে পা ফেলে যায়। কানমলা খেতে সে রাজী নয়। পানা পুকরের ধারে জুলেখা দেখে জোনাকি পোকা জ্বলছে। পানার উপর বসে অনেক ব্যাঙ। একটা ফটকি

ব্যাঙের কাতরানি তার কানে এলো। জুলেখা জিজ্ঞেস করে ব্যাঙ ছানা কাঁপছে কেন? দূত সুর করে বলে- চারদিকে কাঁদে ফটকির ছানা, সাহেবদের কগোত্তা মাথা ছিলনা তার জানা। জুলেখার দুঃখ হয়। এখানে পাঠশালাতেও এমন সাজা। সব পাঠশালাই সমান। ব্যাঙ রাজার দূত আবার সুর করে বলে-


কটকটি ব্যাঙ নীল ডাউন


কেন মেম সাহেবরা পরে গাউন।


কেন ওস্তাদজী সুর ভাজতে করে তা না না না


গন্ডারের ক গন্ডা লেজ ছিলনা তার জানা।


দূত গান থেমে বলে ঐ পাঠশালার পন্ডিত। জুলেখা চেয়ে দেখে বনের উপর একটা বড় কোলা ব্যাঙ।


তখনই ব্যাঙ রাজজা হেলে দুলে বলে-


কচুরি পানা যেখানে ছড়ানো,


তাতে হেলান দিয়ে ছাত্র পড়ানো।


হাইতুলে এদিক ওদিক গড়ানো মুখে আলবোলা- ধমক চলছে মাঝে মাঝে শুরু মধ্যায়ের চোখ খোলা।


জুলেখা সেদিকে তাকায় না। শুরু মধ্যায়ের নামে তার বুক কাঁপে। আর মক্তবের ওস্তাদজীর নাম পিলে হজম। পানা পুকুরের ধারে-জোনাকি জ্বলছিল। ব্যাঙ পড়ুয়াদের গোলমাল ভালো লাগে না। আর একটু এগিয়ে যেতে ঘুটঘুটে আঁধারের পথ। ব্যাঙের রাজার দূত শুধু বলে এগিয়ে চলো, এগিয়ে চলো সামনে। জুলেখা তার কথামত ভয়ে ভয়ে পা ফেলে। অনেক দূর এগিয়ে এসে হঠাৎ অবাক হলো। চারদিকে আলো জ্বলছে। এক জায়গায় হাজার হাজার ব্যাঙ। সবার মাথায় মানিক জ্বলছে। একদিকে একটু উঁচু কালো পাহাড়ের উপর বসে আছে ব্যাঙের রাণী। তার চারপাশের জাকজমক দেখলে বোঝা যায় দূত জুলেখাকে রাণীর সামনে হাজীর করে বললো। মহারাণী এই সেই মেয়ে। আমাদের ছাতা চুরি করেছে। বর্ষার দিনে। ভিজে ভিজে কত কষ্ট পাচ্ছি আমরা। ব্যাঙের রাণী জুলেখার দিকে চেয়ে বলে 'খুকি তুমি কেন ছাতা চুরি করেছ? জুখেলা ঘাবড়ে গেল। তবুও সহজে দমে যাওয়ার মেয়ে সে নয়। আমি ছাতা চুরি করিনি। আমি খেলা করতে নিয়ে গেছিলাম। রাণী বলে তোমার কি ছাতা নেই? হ্যাঁ আমার রঙিন ছাতা আছে। তবে কেন অপরের ছাতা নিলে? তোমার ছাতা না থাকলে জলে ভিজে অসুখ হতে পারে। অপরের যে সেরূপ কষ্ট হতে পারে, তা কি তুমি ভেবে দেখনি।”


আমার মনে ছিল না। রাণী এবার গম্ভীর হয়ে বলে, বেশ তবে তোমার ছাতা এদের দিয়ে দাও। জুলেখা জবাব দিল না। তার রঙিন ছাতাটা ব্যাঙের দূত হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল। জুলেখা এতক্ষণ। চুপচাপ ছিল। শেষে সে কাঁদো কাদো সুরে বলে, আমার বাবা বকবেন? না আমার ছাতা ফেরত দাও। সে চেয়ে দেখে কতগুলো ব্যাঙ তার ছাতা মাথায় দিয়ে চলে যাচ্ছে। জুলেখা তখন চিৎকার করে কাঁদে। না রাণী মা আমার ছাতা দাও। আমার ছাতা দাও। আমি আর পরের জিনিসে হাত দিব না। জুলেখার বালিশ চোখের পানিতে ভিজে যায়। তার ঘুম ভেঙ্গে যায়।


তখনও বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল হয়ে গেছে। ভোরের আলো ঘরে লুটোপুটি খাচ্ছে। জুলেখা ঘরের কোণ থেকে একগাদা ব্যাঙের ছাতা হাতে গোলবাড়ির পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। শিউলী গাছের ফুলে তলাটা সাদা হয়ে গেছে। আশে পাশে ব্যাঙের অনেক ছাতা। গোণা যায় না। সে একে একে ছাতা গুলো মাটির উপর বসিয়ে দিল। একটি ছোট্ট ব্যাঙ তার পাশে দিয়ে লাফিয়ে গেল কুড় কুড় শব্দ করে। জুলেখা বলে- তোমাদের ছাতা তো ফেরত দিয়েছি। আবার কেন আমার কাছে। জুলেখা শিউলী তলায় ফুল কুড়াতে মন দিল। আজ মনটা তার ভালো নেই। ব্যাঙের ছাতা সে আর কোন দিনই চুরি করবে না।

জনাব আমার লেখা গুলো যদি আপনার কাছে ভালো লাগে তাহলে মন্তব্য এবং শেয়ার করুন যাতে আমি আগামী তে আরো নতুন কিছু নিয়ে আসতে পারি। 

কোন মন্তব্য নেই

  [ছেলোদের পরীক্ষা হবে কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদের ২য় তলায়, তারিখ- ৯ই ডিসেম্বর সকাল ৯টা এবং মেয়েদের পরীক্ষা মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ এর প...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.