ম্যাজিকের রহস্য ৪,খন্ড বিখন্ড
খন্ড বিখন্ড
খন্ড বিখন্ড খেলাটি আমাদের দেশীয় প্রাচীন খেলাগুলির অন্যতম । এই খেলা দড়ি কাটার খেলা নামে পরিচিত। আধুনিক জাদুকরেরা পাশ্চাত্য প্রণালীতেই এই খেলা দেখিয়ে থাকেন। বস্তুতঃ অসংখ্য রকমের দড়ি কাটার খেলা বর্তমানে জাদুকর মহলে প্রচলিত আছে। বর্তমান খেলাটির মূল কৌশল পুরনো হলেও প্রদর্শন প্রণালী আমার নিজের ।
সংঘটন: জাদুকর ৪ ফুট পরিমিত একগাছা স্বাভাবিক স্থূল আকারের দড়ি দর্শকদের দিয়ে পরীক্ষা করালেন এবং ধারালো কাঁচি বা ছুড়ি দিয়ে ঠিক মধ্য স্থানটি কোন দর্শককে দিয়ে কাটালেন। জাদুকর এবার কাটা অংশ দু'টিকে একসাথে গেঁড়ো বেঁধে দিয়ে জাদুদণ্ড ছোঁয়াতেই গেঁড়োটি অদৃশ্যহয়ে দড়িটি বেমালুম জোড়া লেগে গেল । এই অবাক করা কান্ড দেখে দর্শকবৃন্দ ত অবাক।
কর্তব্যঃ খন্ড বিখন্ড খেলাটি প্রস্তুতিবিহীন খেলার শ্রেণীভুক্ত (Impromptu Conjuring)। তাই এতে প্রস্তুতির বিশেষ কিছু নেই। প্রথমে দড়িটির বিভিন্ন স্থানে ১৬ নং চিত্রের মত চিহ্ন যুক্ত করুন । এবার দড়ির মধ্যস্থান 'গ'বাম হাতের বুড়ো আঙ্গুল ও তর্জনী দিয়ে ধরে ঝুলিয়ে ধরুন যেন 'ক' ও 'খ' একই সমান উঁচুতে থাকে । এখন ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলী ও তর্জনী দিয়ে দড়ির 'ঘ' স্থানে ধরুন এবং '৫' স্থানের সাথে মধ্যমা আঙ্গুলে চেপে ধরুন। বাম হাত 'গ' স্থান থেকে ২”
ইঞ্চি বামে সরিয়ে ধরুন। এই অবস্থায় জাদুকরের পিছন থেকে দেখলে ১৭ নং চিত্রের মত দেখাবে। একজন দর্শককে বলুন- " আপনাদের কেউ আমাকে যদি সাহায্য করেন--” কেউ এলে বলতে হবে আপনি যদি দড়িটির ঠিক মাঝ বরাবর কেটে দিতে পারেন, তবে আমি আমার জাদুর প্রভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি কাটা স্থানটি জুড়ে দিতে । তবে একটি কথা এই ঠিক মাঝখানটা না কাটতে পারলে হয়তো নাও জোড়াতে পারি । সুতরাং আপনাদের মধ্যে কেউ যদি ডাক্তার থাকেন ( বা হতে চান) তাহলে ভালো হয়। কেননা সাৰ্থক অস্ত্রোপচারে তাঁরাই সিদ্ধ হস্ত। আমার এই দড়িটির জীবন মরণ নির্ভল করছে শুধু নির্ভুল অস্ত্রোপচারের উপর।” কোন দর্শক এলে কাঁচিটি হাতে নিতে বলুন । (দর্শক কাটতে পারেন কিনা তা পরীক্ষা করতে প্রথমেই দড়িটির দু-প্রান্ত একত্র করে সামান্য অংশ কেটে দিতে বলুন । এতে এবড়ো থেবড়ো প্রান্ড দু'টি সমান হবে (যার প্রয়োজনীয়তা আছে) । তারপর আগের বর্ণনামত দড়ি দু'হাতে ধরে 'গ' স্থানের নীচে কাঁচি ধরতে বলুন এবং দড়ির প্রান্ড দু'টি ছেড়ে দিন । এতে দড়িটি ‘দু' ভাঁজ হয়ে কাঁচির দু' পাশে ঝুলে থাকবে । দড়িটির ঠিক মধ্যস্থানই কাটা হবে-যদি ঐ স্থানে দর্শক কাটেন । আবার দড়ি ধরতে ১৭ নং চিত্রের মত ধরেই হাতের উপর-নীচে ঝট্কা দিয়ে বাম হাতে ধরা অংশ ছেড়ে দিয়ে ১৮ নং চিত্রের মত ডান হাতের 'চ' স্থানের নীচের অংশ বাম
হাতে তুলে নিতে হবে। এবার দু-হাত দর্শকের দিকে এগিয়ে দিয়ে 'চ' স্থানটি কেটে দিতে বলুন । ( দর্শকদের ধারনায় ঐ টিই পূর্বের 'গ' স্থান এবং মধ্যস্থান-এই কাজটি হস্ত কৌশল) । কাটার পূর্বে দড়ির অবস্থান ঠিক ১৮ নং চিত্রের মত হবে । বুঝবার সুবিধার জন্য হাতের ছবি বাদ দেয়া হয়েছে । কাটা হলেই বাম হাত ছেড়ে দিয়ে ডান হাতে সাবধানে 'ঘ' এবং 'ঙ' স্থান ১৯ নং চিত্রের মত ধরতে হবে । এখন 'ক চ’ অংশটি দিয়ে দড়িটির ঙ স্থানে একটি গেঁড়ো বাঁধতে হবে ( উভয় হাতে ) এবং দেখাতে হবে যে ঐ স্থানটি কাটা হয়েছে । গেঁড়োটি ডানহাতে নিয়ে দড়িটি ১৬ নং চিত্রের মত দু-প্রান্ত ঝুলিয়ে পরীক্ষা
করুন। যদি প্রান্ত দুটি একই উচ্চতায় না থাকে তবে দর্শককে তামাসাচ্ছলে বলুন- আপনি ডাক্তার তো?” আচ্ছা আপনি আমাকে কাটতে সাহায্য করেছেন- আমি আপনাকে এবার জুড়ে দিতে সাহায্য করব।”
এবারে দড়িটিকে বাম হাতের চার আঙ্গুলে জড়াতে হবে । এই কাজ করার সময় ডান হাতে গেঁড়োসহ কাটা অংশটি থেকে যাবে এবং জাদুদণ্ড বা কাঁচি আনতে বা রাখতে গিয়ে পকেটে ফেলে দিন। গুটানো দড়িটির বাইরের প্রান্ত দর্শকের হাতে দিয়ে আস্তে আস্তে পেঁচ খুললে দড়িটি জুড়ে গেছে দেখে সবাই অবাক হবে ।







কোন মন্তব্য নেই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন